Share |

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ হারতে পারে না

উনিশ’শ একাত্তর সালের ষোল ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনির আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সুচিত হয়। একাত্তরের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া প্রতিরোধ যুদ্ধ রূপ নেয় জাতির অভ্যুদয়ের মরণপণ যুদ্ধে। নয় মাসব্যাপী এই যুদ্ধে আমাদের ৩০ লক্ষ শহীদানের আত্মত্যাগ ও ৪ লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন দেশ আমরা পেয়েছি। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর প্রায় ৯৩ হাজার পাকহানাদার সৈন্য মুক্তিবাহিনি ও ভারতীয় বাহিনির সমন্বয়ে গঠিত মিত্রবাহিনির নিকট বর্তমান আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বে আমরা গৌরবের  ইতিহাস সৃষ্টি করি।  দেশ হয় শত্রুমুক্ত এবং আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পাই।  
যদি প্রশ্ন করি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কী মূল্যবোধ ছিল, কোন মূল্যবোধ জাতিকে একত্রিত করেছিল? সবাই বলবেন- মূল্যবোধ ছিল-বাক-স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সুশাসন, সমতা, শোষণহীন সমাজ নির্মাণ এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা।  
২০১৮ সাল শেষ হতে চলেছে। স্বাধীনতালাভের ৪৭ বছর পার হয়েছে। দেখা যাচ্ছে-দেশবাসী যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, যে জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন আমাদের পূর্বসূরীরা- তার সেই প্রধান আকাঙক্ষা ও স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লালিত স্বপ্ন ও আকাঙক্ষা চুরমার হয়েছে। নেই গণতন্ত্র, নেই সুশাসন, নেই বাক-স্বাধীনতা, নেই জীবনের নিরাপত্তা- প্রতিষ্ঠিত হয়নি শোষণহীন সমাজ।  এমন অবস্থায়, এমন দিনে- এবারের বিজয়ের মাসে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন থেকে জাতি কি পাচ্ছে- এটাই এখন জাতির সামনে বড় প্রশ্ন। কেননা, জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে, লুটপাট চলছে সর্বত্র, সন্ত্রাসসহ নানা ব্যাধি জাতিকে অস্থির করে তুলেছে। নীতিহীনতা সমাজের সর্বস্তরে প্রশ্রয় পাচ্ছে, চর্চিত হচ্ছে। সমাজে বৈষম্য পাহাড়সমান। এই নির্বাচনে যারা এমপি হবেন, যতটুকু জানি, তারা বেশিরভাগই ব্যবসায়িক রাজনীতিক। এছাড়া প্রতিটি দলে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঘটেছে সীমাহীন পরোক্ষ মনোনয়ন বাণিজ্য। কালোটাকার মালিক ও দুর্নীতিগ্রস্তরা নানা কৌশলে রাজনীতির হাল ধরছে বলে শোনা যাচ্ছে।  কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এভাবে হারতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের মূল শক্তি যেভাবে ছিল আমাদের তরুণপ্রজন্ম- এভাবে, এখনো এই তরুণ প্রজন্মই যে কোনো তমসাকে দূরীভূত করতে আজও জাতির প্রধান ভরসা। এর প্রমাণ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে তাদের জেগে ওঠা, কোটা সংস্কার আন্দোলনে তাদের একাত“ হওয়া এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ‘কিশোর অভ্যুত্থান’ সংঘটিত করা। এতেই তরুণ প্রজন্মের শক্তি কতটুকু তা আঁচ করা কঠিন নয়।  
আমরা নিশ্চিত, এবারও ১৬ ডিসেম্বর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ সারাদেশে স্মৃতির মিনার উপচে পড়বে ফুলে ফুলে। পৃথিবীর দেশে দেশে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা মহান এই দিবসটি পালন করবেন মহা সমারোহে। সেটি অবশ্যই করা উচিৎ। কিন্তু বাঙালির কাছে বিজয় দিবস শুধু উৎসবের পালনের দিবসে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। বরং এটি হোক স্বাধীনতা অক্ষুণœ রাখার শপথেরও দিন। তাই, এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার ও শপথ হউক অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তারুণ্যের সংগ্রাম হউক বিজয়ের মাসে আলোর ফোয়ারা। যে আলো জাতিকে দেবে নতুন দিশা। বদল হউক জাতির ভাগ্য, উদিত হউক নতুন সূর্য।
মহান বিজয় দিবসে আমরা বাঙালীর ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি দেশের বীর যোদ্ধাদের সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জানাই। ব্রিটেনসহ বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাদেশীর প্রতি আমাদের বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা। বাংলাদেশের জন্য, দেশটির সকল নাগরিকের জন্য আমাদের শুভ কামনা নিরন্তর।  মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ হারতে পারে না
