Share |

কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস রক্ষার পক্ষে দাঁড়ানোর জের : লেবার থেকে সাসপেণ্ড দুই কাউন্সিলার

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১৫ এপ্রিল : কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিসের বাজেট কাটের বিপক্ষে দাড়িয়েছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের দুই কাউন্সিলার। গত ২০ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলের অধিবেশনে তাঁরা বাজেটের উপর সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপনের চেষ্টা করেন। তাঁদের সেই চেষ্টা তখন-ই থামিয়ে দিয়েছিল নির্বাহী মেয়র জন বিগসের নেতৃত্বাধীন টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টি। এখন সেই দুই কাউন্সিলারকে দল থেকে সাসপেণ্ড করা হয়েছে। সাসপেণ্ড হওয়া দুই কাউন্সিলার হলেন মাইল অ্যান্ড ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পুরো মিয়া এবং কাউন্সিলর গ্যাব্রিয়েলা সালভা ম্যাকালান।    গত ১০ এপ্রিল কাউন্সিল চেম্বারে অনুষ্ঠিত সভায় তাদের তিন মাসের জন্য দলের সকল কার্যক্রম থেকে সাসপেণ্ড করা হয়। তবে কাউন্সিলার পদে বহাল থাকছেন তাঁরা।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিসের বাজেট কাটের পরিকল্পনা নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে এ বাজেট কমিয়ে ২০২২ সালের পর এই খাতে বাজেট শূণ্যে নামিয়ে আনার কথা। এ নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস রক্ষার দাবি উঠে। কমিউনিটির সংগঠনগুলো এই দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠে। বারার নির্বাহী মেয়র জন বিগস এসব প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বাজেট রক্ষা কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েস সেবা বাঁচিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন বাজেট পাশ হয়। কিন্তু অধিবেশনের আগে মেয়রের পক্ষ থেকে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিসের বাজেট রক্ষার কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এ অবস্থায় মাইল অ্যান্ড ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পুরু মিয়া ওই বাজেট রক্ষায় একটি মোশন উত্থাপনের উদ্যোগ নেন। কাউন্সিলার গ্যাব্রিয়েলা সালভা  ম্যাকালান ওই প্রস্তাব সেকণ্ড করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি লেবার দলের চিফ হুইপ কাউন্সিলার কেভিন ব্রাডির কাছে ওই বাজেট সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপনের অনুমতি চান। কিন্তু চিফ হুইপ ওই অনুমতি দেননি। উলটো শৃঙ্ঘলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেন। পরে লেবার দলের ভোটাভুটিতে ওই প্রস্তাব হেরে গেলে তা আর অধিবেশনে উস্থাপনের সুযোগ হয়নি। 
ওই অধিবেশনের দিনেই মেয়র জন বিগস ভিন্ন একটি মোশনে দুই কাউন্সিলরের সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান। বিকল্প একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস টিকিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। 
লেবার গ্রুপের নিয়ম অমান্য করে বাজেট সংশোধনী প্রস্তাব আনার কারণে এখন ওই কাউন্সিলরকে দল থেকে সাসপেণ্ড করা হলো। তাঁরা লেবার গ্রুপের এক্সিকিউটিভ কিংবা ডেপুটি লিডারের অনুমতি ছাড়া এমন প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে দলের শৃঙখলাবিধির অনুচ্ছেদ ১৩ ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ। 
জানা গেছে, ১০ এপ্রিলের সভায় কাউন্সিলর পুরো মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগের জেরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বেথনাথ গ্রিন অ্যান্ড বো অ্যাথনিক মাইনোরিটি ফোরামের (বিএমই) চেয়ার আজমল হোসেনের ডাকে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ডেপুটি লিডার আসমা বেগম তাঁকে মোশন উত্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই মোশন উত্থাপন করেন। ওই বৈঠকে আরও কয়েকজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এই অনুমতির বিষয়ে কাউন্সিলর পুরু মিয়া আজমল হোসেনের একটি উইটনেস স্টেইটমেন্টও উপস্থাপন করেন। কিন্তু এসবে কোনো কাজ হয়নি। তবে আসমা বেগম দাবি করেছেন তিনি সম্মতি দিয়েছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটি সত্য নয়। 
প্রসঙ্গত, ডেপুটি লিডার আসমা বেগম এবং চিফ হুইপ কেভিন ব্রাডি ১০ এপ্রিলের সভায় উপস্থিত ছিলেন না। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর পুরু মিয়া পত্রিকাকে বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন, উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে আপিলের বিষয়টিও রয়েছে। ফলে এ নিয়ে তিনি এখন-ই কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না। তবে তিনি লেবার দলের ক্লস ১১ এর উদৃতি দিয়ে বলেন, নির্বাচনী এলাকার জনগণের স্বার্থে এবং প্রতিনিধি হিসেবে নিজের যথাযথ ভূমিকা পালনে কাউন্সিল অধিবেশনে ব্যক্তিগতভাবে বক্তব্য এবং প্রশ্ন করাকে স্বাগত জানায় লেবার পার্টি।  পুরু মিয়া বলেন, বিভিন্ন কমিউনিটি ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁর প্রতি সমর্থন এবং সহানুভূতি জানিয়ে যোগাযোগ করেছেন। তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।  এদিকে টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার গ্রুপের বক্তব্য জানতে চাইলে এক লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়, দলের অভ্যন্তরে ঘোষিত কারো ব্যক্তিগত শাস্তির বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কোন মন্তব্য করবো না, এটা একান্তই দলের অভ্যন্তরীন একটি বিষয়। 
তবে আমরা নিশ্চিত করছি যে, টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার গ্রুপ দুজন কাউন্সিলারকে সাসপেন্ড করেছে।  তারা দুজন লেবার গ্রুপের সম্মতি ছাড়াই কাউন্সিল বাজেট মিটিংয়ে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছিলেন। আর এর মাধ্যমে তারা পরিষ্কারভাবে লেবার গ্রুপের আইন ভঙ্গ করে দলের একতাকে ক্ষুন্ন করেছেন। 
লেবার গ্রুপে আলোচনার জন্য কাউন্সিলারদের যে কোন বিষয়ে সংশোধনী অথবা মোশন আনার অধিকার রয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না। তবে গ্রুপের সদস্যদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কোন সংশোধনী অথবা মোশন পাশ না হলে তা কাউন্সিল মিটিংয়ে উত্থাপন করার কোন বিধান নেই। 
উল্লেখ্য যে, লেবার পার্টির এই আইন মেনে চলার সম্মতি জানিয়ে সকল কাউন্সিলার লেবার গ্রুপে যোগ দিয়ে থাকেন। এছাড়া তারা লেবার পার্টির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন এবং প্রার্থীতা ঘোষণার সময় লেবার টিমের সদস্য হিসাবে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞা করে থাকেন।  কোন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে লেবার গ্রুপের আইন ভাঙ্গার অভিযোগ উত্থাপিত হলে প্রথমে তা গোপনীয়তার সাথে অভ্যন্তরীনভাবে তদন্ত করা হয়। তারপর তা লেবার গ্রুপ তথা লেবার পার্টির কাছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত তথা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত কীনা তা বিবেচনার জন্য প্রেরণ করা হয়।