Share |

প্রোজ্জ্বল কবির উদ্দিন : পৃথিবী বদলে দেয়ার স্বপ্ন এবং এক বিদেশী বন্ধু

হামিদ মোহাম্মদ
 সব মানুষের স্বপ্ন থাকে বড় হওয়ার। এই স্বপ্নপুরণের জন্য প্রয়োজন সুযোগ, সঙ্গে ইচ্ছা। যাদের জীবনে স্বপ্ন দেখা বা কোনো ইচ্ছারও সুযোগ নেই,তাদের বেলায় কী বলা চাই। এরকম অবাক করা এক তরুণের গল্প বলার সুযোগ আমার হয়েছে। আমার সুযোগ হওয়া এ জন্য বললাম- আমরা অভ্যস্ত যেভাবে-সেটা এতোই ব্যতিক্রম, যা চমকে দেয়ার মতো। আমি চমকে গেছি, বিশ্বমাত্রিকতায় জায়গা করে নেয়ার অদম্য এক তরুণের স্বপ্নবাজির কথা শুনে। এই স্বপ্নবাজ তরুণের নাম  মো. কবির উদ্দিন। সিলেটের খাদিমনগরের দলইপাড়ার সন্তান।  
কিন্তু প্রচলিত চিন্তাধারার ব্যতিক্রম কবির উদ্দিন। সে কোনো স্বপ্নই দেখেনি। সেই স্বপ্ন না-দেখা কবির উদ্দিন এখন উচ্চতায় ছাড়িয়ে গেছে তাঁর বেড়ে ওঠার হতদরিদ্র ছ্যামছ্যামে বৃষ্টি-ভেজা, শীতে হাড়কাঁপানো মাটিছোঁয়া অন্ধকার স্থানটি। অনেক দূরে বিজ্ঞানের আলো-ঝলমল স্থানে তার অবস্থান। সে ঘুরে বেড়ায়, বক্তব্য রাখে বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে আইটি সেমিনারে, উপস্থাপন করে সফটওয়ারের নানা উদ্ভাবনী।
 নিতান্ত দরিদ্রতায় ডুবে হাবুডুবু খাওয়া, কোনো রকম বেঁেচ থাকার লড়াই করা জীবন ছিল তার। ৯ ভাইবোনের সংসার। বাবা কৃষক, অষ্টম শ্রেণী পাশ-নাম মো. মোখসেদ আলী। মা ৫ম শ্রেণী পাশ আমীরুন নেসা। নিজের বাড়ি নেই-বাড়িভাড়া না-দিতে পারায় আশ্রয় পান খাদিমনগর এফআইভিডিভির পাশে একটি মুরগীর ফার্মের টিনের একচালায়। এফআইভিডিভির জমিতে চাষবাস করে দিন গুজরান চলে। চাষবাসে চলে না-তাই বাড়তি রোজগারের আশায় মোখসেদ আলী সন্তানদের খাদিমনগর প্রধান সড়কে চা-বিস্কুটের দোকান পেতে দেন। মোটের ওপর এই হলো কবির উদ্দিনদের পরিবারের বৃত্তান্ত।   
এই বিদ্যুত-তরুণ কবির উদ্দিন তার পরিবারের কষ্টের দিনগুলোর কথা এইভাবেই বলছিলেন। পরিচয় বা তার সম্পর্কে জানা হয়েছিল সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসনের মাধ্যমে। পত্রিকা অফিসে সে এসেছিল ২০১৭ সালে একবার। তখন তার কাহিনি আংশিক জেনেছিলাম। সে ম্যানচেস্টার ও নরউইচ বিভিন্ন সেমিনারে ব্যস্ত। ফোনেই তার সাথে সংযুক্ত হলাম। শুনতে থাকলাম তার গল্প। জন্ম ১৯৯৩ সাল।
কবির উদ্দিন বলছিল জীবনের মোড় নেয়ার কাল ২০০৪ সালের কথা, তখন বয়স এগারো। রামদ্বান মাস। বাবা  মোখসেদ আলী ইফতার করতে এফআইডিভিডির ক্যান্টিনে গেছেন, সেখানে জমি চাষবাদ ও সামান্য চাকরির করার সুবাদে। কবিরও বাবার সাথে গেলেন ক্যান্টিনে। উদ্দেশ্য টিভি দেখা- রেসলিং, এডভেঞ্চার।
ক্যান্টিনে ছিলেন ইংরেজ শিক্ষক যিনি টিচার ট্রেইনার হিসেবে কাজ করেন- নাম  লুক ডয়েল। এডভেঞ্চার দেখার প্রতি অন্য দশ বালকের মতো তার আকর্ষণ দেখে কথা বলতে চাইলেন। কিন্তু কবির ইংরেজি বলতে বা উত্তর দিতে পারছিলেন না।  
