Share |

জাতিসংঘ ও টিলডার যৌথ উদ্যোগ : বাংলাদেশে মা ও শিশুর পুষ্টি যোগানে প্রকল্প

পত্রিকা প্রতিবেদন
 ১৮ মার্চ : জাতিসংঘ বিশ্বখাদ্য কর্মসূচীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টিলডা রাইস। যুক্তরাজ্যের বাজারে কোনো ক্রেতা বিশেষ চি?যুক্ত টিলডা বাসমতির ৫ কেজি প্যাকেট কিনলেই বাংলাদেশের একজন দরিদ্র প্রসূতি নারী পেয়ে যান তিন বেলার খাবার। জাতিসংঘ বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে মা-শিশুর পুষ্টির ঘাটতি পূরণের এই প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির সঙ্গে টিলডার অংশীদারিত্ব এবার ৫ম বছরে পদার্পণ করেছে। অন্তঃসত্ত্বা কিংবা প্রসূতি মা পুষ্টিকর খাবার পেলে তাঁরা নিজেরা যেমন ভাল থাকবেন, মায়ের পর্যাপ্ত দুধ পেয়ে তাঁদের সন্তানও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে উঠবে। গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে সন্তানের বয়স দুই বছর হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মায়েদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পুষ্টিকর ‘সুপার সিরিয়াল’ সরবরাহ করা হয়। মায়ের পুষ্টির ঘাটতি গর্ভের সন্তান ও নবজাতকের শারীরিক ও মানসিক গঠনে গভীর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে যা অনেক সময় পরবর্তীতে আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং টিলডার এই যৌথ প্রকল্প বাংলাদেশের দরিদ্র মায়েদের পুষ্টির অভাব পূরণে ব্যাপকভাবে সাহায্য করছে। জাতিসংঘ বিশ্বখাদ্য কর্মসূচী এবং টিলডার যৌথ উদ্যেগে পরিচালিত প্রকল্পের চলতি বছরের প্রতিপাদ্য হলো- ‘হেলপিং মামস টুগেদার’। চলতি বছরের প্রকল্পে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে রান্না-বিষয়ক জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান বেইক অফ ২০১৮-এর ফাইনালিস্ট রুবি ভোগাল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এ বছর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রসূতি ও অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের মাঝে মোট ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রুবি ভোগাল জানান, তিনি তাঁর মায়ের কাছ থেকে রান্নার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আগামী ৩১ মার্চ বিশ্ব মা দিবসকে সামনে রেখে তিনি টিলডা বাসমতি রাইস দিয়ে মা দিবসের বিশেষ রেসিপি রান্না করছেন। ‘হেল্প মামস টুগেদার’ ক্যাম্পেইনকে উৎসাহিত করা, রান্নার মাধ্যমে পিতা-মাতা ও সন্তানের মধ্যে যে বিশেষ বন্ধন সেটিকে উদযাপন করা এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়ার ঐতিহ্যকে উদযাপনে সকলকে উদ্বুদ্ধ করাই রুবি ভোগালের এই বিশেষ রেসিপির লক্ষ্য।  
রুবি ভোগাল বলেন, আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে আমি এমন একটি পরিবারে বেড়ে উঠার সুযোগ পেয়েছি যেখানে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করার প্রধান জিনিসটি ছিল খাবার। এর অংশ হিসেবে আমরা এই মূল্যবোধ নিয়ে বড় হয়েছি যে, যাদের পর্যাপ্ত খাবার নেই তাদের কথা চিন্তা করা দরকার। বিশেষ করে মায়েদের জন্য পুষ্টিকর খাবার একটি প্রধান ব্যাপার।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কমিউনিকেশন্স অফিসার নিনা ভ্যালেনটি বলেন, বাংলাদেশের এক চতুর্থাংশ জনগোষ্ঠী খাদ্য অনিরাপত্তার সম্মুখীন। যার অর্থ হলো- এরা স্বাস্থ্যকর ও ফলপ্রসূ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিয়মিত পায় না। এর পাশাপাশি দেশটির প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক দূর্যোগের ক্ষতির শিকার এবং ব্যাপক সংখ্যক প্রসূতি ও অন্তঃসত্ত্বা মা ঝুঁকির মুখোমুখি। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিলডা, রুবি এবং হোম কুকসের সঙ্গে মিলে যুক্তরাজ্য জুড়ে আরও স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
