Share |

নুসরাত দেখিয়ে গেল : প্রতিবাদ করতেই জানি, মরণকে করি না ভয়

সোনাগাজীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ কর্তৃক যৌন হয়রানি এবং পরে আগুনে পুড়িয়ে মারা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের সবচে লোমহর্ষক ঘটনা। এটা প্রমাণ করে আইনের শাসনের ক্রমাগত অনুপস্থিতিই এতো হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে।  এ ঘটনার সূত্র ধরে যে কোনো নাগরিক বলতে বাধ্য হবে- বাংলাদেশের মানুষের নাগরিক অধিকার এবং জীবনর উদ্বেগজনক মাত্রায়?নিরাপত্তাহীন হয়ে?পড়েছে। 
জননিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি রাষ্ট্রের মূল দায়িত্বগুলোর অন্যতম প্রধান কাজ। কিন্তু এই  লোমহর্ষক ঘটনায় প্রমাণিত হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বেষ্টনি এতোই দুর্বল হয়ে পড়েছে, যাতে মানুষের জীবনের কোন মূল্য রাষ্ট্য বা প্রশাসনের কাছে নেই। এই বিপর্যয়ের সুযোগে অপরাধী চক্রের আষ্ফালন ও দম্ভ বেড়েছে।  
আমরা বলতে চাই, এটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির পরিনাম। সমাজ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলেই মানুষ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এরকমই বেপরোয়া এই ঘটনাটি ঘটেছে-যা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে দেয়ার মতো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- রাষ্ট্র কি কেঁপেছে? রাষ্ট্রের বা সরকারের তখত কাঁপা নয়। বলছিলাম, রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধের শক্তির কথা। 
বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে গত এক দশকে বা নিকট অতীতে বাংলাদেশে সাংবাদিক সাগর-রুণী খুন, তনু হত্যার মতো ডজনখানেক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে- আর এসব ঘটনার বেশিরভাগই নারীর প্রতি সহিংসতা। 
অন্যদিকে, সমাজে নারী নির্যাতনের ঘটনা কেন বৃদ্ধি পাচ্ছে-তা কেউ প্রশ্ন করছে না। এটার কী কারণ? কিন্তু কর্মক্ষেত্রসহ সর্বত্র সমতার কথা বলতে বলতে বা উচ্চারণ করতে করতে আমরা নিজেকে মহান ভাবতে কিংবা সমাজকে যে মূল্যবোধের প্রতি অনুরক্ত করতে পারার আত্মতৃপ্তিবোধ করছি- তা ক্ষয়িষ্ণু সমাজের ঘা কতটুকু উপশম করছে- তা কি ভেবে দেখেছি? 
দেশের মানুষের জননিরাপত্তা সংক্রান্ত ভাবনা এবং বেঁচে থাকার স্বাধীন আকাঙক্ষা ও বিশ্বাসের জায়গাটি হলো রাষ্ট্র। রাষ্ট্র সুরক্ষা দেবে। সমাজ তা অনুসরণ করবে। এই সুরক্ষাই নিরাপত্তার প্রধান চাবিকাঠি। অথচ এর ধ্বস নামাই এখন বাংলাদেশে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উদ্বেগ এখানেই। আমরা এ ধ্বস থেকে কবে উদ্ধার হবো বা পাবো? বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটি দেবে যাওয়া এই ভূমিতে পা রেখে কাঁপছে মনে হচ্ছে।  নুসরাত জাহান রাফি মরেও মরেনি। সে রাষ্ট্রের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেছে। চ্যালেঞ্জটি নৈতিকতার। এখন দেখার বিষয়- ন্যায়বিচার করে রাষ্ট্র প্রমাণ করবে মানুষকে এতো তুচ্ছ ভাবার কারণ নেই- মানুষ সবচে বড় সম্পদ রাষ্ট্রের আর মানুষ বা জনগণ ছাড়া রাষ্ট্র বাঁচে না কিংবা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তাও নেই।
নুসরাতের হত্যার ঘটনার বর্ণনা গত ক’দিনে স্যোসাল মিডিয়াকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায়?যে অনেক মানুষ অসহনীয় কষ্ট পেয়েছে তা শুধু নয়- অনেকেই এই নৃশংস ঘটনা শুনে চোখের পাতা এক করতে পাারেননি। 
তবুও, মানুষ আশাবাদী ও মানবিক জীব। মানুষের ভরসা রাখার প্রমাণ দেখাতে হবে এখন রাষ্ট্রুকে। এই আশা রেখেই আজকে নুসরাতকে ধন্যবাদ দিতে চাই সে প্রতিবাদকে শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেল। আমাদের দেখিয়ে গেল প্রতিবাদ করতেই জানি - মরণকে করি না ভয়। সমাজ সেই কিশোরীর বার্তাটি থেকে কিছু শিখবে কি?