Share |

নতুন বছরে নতুন সরকারের কাছে নতুন প্রত্যাশা

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত তুমুল আলোচিত-সমালোচিত নির্বাচনে ২৮৮ আসন নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায়?ফিরেছে আওয়ামীলীগ। ৪৬ সদস্যের নতুন মন্ত্রী পরিষদও শপথ নিয়েছে ৬ জানুয়ারি। নির্বাচন আয়োজনের স্বচ্ছতা নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা কড়া সমালোচনা এবং?প্রশ্ন থাকলেও সরকার গঠনে আওয়ামী লীগ বড় ধরনের বাধা বা সংকটে পড়েনি। তবে বর্তমানের আপাত শান্ত পরিবেশ বজায় থাকবে সেই প্রশ্নটিই এখন নানাভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। কেননা, একটি নির্বাচনকে স্বচ্ছতাদান ছিল মহাজোট সরকারের অঙ্গীকার এবং দায়িত্ব। অনেকের মতে, সে জায়গাটি কলুষিত করে এবার বিরোধীদলসমূহকে কোণঠাসা করে নির্বাচনের ফলাফল একচেটিয়াভাবে নিজেদের অনুকুলে নিয়ে আসার নজীর সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের এমন আয়োজন ও এর ফলাফলে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ স্পষ্ট। এই অবস্থায়, বিশেষভাবে বিরোধীদল বিহীন সংসদ বা সরকার কতদিন এবং?কিভাবে পরিচালিত হবে কিংবা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা অথবা বজায় থাকবে কতদিন- এই প্রশ্ন জনমনে থাকবেই।
আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে দুর্নীতির ব্যাপারে ‘জিরা টলারেন্স’ ঘোষণা করেছিলো এবং সেই সঙ্গে ছিলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। গত দশ বছর মহাজোট সরকারের ক্ষমতাকালে আর্থিকখাতে সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতি সংঘটনের খবর দেশবাসী জানে- যেসবের সন্তোষজনক প্রতিকার হয়নি। এমনকি খুন, গুম এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ রাজনৈতিক কারণে প্রতিপক্ষকে হয়রানি, জেল-জুলুমকে নিত্যকার ঘটনা হিসেবেই দেখেছে দেশবাসী।  
সেই অবস্থায় মহাজোটের মহাবিজয় এবং আওয়ামীলীগের নতুন সরকার গঠন সর্বোপরি তাদের অঙ্গীকারসমূহের ওপর জনগণ কতটুকু ভরসা করবে বা করতে পারবে সে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।  
গত দুই মেয়াদে মহাজোট সরকারের বহু সাফল্যকে মৗান করছে নানা অন্যায়-অসঙ্গতি বিশেষ করে দুর্নীতি। বর্তমান সরকারের কাছে মানুষ বা দেশবাসী দেখতে চায় দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত দেশ। হত্যা, গুম, খুন দেখতে চায় না। দেখতে চায়- সমতাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।  অনেকেরই আশংকা, বিরোধীদল বিহীন পার্লামেন্টারি ব্যবস্থায়?একটি দলের একচ্ছত্র ক্ষমতা তাদেরকে স্বৈরাচারী আচরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে।  এমন হলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার দল, সরকার এবং দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।  
তবে এই আশঙ্কা মিথ্যা হোক - এটাও প্রত্যাশা।