কবির উদ্দিনের অল্প লেখাপড়া। দলইপাড়া হযরত খালেদ বিন ওয়ালিদ (র:) মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণী, এফআইডিভি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে অল্পদিন পর্যন্ত পড়া। দু’একটা ওয়ার্ড উচ্চারণ-অনেকটা আকারে-ইঙ্গিতে বুঝানো। মি. লুক ডয়েল পাশের রুমে রাখা লেপটপ কম্পিউটারটি এনে তাকে টাইপ করে প্রশ্ন করলেন-যা বাংলায় দাঁড়ায় ‘এটা কি তুমি চালাতে পারো?’ কবির উদ্দিন কাচুমাচু করে বললো- না। লুক ডয়েল বললেন- ‘আমি তোমাকে শেখাবো’। লুক বুঝতে পারলেন, ছেলেটি শিখতে চায়-কম্পিউটার কেন আরো অনেক কিছু, চিক চিক করা তার চোখের ভাষায়-সেই উত্তর ঝিলমিল করছে।
 মি. লুক ডয়েল লন্ডনের কেন্টের একটি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। গিয়েছিলেন চ্যারিটি সংস্থার হয়ে সিলেটের এইফআইভিডিভিতে শিক্ষকতায়-টিচার ট্রেইনার হিসেবে। লুক ডয়েল যেন খুঁজে পেলেন এখানে জীবনের সন্ধান, পেলেন এক বিদ্যুত-বালককে। মি.লুক ডয়েলের হাত ধরেই শুরু হলো কবির উদ্দিনের সামনে চলা, যা স্বপ্নেও কল্পনা করেনি সে। মি. লুক ডয়েল তাকে অবাক করে দিয়েই দায়িত্ব নিলেন তার পড়ালেখার ব্যয়ভার বহনের। ভর্তি করে দিলেন ইংলিশ মিডিয়ামে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে।  
কিন্তু ২০০৭ সালে আসে কঠিন সময়। এই সময় বাংলাদেশে আর্মি সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায়। এ সরকার মি. লুক ডয়েলকে ভিসা দেয় মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য। বাংলাদেশে লুক ডয়েল থাকতে না-পেরে  চলে যান চায়না ও যুক্তরাষ্ট্রে-শিক্ষকতায়। কিন্তু কবির উদ্দিনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি।
২০১০ সালে মি. লুক ডয়েল আবার যান বাংলাদেশে। তবে মি. লুক সিলেটে নয়-ঢাকায় যান একটি স্কুলে শিক্ষকতায়। কবিরকেও সঙ্গে নিয়ে গেলেন ঢাকায়। এ সময় বনানীর ‘দ্যা নিউ স্কুল অব ঢাকা’ থেকে ও লেভেল এবং এ লেভেল সম্পন্ন করেন কবির উদ্দিন। একই সময়ে মি. লুক ডয়েল ঢাকার বাড্ডায় প্রতিষ্ঠা করলেন ‘দ্য ক্যাফে’ নামে একটি আইটি স্কুল। শুরু হলো অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তানদের বিনা বেতনে বেসিক কম্পিউটার শিক্ষা  থেকে প্রোগ্রামিং শিক্ষাদান পর্যন্ত। সেখানে কবিরও প্রোগামিংসহ সফটওয়ার প্রশিক্ষণ শিখে অল্পদিনেই সেখানে কবিরও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণদান শুরু করেন।
একই সময়ে ঢাকায় একটি সংস্থা পরিচালিত লেফ নামে একটি আইটি স্কুল ছিল। লেফ মানে ‘লাভ, এডুকেশন ও ফুড’। তারা অস্বচ্ছল পরিবাবের  সন্তানদের সামাজিক বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাদান ও খাবারের ব্যবস্থা করতো। পরিচয় হলো তাদের সাথে। মি. লুক ডয়েলের ভালো লাগলো প্রজেক্টটি। জড়িয়ে গেলেন তাদের সাথে। সংস্থাটির সাথে যুক্ত হয়ে কম্পিউটার এবং প্রোগামিং শিক্ষাদানের উদ্যোগ নিলেন। তাদের ১০টি কম্পিউটারও চ্যারিটির মাধ্যমে সংগ্রহ করে দেন। যাতে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতভাবে দাঁড়াতে পারে।  
কিছুদিন পর, ২০১৬ সালে মি. লুক ডয়েল আবার গেলেন সিলেটে। সেখানে খাদিমনগরে  ১৫  হাজার টাকায় একটি ভাড়া বাড়ি নিয়ে কবির উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করলেন আইটি স্কুল- নাম দ্যা ‘ক্যাফে’। ক্যাফে’র অর্থ ‘কম্পিউটার আর ফ্রি ফর এভ্রি ওয়ান’। অল্পদিনেই ৩০টি কম্পিউটারের ব্যবস্থা হলো বিভিন্ন চ্যারিটি সংস্থার বদান্যতায়, নানা অনুদানে।  
বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ২৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। ৩০ জনের ব্যাচ, এক ঘণ্টা করে স্টাডি ক্লাশ। শিক্ষার্থীদের বয়স ৬ থেকে ২৫ বছর। প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্কুলের ক্লাশের পরে আসে-সপ্তাহে দুইদিন। এছাড়া যারা নানা  কারণে লেখাপড়ার সুযোগবঞ্চিত হয়ে পড়েছেন, কিছু করেছেন না-তাদেরও যতœ ও গুরুত্বের সাথে শিখিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়।  
‘ক্যাফে’তে প্রোগ্রার্মিং, গ্রাফিকস ছাড়াও ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নানা খেলনা তৈরী ও তা সঞ্চালনা শিশুদেরকে শেখানো হয়। শেখানো হয় বিজ্ঞানমনস্কতা। কবির উদ্দিন প্রোগ্রামিং শিক্ষা থেকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস তৈরীর এই প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক।  
কবির উদ্দিনের যে কথাটি আমাকে বিস্মিত করে বেশি.তা হলো-লুক ডয়েল তাঁর স্বপ্নঘেরা এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যয়ভার নির্বাহ করতে যুক্তরাজ্যসহ নানা দেশের চ্যারিটি সংস্থা থেকে ফান্ড জোগাড় করেন নিয়মিত। মূলত মি. লুক ডয়েলই মানুষ তৈরীর এক অদ্বিতীয় স্বপ্নযান-যার উচ্চতা আকাশছোঁয়া। যে লোকটির সনিষ্ঠ প্রণোদনায় সহিংস পৃথিবীতে মানব তৈরীর এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে  সিলেটের খাদিমনগরে।  
জানলাম-এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেসিক কম্পিউটার শিক্ষাসহ প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও অ্যাপ ডেভলপমেন্ট শিখছে শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় ৬৫%ভাগ রয়েছে মেয়ে শিক্ষার্থীই। শিক্ষা সমাপ্তির পর স্ব-স্ব ক্ষেত্রে এবং স্ব-উদ্যোগে স্বাধীনভাবে ঘরে বসেই সফটওয়ার ও গ্রাফিক ডিজাইন তৈরি করে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করছে অনেকেই। স্বাবলম্বী হচ্ছে শত শত তরুণ-তরুণী এবং পরিবার।  
উপার্জন বিষয়ে কবির উদ্দিন উদাহরণ হিসেবে বললো, তার ছোটভাই ফয়েজ উদ্দিন, বয়স ১৪। সে দু’ঘন্টায় রোজগার করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। তার ভাই কিশোর বয়সেই যে টাকা রোজগার করছে-সে জায়গায় তাদের পিতা এক মাসেও কখনো সেই টাকা চাষাবাস করে উপার্জন করতে পারেননি।
আর কবির উদ্দিন ও তার ভাই ফয়েজ উদ্দিন  কিশোর বয়সেও সফটওয়ার প্রোগ্রামিংয়ে লন্ডনের রেভেনাসবোর্ন কলেজে এসেছে ২০১৭ সালে, উন্নত  বিশ্বের সাথে পরিচিত হচ্ছে। এই মেলায় প্রদর্শিত সফটওয়ারটি ছিল কোনো শিশু জলে পড়লে কিভাবে তার মা-বাবা জানবেন এবং তৎক্ষণাৎ তাকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। ঘড়ির মতো একটি ডিভাইস থাকবে শিশুটির কবজিতে-আরেকটি ডিভাইস থাকবে মা-বাবার কাছে, কোনো নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলেই ডিভাইসটি সতর্ক বার্তা দেবে। এটা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী। এই সফটওয়ারটির প্রদর্শনীতে সহ-প্রেগড়ামার ছিল বর্তমানে কবির উদ্দিনের সহধর্মিণী এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রোকশানা আকতারও ।  
