Share |

ফিলিস্তিনিদের সব সহযোগিতা বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্র

লন্ডন, ৪ ফেব্রুয়ারি : ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবিরোধী নতুন একটি আইনের আওতায় এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা সেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৬০ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হলো। এর আগে ফিলিস্তিনিদের আরও কয়েকটি তহবিল বাতিলের ঘটনাকে সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল। সহযোগিতা বন্ধের ঘটনায় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কারণে পশ্চিম তীর অনেক শান্ত থাকলেও এখন থেকে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
গত বছর কংগ্রেসে পাস হওয়া অ্যান্টি-টেরোরিজম ক্লারিফিকেশন অ্যাক্ট বা এটিসিএ বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর করেছেন। সম্প্রতি তা কার্যকর শুরু হয়েছে। এই আইনের ফলে মার্কিন নাগরিকরা তাদের সহযোগিতা পাওয়া কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার অভিযোগে মামলা দায়ের করতে পারে।
৩১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সিনিয়র কর্মকর্তা সায়েব এরেকাত জানান, তারা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই আর্থিক সহযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মামলার আতঙ্কে। তিনি বলেন, সহযোগিতা গ্রহণের ফলে যদি আমাদের আদালতে যেতে হয় তাহলে ওই অর্থ আমরা চাই না।
তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জঙ্গি হামলায় মদত দেওয়ার ইসরায়েলি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, মার্কিন সহযোগিতা বন্ধে বড় ধরনের ঘাটতি হলেও এতে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তাবাহিনীর কাজে ব্যঘাত ঘটাবে না। ১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপেক্ষর অনুরোধে আমরা এটিসিএ’র আওতায় পশ্চিম তীর ও গাজায় বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায় ও সহযোগিতা বন্ধ করেছি। পশ্চিম তীর ও গাজায় ইউএসএআইডি’র সব ধরনের সহযোগিতা বাতিল করা হয়েছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কতদিন এই সহযোগিতা বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে তা স্পষ্ট নয়। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইউএসএআইডি’র কার্যালয় বন্ধের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।  গত বছর ফিলিস্তিনিদের দেওয়া কয়েকশ মিলিয়ন সহযোগিতা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলোর অনেক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত অনেক মানবিক প্রকল্পে অর্থায়ন ছিল।এই সহযোগিতা বাতিলকে ট্রাম্পের পরিকল্পিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তিচুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য মার্কিন চাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থাতেও অর্থায়ন বাতিল করেছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থায় ৩৫০ মিলিয়নের বেশি সহযোগতা দিয়েছিল। সম্প্রতি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কিন সরকারের বৃত্তিও বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে নিযুক্ত কয়েকশ ফিলিস্তিনি ও বিদেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।