উনিশ’শ একাত্তর সালের ষোল ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনির আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সুচিত হয়। একাত্তরের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া প্রতিরোধ যুদ্ধ রূপ নেয় জাতির অভ্যুদয়ের মরণপণ যুদ্ধে। নয় মাসব্যাপী এই যুদ্ধে আমাদের ৩০ লক্ষ শহীদানের আত্মত্যাগ ও ৪ লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন দেশ আমরা পেয়েছি। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর প্রায় ৯৩ হাজার পাকহানাদার সৈন্য মুক্তিবাহিনি ও ভারতীয় বাহিনির সমন্বয়ে গঠিত মিত্রবাহিনির নিকট বর্তমান আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বে আমরা গৌরবের ইতিহাস সৃষ্টি করি। দেশ হয় শত্রুমুক্ত এবং আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পাই।
যদি প্রশ্ন করি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কী মূল্যবোধ ছিল, কোন মূল্যবোধ জাতিকে একত্রিত করেছিল? সবাই বলবেন- মূল্যবোধ ছিল-বাক-স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সুশাসন, সমতা, শোষণহীন সমাজ নির্মাণ এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা।
২০১৮ সাল শেষ হতে চলেছে। স্বাধীনতালাভের ৪৭ বছর পার হয়েছে। দেখা যাচ্ছে-দেশবাসী যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, যে জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন আমাদের পূর্বসূরীরা- তার সেই প্রধান আকাঙক্ষা ও স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লালিত স্বপ্ন ও আকাঙক্ষা চুরমার হয়েছে। নেই গণতন্ত্র, নেই সুশাসন, নেই বাক-স্বাধীনতা, নেই জীবনের নিরাপত্তা- প্রতিষ্ঠিত হয়নি শোষণহীন সমাজ। এমন অবস্থায়, এমন দিনে- এবারের বিজয়ের মাসে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন থেকে জাতি কি পাচ্ছে- এটাই এখন জাতির সামনে বড় প্রশ্ন। কেননা, জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে, লুটপাট চলছে সর্বত্র, সন্ত্রাসসহ নানা ব্যাধি জাতিকে অস্থির করে তুলেছে। নীতিহীনতা সমাজের সর্বস্তরে প্রশ্রয় পাচ্ছে, চর্চিত হচ্ছে। সমাজে বৈষম্য পাহাড়সমান। এই নির্বাচনে যারা এমপি হবেন, যতটুকু জানি, তারা বেশিরভাগই ব্যবসায়িক রাজনীতিক। এছাড়া প্রতিটি দলে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঘটেছে সীমাহীন পরোক্ষ মনোনয়ন বাণিজ্য। কালোটাকার মালিক ও দুর্নীতিগ্রস্তরা নানা কৌশলে রাজনীতির হাল ধরছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এভাবে হারতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের মূল শক্তি যেভাবে ছিল আমাদের তরুণপ্রজন্ম- এভাবে, এখনো এই তরুণ প্রজন্মই যে কোনো তমসাকে দূরীভূত করতে আজও জাতির প্রধান ভরসা। এর প্রমাণ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে তাদের জেগে ওঠা, কোটা সংস্কার আন্দোলনে তাদের একাতু হওয়া এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ‘কিশোর অভ্যুত্থান’ সংঘটিত করা। এতেই তরুণ প্রজন্মের শক্তি কতটুকু তা আঁচ করা কঠিন নয়।
আমরা নিশ্চিত, এবারও ১৬ ডিসেম্বর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ সারাদেশে স্মৃতির মিনার উপচে পড়বে ফুলে ফুলে। পৃথিবীর দেশে দেশে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা মহান এই দিবসটি পালন করবেন মহা সমারোহে। সেটি অবশ্যই করা উচিৎ। কিন্তু বাঙালির কাছে বিজয় দিবস শুধু উৎসবের পালনের দিবসে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। বরং এটি হোক স্বাধীনতা অক্ষুণœ রাখার শপথেরও দিন। তাই, এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার ও শপথ হউক অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তারুণ্যের সংগ্রাম হউক বিজয়ের মাসে আলোর ফোয়ারা। যে আলো জাতিকে দেবে নতুন দিশা। বদল হউক জাতির ভাগ্য, উদিত হউক নতুন সূর্য।
মহান বিজয় দিবসে আমরা বাঙালীর ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি দেশের বীর যোদ্ধাদের সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জানাই। ব্রিটেনসহ বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাদেশীর প্রতি আমাদের বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা। বাংলাদেশের জন্য, দেশটির সকল নাগরিকের জন্য আমাদের শুভ কামনা নিরন্তর।