Share |

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলা : সব সন্ত্রাসীই মানবতার দুশমন

নিউজিল্যাণ্ডের মসজিদে ঘটে যাওয়া নজীরবিহীন সন্ত্রাসী ঘটনার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি বিশ্ববাসী। গত মার্চে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর হামলায় অর্ধশত প্রাণহানির শোক কাটতে না কাটতেই গত রোববার শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে যে সন্ত্রাসী হামলা ঘটে গেলো তা বিশ্বের মানুষকে হতবাক করে দিয়েছে।
নিউজিল্যাণ্ডের মসজিদগুলোতে হামলা যেমন শুধু নামাজরত মুসলমানদের উপর ছিলো না বরং ছিলো বিশ্ব মানবতার প্রতি এক বিরাট আঘাত তেমনি কলম্বোতে  চালানো সন্ত্রাসী হামলায় যে কেবল শ্রীলঙ্কা আক্রান্ত হয়েছে তা কিন্তু নয়। যেকোন সন্ত্রাসী হামলাতেই আসলে আক্রান্ত হয়?পুরো বিশ্বের শান্তিপ্রিয় নিরীহ মানুষ। আসলে আমরা ভালো করেই জানি যে, সন্ত্রাসীরা কোনো নির্দিষ্ট দল, মত বা ধর্ম প্রতিষ্ঠার  জন্য তৎপরতা চালায়?না। তারা পৃথিবীতে অশান্তি এবং?মানুষে মানুষে বিভেদ আর ঘৃণা ছড়াতেই এই কাজটি করে থাকে। বলতে গেলে, তাদের ধর্মই হচ্ছে সন্ত্রাস! সন্ত্রাসীদের গুলির কিংবা বোমার শিকার ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম বা গোষ্ঠীর মানুষ হলেও তাদের লক্ষ্য একই। আর এই লক্ষ্য মানবতাকে নিশ্চিত করে ত্রাসের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। তাই বিশ্বের মানবতাকামী মানুষের অবস্থান এই ঘৃণ্য হিংস্রতার বিরুদ্ধে।
শ্রীলঙ্কার এ ঘটনা ঘটার আগে বিশ্ব কাঁপানো সন্ত্রাসী ঘটনা আরো বহু ঘটেছে। কয়েক বছর আগে ইন্দোনেশিয়ায় একটি রেস্তোরায়, ভারতে একটি হোটেলে- এমনকি ব্রিটেনেও বাসে-ট্রেনে পানশালায় ঘটেছে আক্রমণ। হতাহত হয়েছে মানুষ। বিশ্ব নড়েচড়ে বসে কিছুদিনের জন্য। আবার বেখবর সব। 
শ্রীলঙ্কাতে গত ২০ এপ্রিল রোববারে ভয়াবহ বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে জামাত আল-তাওহিদ আল-ওয়াতানিয়া নামের একটি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। দুবাইভিত্তিক আল অ্যারাবিয়া টেলিভিশন চ্যানেলকে উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস। তবে এই জঙ্গি গোষ্ঠী সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানায়নি চ্যানেলটি। গত ২০ এপ্রিল রোববার স্থানীয় সময় ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনটি হোটেল ও গির্জায় চারটি বোমা হামলা হয়। পরের ২০ মিনিটে আরও দুটি বোমা হামলা হয়। বিকেলের দিকে চতুর্থ হোটেল ও একটি বাড়িতে বোমা হামলা হয়। তথ্য অনুযায়ী হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা ২৯০ জনে পৌঁছেছে। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি। আটক করা হয়েছে ২৪ জনকে।
শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভার মুখপাত্র রাজিথা সিনারতের উদ্ধতি দিয়ে এএফপির খবরেও প্রকাশ- স্থানীয় উগ্রপন্থী ইসলামি দল ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) এ হামলায় জড়িত। আন্তর্জাতিক কোনো গোষ্ঠী তাদের সহায়তা করেছে কি না, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। আবার সিনারতের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স বলছে, হামলায় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত। স্থানীয় কোনো দল এভাবে হামলা চালাতে পারে না।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় আরও সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। 
সতর্কতায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছ, গত রোববারের ঘটনার পরও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা শ্রীলঙ্কায় আরও হামলার ষড়যন্ত্র করছে। 
আমরা দেখেছি, সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করার সম্মিলিত উদ্যোগের কথা বহুবার বলা হলেও তা বারবার হারিয়ে যায়। তবে সময়?এসেছে বিশ্বকে মানুষের নিরাপদ বাসভূমি করার কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন নেওয়ার। আর এজন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আন্তরিকতা নিয়ে নিউজিল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রীর মতো শক্ত অবস্থান নিয়ে দাঁড়াতে হবে। 
শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা এবং?স্বজনহারাদের প্রতি গভীর সমবেদনা।