Share |

স্মার্ট কার্ড এবং পাসপোর্ট নবায়ন : প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া দরকার

স্মার্ট কার্ড এবং পাসপোর্ট নবায়ন নিয়ে প্রবাসীদের বিপাকে পড়ার সংবাদ আবার নতুন করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ প্রকাশসহ প্রবাসীদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন প্রায়ই বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা দেন-দরবার করে আসছেন। কিন্তু সমস্যার কোনো সুরাহা তো হয়নি বরং সমস্যা দিন দিন জটিল হচ্ছে এবং প্রবাসীরা  নতুন নতুন সংকটে পড়ছেন। 
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসে রয়েছেন প্রায় এক কোটি বাঙালি। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ বাঙালি। প্রত্যেক প্রবাসীর সহায়-সম্পত্তিসহ ব্যবসাপাতিও আছে দেশে। বাঙালিরা  বিদেশে বসবাস করলেও দেশে তাদের উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেন,জমি-জমা বেচাকেনা এমনকি সব ধরণের নাগরিক অধিকারসমূহ সংরক্ষণ করেন। কিন্তু তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। যেমন পাসপোর্ট নবায়নে নানা ভোগান্তি তেমনি নতুন করে শুরু হয়েছে স্মার্ট কার্ড সমস্যা। 
প্রথমে পাসপোর্টের কথা-ই যদি ধরি, সেটা অনেক পুরোনো সমস্যা। রিনিউ করতেও পুনরায় দেশ থেকে যথাযথভাবে যাচাই করে পুলিশ রিপোর্ট প্রাপ্তির পর পাসপোর্ট পেতে হয়। এতে দুই/তিন মাস সময় ব্যয় হয়। একবার পাসপোর্ট ইস্যু হলে আরেকবার পুলিশ রিপোর্ট প্রয়োজন কিংবা নাগরিকত্ব যাচাই অনেকটা হাস্যকর এবং হয়রানির সামিল। এছাড়া পাঁচ বছরের পর আন্তর্জাতিক পাসপার্টের রিনিউ করার নিয়ম কোনো দেশেই নেই,সব দেশেই এই নিয়ম ১০ বছর। পাসপোর্ট রিনিউয়ের বেলায় শুধুমাত্র হাইকমিশন থেকে যথা সম্ভব কম সময়ে  যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা এবং রিনিউয়ালের নিয়ম ১০ বছর চালু করলে প্রবাসীদের  চলমান ভোগান্তির অবসান হবে। 
অন্যদিকে, প্রবাসীরা নতুন করে যে মারাত্মক সংকটে পড়েছেন তা হলো স্মার্ট কার্ড। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশে প্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং ভোটার কার্ড চালু হলে নাগরিকদের বৈষয়িকসহ নানা বিষয়ে ভোটার কার্ড আইডি কার্ড হিসেবে ব্যবহারের নিয়ম চালু হয়। পরবর্তীতে এই কার্ডের নাম দেয়া হয় ’স্মার্ট কার্ড’। এই স্মার্ট কার্ড না থাকলে কোনো ব্যবসা করা বা  জমি-জমা বেচাকেনাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কম পক্ষে ২০টি সুবিধা ভোগ করা যাবে না। তবে, স্মার্ট  কার্ড পেতে হলে একজন  প্রবাসীকে দীর্ঘ দিন দেশে থাকতে হয় এবং দেশীয় পাসপোর্টধারীও হতে হবে। 
কথা হচ্ছে, দেশে অবস্থান না-করে স্মার্ট কার্ড করা সম্ভব নয়। প্রবাসীদের দীর্ঘ দিনের দাবী সংশ্লিষ্ট হাই কমিশনের মাধ্যমে ভোটার তালিকার অর্ন্তভুক্তি এবং সেই সঙ্গে স্মার্ট কার্ডও হাই কমিশনের মাধ্যমে প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা। এতে প্রবাসীরা উদ্ভুত সংকট থেকে মুক্তি পাবে। এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের প্রতি দেশে বিনিয়োগ করার যে আহবান  জানাচ্ছেন, তাও এসব নিয়মের বেড়াজলে বা ফাঁদে পড়ে আছে। পরিশেষে-প্রবাসীদের দাবীর সাথে আমরাও একাত্মতা পোষণ করে  বিশ্বাস করতে চাই, প্রবাসী-বান্ধব দাবিদার বর্তমান সরকার অচিরেই এইসব সমস্যার সমাধান করবেন এবং সংকট নিরসন করে প্রবাসীদের স্বস্তি যোগাবেন। এটা শুধু সময়ের দাবী নয়- প্রবাসীদের প্রাপ্য অধিকার হিসেবেও গণ্য।