কবির উদ্দিন এবার ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে এসেছে বেশ কয়েকটি  এক্সপো মেলা ও  সেমিনারে অংশ নিতে। এর মধ্যে সে অংশ নিয়েছে গত ৪-৫ মে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত প্লে এক্সপো। ডানস্টবলের ওয়াদার ফি? একাডেমীতে প্রোগ্রামিং শিক্ষার সফটওয়ার প্রদর্শন ডমঢণ.ডমব ওয়েবসাইটে গেলেই বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া আগামী ২৬ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত নরউইচ গেইম ফ্যাস্টিভালে যোগদান করবে কবির।  এর আগে কবির উদ্দিন মোট ৮ বার যুক্তরাজ্যে এসেছে। ২০১০, ২০১৪ তে দুবার, ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে। সবগুলো সফরই বিভিন্ন এক্সতে যোগদান ও চ্যারিটির নানা কাজে। এর ব্যয়ভার কখনো বহন করেছেন মি. লুক নিজে, কখনো চ্যারিটি সংস্থার সৌজন্যে। যুক্তরাষ্ট্রেও কবির উদ্দিন গিয়েছে ওয়াশিংটনে মাইক্রোসফট হেডকোয়াটারে ২০১৭ সালে একটি আর্ন্তজাতিক সেমিনারে, সঙ্গে ছিলেন মি. লুক ডয়েলও।  বিভিন্ন দেশ ও নানা এক্সপো মেলায় যোগদান করে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে এবং যে সাহস তৈরী হয়েছে-কবির উদ্দিন এখন স্বপ্ন দেখছে।  কথার শেষ পর্যায়ে তার স্বপ্নের কথা জানালো। সে একটি আইটি ইন্সটিটিউট করতে উদ্যোগ নিয়েছে, এজন্য ৮ শতক ভূমি সিলেটে ক্রয় করেছে, এর অর্থ দিয়েছে কয়েকটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান। বহুতল ভবন নির্মাণ করবে সেখানে। আমি জিজ্ঞেস করলাম-এতো টাকা পাবে কই? উত্তরে সে হেসে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললো, চ্যারিটি সংস্থা সমূহের সহায়তা নেবার চেষ্টা করবো, যে প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে আমাদের সহায়তা করছে-তারা তো  আছেই। তবে ফাণ্ড রাইজিংয়ে আগামী অক্টোবরে সে ইংল্যান্ডের বরমাউথে অনুষ্ঠিতব্য ম্যারাথন দৌঁড়ে অংশ নেবে। তার আশা, বড় একটা ফান্ড সংগ্রহ হবে তখন।   
সব কিছু শুনে মনে হলো-কবিরকে স্বপ্ন দেখানোর মানুষ মি. লুক ডয়েল একজন নিরহংকার শিক্ষানুরাগী শিক্ষক শুধু নয়- মানব তৈরীর এক অসামান্য দূত এই লোকটি। কবির উদ্দিন তাঁর অবদান সম্পর্কে বার বার বলছিল নানা উচ্চতায়। জীবনকে ঘুরিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করার দীপ্তি ছিল কবিরের প্রতিটি কথায়।  
মি. লুক ডয়েলের হাতে গড়া সিলেটের আইটি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা ক্যাফে’তে আছেন ৬ জন শিক্ষক। এদের প্রদেয় বেতন ৬ হাজার থেকে ত্রিশ হাজার টাকা মাসে। কোনো চ্যারিটি সংস্থা থেকে যদি এই অর্থ সংগ্রহ সম্ভব না হয়-মি. লুক যুক্তরাজ্যে তার শিক্ষকতার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তা সংকুলান করেন। এতে তার পিতামাতারও উৎসাহ কম নয়।  
