Share |

স্বাগত মাহে রমজান : সমাজের বঞ্চিত অংশের সহায়তায় এগিয়ে?আসাই হোক পবিত্র রমজানের প্রত্যয়

মহান বার্তা নিয়ে আবার বছর ঘুরে হাজির হচ্ছে মাহে রমজান। আরবী সনের নবম মাস রহমত-বরকত-নাজাতের রমজান শুরু হয়েছে। প্রচলিত হিজরি দ্বিতীয় সনে এই রমজানকে সিয়াম সাধনার মাস হিশেবে নির্ধারিত করেন মহান আল্লাহ্। 
মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাক্বওয়া অর্জন। আর তাক্বওয়া মানুষের মনোজগতের এই অবস্থা যার কারণে পাপের প্রতি বিরাগ ও পূণ্যের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হয়। এরফলে মানুষের মনে খোদাভীতি জন্মে। আর তাই সিয়াম সাধনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে তাক্বওয়া অর্জন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ। আর এই অর্জন সম্ভব হলে তা সমাজ জীবনের সকল স্তরে শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনে।  এই মাসকে সিয়াম সাধনার জন্য সুনির্দিষ্ট করে দিয়ে মহান আল্লাহতায়লা বলেন : ওহে, তোমরা যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান অবশ্য পালনীয় করে দেওয়া হলো, যেমন হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি, যার মাধ্যমে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারো। রোজা একান্তই আল্লাহর জন্য রাখা হয় এবং তিনি নিজ হতেই এর প্রতিদান দেবেন। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানদারীর সাথে রোজা রাখবে তার অতীতের গুনাহ-অপরাধ মাফ করে দেওয়া হবে।’ 
রহমত বরকত ও জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভের এ মহিমান্বিত মাসের যথাযথ মর্যাদা দান প্রতিজন মুসলমান নর-নারীর একান্ত কর্তব্য। এ মাসে অবতীর্ণ হয় মানবতার মুক্তিসনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন। এ মাসেই হক ও বাতিলের চূড়ান্ত সংঘর্ষ- বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এ মাস বিশ্ববাসীর কাছে সাম্য-ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার এবং ক্ষুধার্তের কষ্ট উপলব্ধির সুযোগ নিয়ে আসে। ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি সমাজের বঞ্চিত অংশের জন্য সাহায্যের হাত প্রসারিত করাও এই মাসের অন্যতম শিক্ষা। তাই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সমাজের অসহায়, বঞ্চিত এবং দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, মানুষ হিশেবে আমাদের উপর অর্পিত যে বিশেষ দায়িত্ব তা হচ্ছে- নিজেকে পাপ থেকে সুরক্ষিত রেখে অন্যের জন্য তথা বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে ধন-সম্পদ, সময় ও সম্ভাব্য সবকিছু দিয়ে আল্লাহর অন্য বান্দাদের হক আদায় করা। রমজানে এই দায়িত্ব আরও বেশি করে পালন করতে হবে। ব্যক্তির আত্মশুদ্ধির মধ্যদিয়েই তাকে ঘিরে থাকা বৃহত্তর পরিবেশ সুন্দর হয়ে ওঠে, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, বিশ্বে এক কোটি মানুষ এখনো খেতে পায় না। গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা লক্ষ্য করছি, গত কয়েক বছর থেকে ব্রিটেনের বাংলাদেশি কিছু সামাজিক সংগঠন ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড পরিচালনা শুরু করেছে। রমজানের আগে থেকেই এসব সংগঠন বাংলাদেশে নিজ নিজ এলাকায় অসহায়, বঞ্চিত এবং দরিদ্রদের পুরো রমজানের খাবার সরবরাহের কাজ করছে। এসব সংগঠনের এই মহতী কাজ আপাতদৃষ্টিতে খুব বড় মনে না হলেও এই চর্চা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। ব্রিটেনের সচ্ছল সমাজের মেহমানদের জন্য?হাজার হাজার পাউণ্ড ব্যয় করে জমজমাট ‘ইফতার পার্টি’ করে নানা সংগঠন। এ নিয়ে প্রতিযোগিতাও কম নয়। আমরা মনে করি, এই অপচয়?বন্ধ করে সেই অর্থটুকু নিজ নিজ এলাকার অসহায়, বঞ্চিত এবং দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করলেই বরং রমজানের শিক্ষাটা কাজে লাগবে।  এবারের রমজান হোক আমাদের তাক্বওয়া অর্জনের সাধনার মাস। সমাজের বঞ্চিত অংশের সহায়তায় হাত বাড়ানোর চর্চা হোক পবিত্র রমজানের প্রত্যয়। মহান আল্লাহ আমাদের সাধনা সফল করুন। আমাদের সবার জীবন হোক পূণ্যময়। সবাইকে রমজান মোবারক।