Share |

কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিস : ফাণ্ড কাটের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি

লন্ডন, ৪ ফেব্রুয়ারি : পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে ১৯৮২ সাল থেকে কাউন্সিলের অর্থায়নে শিশুদের মাতৃভাষা শেখানো হতো। বাংলা, চাইনিজ, মেরিডিয়ান, রাশিয়ান, লিথুনিয়া, আরবি এবং সোমালিয়ানসজ বিভিন্ন ভাষাভাষী পরিবার কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিসের সুবিধা নিয়ে শিশুদের মাতৃভাষা শেখাতেন। বিশেষ করে সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত বাংলা ভাষা পড়ানোর সুযোগ ছিলো। ইতিমধ্যে শত শত শিক্ষার্থী জিসিএসই ও এ- লেভেল পরিক্ষায় অতিরিক্ত ভাষা হিসেবে বাংলা নিয়ে ভালো ফলাফল করেছে বহু শিক্ষার্থী।  
গত ৩৬ বছর ধরে চলে আসা সেই সেবা বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্সিল। অন্যান্য ভাষাভাষীর পাশাপাশি এতে মাতৃভাষা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে হাজার হাজার বাংলাভাষী শিক্ষার্থী। বাজেট কাটের নামে ইতিমধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ সার্ভিস বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এ ব্যাপারে ফুল কাউন্সিল মিটিংয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা। কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিউনিটির মানুষ।
গত ১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ কাউন্সিলকে এই বাজেট কাটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহবান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে টাওয়ার হ্যামলেটসের বিএমই সংগঠনগুলোকে নিয়ে ‘কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ’ এর বাজেট কর্তনের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  
এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ আবু হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল বাসেত চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র গোলাম মোর্তজা। সভায় উপস্থিত থেকে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেন টাওয়ার হামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস।
কিন্তু তার বক্তব্যে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোন আশ্বাস দেননি। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, বিষয়টি খুবই জটিল। কাউন্সিল অবশ্যই কমিউনিটির মানুষের আহবান বিবেচনা করবে। এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি।
সভার শুরুতে সভাপতি মোঃ আবু হোসেন আসন্ন টাওয়ার হ্যামলেটসের কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বাজেট কর্তনের বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা করে বলেন। তিনি বলেন এই কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজে বাংলা, আরবি, স্পেনিশ, ম্যান্ডারিন, ক্যান্টনীস, উর্দু সহ ১০ টি ল্যাংগুয়েজ পড়ানো হয়ে থাকে।
কিন্তু রি মডেলিং এর নামে আগামী দুই বছরের মাথায় কমিউনিটি ল্যাংগুয়েজ এর সমস্ত বাজেট কর্তন করে সার্ভিস বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ।
এই সার্ভিস বন্ধ হলে প্রায় দুই হাজার ছেলে মেয়েরা তাদের মাতৃভাষা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে এবং প্রায় ৯০ জন শিক্ষক চাকুরিচ্যুত হবেন। সর্বোপরি প্রায় বেয়াল্লিশটি সংগঠন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমস্ত সংগঠনগুলো নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অস্থিত্ব রক্ষায় এক হয়ে কাজ করে যাচ্ছিল।  
সভায় বক্তারা কমিউনিটির সকলকে দল-মত নির্বিশেষে এক হয়ে কাউন্সিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাজ করে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কাউন্সিলরদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, তারা যেন এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সায় না দেন। বক্তারা বলেন, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে কাউন্সিলরদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের কল্যাণে কাজ করেন।  এছাড়া সমাবেশ থেকে আগামী ২০ ডিসেম্বর বিকেল ৬টায় কাউন্সিল ভবন মালবারি প্লেসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। অধিবেশন চলার সময় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সকলকে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
 সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিল অফ মস্কের প্রধান মাওলানা শামসুল হক, সেন্ট পিটার্স সেন্টারের চেয়ারপারসন আতিক মিয়া, চাইনিজ স্কুলের হেড টিচার ম্যাগি জুই, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ডেভিড, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষক আলেকজান্দ্রা মেকগোয়ায়, আলজেরিয়ান স্কুলের পক্ষে আব্দুর রাজ্জাক খলিল, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট  মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সাপ্তাহিক দেশ-এর সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, দর্পণ সম্পাদক রহমত আলী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কে এম আবু তাহের চৌধুরী, সোমালিয়ান কমিউনিটির পক্ষে মুক্তার আমিন,  আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হেলাল আব্বাস, আব্দুল আছাদ, রাজিব আহমেদ, আনসার মোস্তাকিম, আমিনুর রহমান খান, আতাউর রহমান, রুহুল আমিন, আবজাল মিয়া, মোহাম্মদ পাপ্পু ।
বর্তমান কাউন্সিলরদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর তারেক খান, পারু মিয়া, গ্যাব্রিয়েলা, কাহার চৌধুরী।  অন্যান্য কমিউনিটির মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন গোলাম মোস্তফা চেয়ারম্যান উদীচী, বো বাংলা ফোরামের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান, বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশনের ট্রেজারার মিসবাহ কামাল, টার্লিং স্টেটের চেয়ারম্যান জুনায়েদ আহমেদ সুন্দর এবং টাওয়ার হামলেটস কলেজের সাবেক লেকচারার রেহানা রহমান প্রমুখ।