Share |

ক্ষমতায় ফিরতে প্রস্তুত লেবার

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১ অক্টোবর : দেশের হাল ধরার জন্য প্রস্তুত লেবার পার্টি। ব্রেক্সিট চুক্তি সম্পাদনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল ব্যর্থ হলে দ্রুত জাতীয় নির্বাচন চাইবে দলটি। ক্ষমতায় ফিরে দেশের হাল ধরবে। গত মঙ্গলবার লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনের শেষ দিনে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন এসব কথা বলেন।  
জেরেমি করবিন বলেন, ব্রেক্সিট বিষয়ে ক্ষতিকর কোনো চুক্তি মেনে নেবে না তাঁর দল। তিনি বলেন, ব্রেক্সিট চুক্তি সম্পাদিত না হলে অথবা কোনো ক্ষতিকর চুক্তি যদি করা হয়, তবে লেবার পার্টি নতুন জাতীয় নির্বাচন চাইবে। সেই নির্বাচনে লেবার পার্টি বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে মন্তব্য করে করবিন বলেন, তাঁর দল ব্রেক্সিট বিষয়ে নতুন করে সমঝোতার চেষ্টা করবে।  
গত ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর লিভারপুল শহরে লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনকে জেরেমি করবিনের সবচেয়ে সফল সম্মেলন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় ১৩ হাজার লোক সম্মেলনে অংশ নেয়। এই সম্মেলনে বিভিন্ন ইস্যুতে দলীয় নীতি নির্ধারণ করেন দলের সদস্যরা।  এবার সম্মেলনে ফিলিস্তিনের পক্ষে  সোচ্চার অবস্থান নিয়েছেন লেবার পার্টির তৃণমূল সদস্যরা। ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সৌৗাগানে মুখরিত হয়েছে সম্মেলনস্থল, উড়েছে ফিলিস্তিনি পতাকা। দলের পক্ষ থেকে আনা এক ঐতিহাসিক প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিদের বলপূর্বক উচ্ছেদ ও ইতিহাস বিকৃতির নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাজার অবরোধ প্রত্যাহার ও সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ফিলিস্তিনিদের নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়। ঐতিহাসিক ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক সম্মেলনে আলোচ্যসূচির শীর্ষ চারটি বিষয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায় ফিলিস্তিন। হাউজিং, স্কুল ব্যবস্থা ও উইন্ডরাশ প্রজন্মের সুবিচার সংক্রান্ত প্রসঙ্গের পর ফিলিস্তিন নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্রেক্সিট ও জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চেয়েও বেশি সমর্থন পায় ফিলিস্তিন ইস্যু। দলের পক্ষ থেকে আনা এ সংক্রান্ত অভাবনীয় এক প্রস্তাবে বলা হয়, নাকবা’র সময় ‘বেশিরভাগ ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে’। প্রস্তাবে ‘ইতিহাসের বিকৃতি ও ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে ভুক্তভোগীদের নিশ্চি? করে ফেলতে আগ্রাসী পদক্ষেপ’ নেওয়ারও নিন্দা জানানো হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকালে নিহতদের মধ্যে সেবিকা, সাংবাদিক, নারী ও শিশু রয়েছে। আর আহতদের অর্ধেকই মারণাস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরায়েলের শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়। এতে ‘অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে গাজা উপত্যকার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া’সহ ‘ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাজ্য সরকারের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রাখা’র কথা বলা হয়। বিতর্কের সময় সবাই যুক্তরাজ্যের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার ব্যাপারে রায় দেন। ৩০ মার্চ থেকে গাজায় ১৮০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার ঘটনা তদন্তেরও আহ্বান জানান তারা।
তৃণমূল কর্মীদের নিরঙ্কুশ সমর্থনে লিভারপুলে দলের বার্ষিক সম্মেলনে প্রস্তাবটি পাস করা হয়।