কবির উদ্দিন তাদের প্রকল্পের নানা উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে বললো, আমরা সিলেট অঞ্চলের প্রত্যন্ত কোনো গ্রাম এলাকার যে কোনো স্কুলের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে চাই। যেমন এমন কোনো স্কুল রয়েছে, যাদের কম্পিউটারসহ সব ব্যবস্থাদি আছে, কিন্তু প্রশিক্ষক নেই- সে সব স্কুলে আমরা আমাদের দক্ষ প্রশিক্ষক দিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত আছি-তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সম্মানি দিবেন-যা আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাফে’র ব্যয় বহন করার কাজে ব্যবহৃত হবে। আবার যাদের সামর্থ আছে-কিন্তু কম্পিউটার ও ল্যাবের ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে আমাদের বিশেষজ্ঞ সেবা দিয়ে ল্যাব স্থাপনসহ যথাযথ প্রশিক্ষণদান অল্প টাকার বিনিময়ে করার জন্য সে প্রস্তুতিও আমাদের আছে। তবে সব কিছই দ্বিপাক্ষিক বোঝপাড়ার মাধ্যমে কার্যকর বা বাস্তবায়ন করা হবে।  
কবিরের এসব সাহসী কথা শুনে বললাম-অনেক বড় ভাবনা তোমার। এগুলো বাস্তবায়নে তো শুধু সাহস নয়, অর্থেরও দরকার। সে জানালো, দেশে-বিদেশে অনেক বিত্তবান আছেন-যারা সামাজিক নানা কাজে আর্থিক সহায়তা করে থাকেন, তাদের কাছে আমাদের বার্তা-আসুন, সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তানদের পাশে দাঁড়াই, তাদের কঁচি কঁচি হাতকে সৃষ্টিশীল করি তুলি, আমরাও প্রস্তুত রয়েছি আপনাদের সহযোগী-বন্ধু হিসেবে। এ ক্ষুদ্র সেতু বন্ধনই হতে পারে  জাতির জন্যে এক অভাবনীয় ঘটনা-যা বিশ্ব দরবারে আমাদের বাংলাদেশের উচ্চতা আকাশ সমান হতে পারে। কিন্তু কবিরের কথাগুলোর ভেতরে আমি বার বার দেখতে পাই লুক ডয়েলকে, বাংলাদেশে স্বপ্নচাষ করা এই বিদেশী বন্ধুটিকে। কথা শেষ করতে গিয়ে শেষ হলো না। কবির কথায় কথায় বললো, সুযোগ পেলে মি. লুক ডয়েলকে নিয়ে পত্রিকা অফিসে দু’এক দিনের মধ্যে আসতে পারি। ২৩ মে সকালে কবিরের ফোন। বিকেল সাড়ে চারটায় এসে হাজির মি. লুক ডয়েল ও কবির উদ্দিন। এই সুযোগে আমার লেখাটির ছোটখাটো তথ্য সংশোধন করার পর আমরা কিছু চমৎকার স্নিগ্ধ সময় পার করি। উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী। গোটা কয়েক ছবিও তোলা হলো। অন্যত্র যাওয়ার তাড়া থাকায় অল্প সময় পরই  বিদায় দিলাম মি. লুক ডয়েল ও কবিরকে।
মি. লুক ডয়েলের প্রতি আমাদের সীমাহীন শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। শত অভিনন্দন স্বপ্ন না-দেখা তরুণ কবির উদ্দিনকে স্বপ্ন দেখানোর জন্যে। অভিবাদন শত ঝরে-পড়া শিশু-কিশোর-কিশোরীকে প্রেরণা যোগানোর জন্যে। শুভেচ্ছা জানাই পৃথিবীকে বদলে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে কর্মে বিভোর স্বপ্নচারি কবির উদ্দিনকেও। কবিরের এই স্বপ্নের পথযাত্রা নিয়ে আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন ডটততণঠঢআথবটধফ.ডমব ই-মেইলে এবং ষষষ.ডটততণঠঢ.মরথ ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন।