Share |

বিমানে অনাকাঙিক্ষত কাণ্ড কাম্য নয়

বিমানের সাম্প্রতিক একটি ফ্লাইটে বেসামাল এক যাত্রীকে নিয়ে ঘটে যাওয়া লঙ্কাকাণ্ড নিয়ে?নানামুখী আলোচনা এখনো চলছে। বাংলাদেশ বিমানের বিজি ২০২ ফ্লাইটটি গত ৪ জানুয়ারি লন্ডন থেকে যাত্রী বোঝাই হয়ে রওনা দিয়েছিলো সিলেটের উদ্দেশ্যে। সেই ফ্লাইটে যাত্রীদের একজনকে ঘিরেই তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। তার আসন নাম্বার ছিলো ৪২ডি।
 বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, ওই যাত্রী বিমানে উঠেছিলেন ঠিকমতই। কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সিলেটে এসে তার বাড়ি যাওয়া হয়নি। কারণ, বাড়ির বদলে তাকে যেতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর হেফাজতে। আর এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফেইসবুকে রীতিমত ভাইরাল হয়ে গেছে বিমানে ওই যাত্রীর কাণ্ড।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানকর্মীরা এই যাত্রীকে রশি দিয়ে সিটের সাথে বেঁধে রাখছেন। এটি দৃষ্টিকটু শুধু নয়, অমানবিকও। বিমানকর্মীদের মতে- তার অপরাধ, তিনি মদ্যপান করে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন, যা ছিল সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিব্রতকর, এমনকি হুমকিস্বরূপও।  এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়- আকাশে উড্ডীন অবস্থায় কোন অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক ব্যবস্থা বিমান কর্তৃপক্ষের থাকা প্রত্যাশিত। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? ফেসবুকের কল্যাণে হাজার হাজার মানুষ অবলোকন করলো এক আদিম আচরণ প্রক্রিয়া। কোন যাত্রীর প্রতি বিমান কর্তৃপক্ষের অশালীন এবং?রূঢ় আচরণ শুধু অন্যযাত্রীর জন্য বিব্রতকর নয় বরং?এটি বিমান কর্তৃপক্ষের সেবার মান এবং?ভাবমূর্তিকে গুরুতর প্রশ্নের সম্মুখীন করে। 
আমরা জানি, বিমান একটি সেবামূলক পরিবহন ব্যবস্থা। যেটির নিয়ন্ত্রণ খোদ সরকারের হাতে। এই অর্থে যে কোন অনাকাঙিক্ষত আচরণের দায় সরকারের ঘাড়েও এসে পড়ে।
বাংলাদেশে সবেমাত্র নতুন সরকার এসেছে। এই সময়টিতে বিমান কর্তৃপক্ষ এমন জ্বলন্ত একটি নজির সৃষ্টি করলো, যা বিমানের সেবা নিতে আগ্রহী যাত্রীদের বিমুখ করতে পারে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, ‘ঘটনাটি যেভাবে সামাল দেয়া হয়েছে তাতে পেশাদারিত্বের যথেষ্ট অভাব ছিলো।’ 
জানা গেছে, এখন থেকে বিমানে হ্যাণ্ডকাফ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতদিন বিমানে হ্যান্ডকাফ রাখা হতো না। কিন্তু এখন থেকে রাখা হবে, যাতে করে এ ধরণের ঘটনা  শোভনভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা যায়।
তবে এ ব্যবস্থার অপব্যবহারও আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। যে কোন অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অন্য কোন শোভন ব্যবস্থা রাখা বা যাত্রীর প্রতি সদব্যবহার কাম্য হওয়া স্বাভাবিক। ব্যবসায়িক সুনামের রক্ষার কৌশল হিসেবেও শোভন আচরণ কাঙিক্ষত। 
আমরা মনে করি, উল্লেখিত ঘটনায় বিমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বর্তমানে মিডিয়ার বৈশ্বয়িক পরিবর্তন এতোই জনবান্ধব হয়েছে, কোন ঘটনা ঘটিয়ে কেউ গোপন করতে পারে না, দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে।
বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের আচরণকে জায়েজ করতে গিয়ে উল্লেখিত বিমান যাত্রীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। এটা আচরণও যাত্রীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের কারণ হতে পারে। 
আমরা বিমান কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, বিমানের যাত্রী বেশির প্রবাসী বাঙালি। এদের অবমূল্যায়ন দেশের জন্য শুভ নয়। সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে যাত্রীকে সম্মান জানানো প্রয়োজন। কারণ, যাত্রীর সম্মানও রক্ষায় সচেষ্ট থাকাও বিমান কর্তৃপক্ষের উন্নত সেবার অংশ।