রুবি ভোগাস আরও বলেন, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির দলের সঙ্গে সময় কাটিয়ে এবং বাংলাদেশের সমস্যার কথা অনুধাবন করে আমি যে কোনোভাবেই এই ক্যাম্পেইনের সাথে কাজ করতে চেয়েছি। আমার মায়ের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমি টিলডা রাইস দিয়ে তৈরি আমার খাবারের নাম নির্ধারণ করেছি ‘মামা বি’জ চিকেন বিরিয়ানী’। এর মাধ্যমে এবারের মা দিবসে ‘হেল্প মামস টুগেদার’ ক্যাম্পেইনে সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং যারা দরিদ্র তাদের অবস্থার সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চাই।
মা দিবসে রুবির বিশেষ ডিশ হলো- মামা বি’জ চিকেন বিরিয়ানী, যা তাঁর পরিবারের প্রতি শনিবার রাতের খাবারের অনুপ্রেরণায় তৈরি। এটি তাঁর মায়ের রান্না করা অন্যতম প্রিয় খাবার। রুবির বিরিয়ানী সুবাসে ভরপুর, রান্না করতে সহজ এবং বেশ পুষ্টিকর।
টিলডা’র কর্মকর্তা অ্যানা বেহেশতি বলেন, ‘মা দিবস হলো উদযাপনের দিন। কিন্তু যে কোনো দিনে পরিবারকে একতাবদ্ধ করে ভাল খাবারের আয়োজন। আর সেই খাবারের আয়োজনের মাধ্যমে যদি হতভাগ্য জনগোষ্ঠী সাহায্য পেয়ে থাকে তবে সেটির তাৎপর্য আরও বেশি।’ অ্যানা আরও বলেন, ‘বিশেষ চি?যুক্ত টিলডা রাইসের প্রতিটি প্যাকেট বিক্রি সরাসরি দুস্থ মা ও শিশুকে সাহায্য করবে বাংলাদেশের দারিদ্রপীড়িত অঞ্চলগুলোতে পুষ্টিকর বিশেষ খাবার সরবরাহের মাধ্যমে। এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ৪ মিলিয়ন পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়েছে এবং চলতি বছর তা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ওই কর্মসূচি চালু করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’  
রোহিঙ্গা মা ও শিশুর জন্য সহায়তা
 বাংলাদেশের কক্সবাজারে ৯ লাখ ১৯ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর বসবাস। শরণার্থী শিবিরের প্রসূতি ও অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। পাঁচ বছরের কম বয়সী ১০ হাজার ৩৫৪ জন রোহিঙ্গা শিশু এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হয়েছে। এই কর্মসূচির জন্য টিলডা মোট ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার সহায়তা দিয়েছে। ২০১৭ সালে টিলডার ‘মামস হেলপিং মামস’ ক্যাম্পেইনের কল্যাণে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ১১৫ মেট্রিক টন বিশেষভাবে তৈরি করা পুষ্টিকর খাবার ডব্লিউএসবি++ এবং ১৫০ মেট্রিক টন ডব্লিউএসবি+ কিনতে সক্ষম হয়। সুপার সিরিয়াল প্লাস হিসেবেও পরিচিত ডব্লিউএসবি++ এক ধরণের পোরিজ যা ৬ মাস থেকে দুই বছর বয়সী শিশুদের খাওয়ানো হয়। তাপে ভাজা গম, সয়া বিনস, ননীতোলা শুকনো  দুধ, পরিশোধিত সয়াবিন তেল, একাধিক ভিটামিন এবং খনিজ (মিনারেল) দিয়ে ডব্লিউএসবি++ তৈরি। আর ডব্লিউএসবি+ বা সুপার সিরিয়াল তৈরি হয় গমের গুড়া, সয়া, ভিটামিন এবং খনিজ (মিনারেল) দিয়ে যা অন্তঃসত্ত্বা মা ও নারীদের পুষ্টির জন্য উপকারী। ইতোমধ্যে, ১১৫ মেট্রিক টন ডব্লিউএসবি++ সরবরাহ করা হয়েছে যা দিয়ে ১০ হাজার ৩৫৪ জন শিশুর পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর ১৫০ টন ডব্লিউএসবি+ দিয়ে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য পুষ্টি সহায়তা শুরু হয়েছে।