Share |

কড়া নাড়ছে : ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

উদয় শঙ্কর দাশ
চার বছর পর ক্রিকেট বিশ্ব আবার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সেরা ক্রিকেট উৎসবের জন্যে। দক্ষিণ লন্ডনে কেনসিংটন ওভালে বৃহস্পতিবার ৩০ মে দ্বাদশ ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যাণ্ড। মাসদেড়েক পর, উত্তর লন্ডনে ক্রিকেটের প্রাণকেন্দ্র লর্ডসে আরও ৪৬টি খেলার পর ১৪ জুলাইয়ে ৪৮তম ম্যাচ শেষে- বিশ্ব জেনে যাবে কোন দেশের হাতে উঠবে ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফি।  এবাবের বিশ্বকাপ হবে গতবারের চাইতে ভিন্ন পদ্ধতিতে। ২০১৫ সালে অংশগ্রহণকারী ১৪টি দলকে দু’টি গ্রুপে ভাগ করে লীগ পদ্ধতিতে খেলা হয়। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে শীর্ষ চারটি দল এগিয়ে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে এবার অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা কমানো হয়েছে দশে। প্রত্যেক দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে এবং পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা চারটি দল লড়বে সেমিফাইনালে। তাই এবারের বিশ্বকাপ হবে অনেক বেশি উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সেমিফানালে পৌঁছাতে হলে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হবে প্রত্যেক দলকে।  এবার বিশ্ব র‌্যাংকিং অনুযায়ী নজর দেয়া যাক অংশগ্রহণকারী দলগুলোর দিকে।
 ইংল্যাণ্ড
ওডিআই র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ দল ইংল্যাণ্ড। এর আগে তিনবার ফাইনালে পৌঁছালেও ইংল্যান্ডের শিরোপা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে এবার ইংল্যাণ্ডকে ফেভারিট দলগুলোর একটি বলে গণ্য করা হচ্ছে। তাদের রয়েছে শক্তিশালি ব্যাটিং। সাত নম্বর পর্যন্ত রয়েছে চৌকস ব্যাটসম্যান। নজর রাখতে হবে জস বাটলারের দিকে। তার ব্যাট থেকে এবার প্রচুর রান বেরুবার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও জেসন রয়, বেয়ারস্টো, অধিনায়ক মরগান অলরাউন্ডার বেন স্টোকস এবং মঈন আলী দলের ব্যাটিং শক্তি বেশ বাড়িয়ে দেবে।
বোলিংয়ে ওকস, উড, প্লাংকেট-এর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নবাগত জফরা আর্চার, ফাস্ট বোলিংয়ে দলের ধার বাড়িয়ে দেবেন সন্দেহ নেই। ইংল্যাণ্ডের দুই স্পিনার আদিল রশিদ ও মঈন আলী দলের সাফল্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষ করে লেগ স্পিনার রশিদ। তার উপর রয়েছে অধিনায়কের অগাধ বিশ্বাস। ইংল্যান্ডের শেষ চারে পৌঁছাবার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। নিজ দেশে এবং পরিচিত পরিবেশে খেলার বাড়তি সুবিধা রয়েছে তাদের।  
ভারত
বিরাট কোহলির নেতৃত্বে র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ভারতের শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যানের রেকর্ড অনেকের ঈর্ষার কারণ। বিশ্বকাপে তাদের রেকর্ডও তেমন খারাপ নয়। তিনবার ফাইনালে খেলেছে ভারত, শিরোপা জিতেছে দু’বার। এই দশকেই দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতার লড়াইয়ে নামছে ভারত। 
তিন ব্যাটসম্যান- রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান এবং কোহলির রেকর্ড অতুলনীয়। গত বিশ্বকাপের পর এই তিনজনের ব্যাট থেকে বেরিয়েছে ৪২টি শতক। দলের ৫১ শতাংশ রান এসেছে তাদের ব্যাট থেকেই। তবে দুর্বলতা হচ্ছে-মিডল অর্ডার ব্যাটিং। এখানে নির্ভর করতে হবে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এম এস ধোনির উপর। কিন্তু সম্প্রতি ধোনির ব্যাট থেকে তেমন রান বেরুচ্ছে না। তবুও কোহলি তার পাশে এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে রাখতে চান। বোলিংয়ে বুমরাকে একদিনের খেলায় অন্যতম সেরা বোলার গণ্য করা হয়। তার সঙ্গে থাকবেন ভুবনেশ্বর কুমার ও মোহাম্মদ শামী। তবে বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে স্পিন বোলিং জয়-পরাজয় নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। গত বছর ইংল্যান্ডেই বাঁ-হাতি স্পিনার কুলদীপ ইয়াদব নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। দলে রয়েছেন স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজাও। 
অল রাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়াও যদি সুযোগ ব্যবহার করতে পারেন-সেটাও হবে দলের জন্য বাড়তি পাওয়া। ভারতের শীর্ষ চারে থাকার সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে। 
দক্ষিণ আফ্রিকা
নব্বইয়ের দশকে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার পর সাতবার বিশ্বকাপ খেললেও শক্তিশালি দক্ষিণ আফ্রিকা একবারও ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি, যদিও র‌্যাংকিংয়ে এখন তারা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তবে সম্প্রতি তাদের ওডিআই রেকর্ড চোখে পড়ার মত। গত ৭টি সিরিজে জয়ী হয়েছে ৬টিতে। ডিভিলিয়ার্স অবসর গ্রহণ করায় দলের ব্যাটিং শক্তি অবশ্যই খর্ব হয়েছে। তবে দু প্লেসি, দ্য কক, দুমিনি এবং হাসিম আমলা এবারের বিশ্বকাপে জ্বলে উঠবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ফর্মে কিছুটা ভাটা পড়লেও হাসিম আমলা কোহলির চাইতে ১১ ইনিংস কম খেলে ওডিআইয়ে ৭ হাজার রান পূর্ণ করেছেন। এছাড়া ইংল্যান্ডে তার গড় ৫৭ রান।
বোলিং আক্রমণে থাকবেন- ডেইল স্টেইন, রাবাদা, এনগিদি এবং স্পিন বোলার ইমরান তাহির, যাদের একদিনের খেলায় গড়ে ২৭ রানের কম দেয়ার রেকর্ড রয়েছে। স্টেইনের জন্য এটা হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবারের মত ফাইনালে নেয়ার জন্য তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করবেন। চমক সৃষ্টি করতে পারেন বাঁ-হাতি স্পিনার তাবরাইজ শামশী।
 সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দলটি গড়া হয়েছে বেশ ভারসাম্য রক্ষা করে। ব্যাটসম্যানরা ভালো রান করতে পারলে তারা পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা যায়। 
 নিউজিল্যান্ড
ইংল্যান্ডে এর আগে তিনটি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে পেরেছে। আর গতবারের বিশ্বকাপে পুরো প্রতিযোগিতায় ভালো খেলে ফাইনালে তারা হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে।
ব্যাটিংয়ে নির্ভর করতে হবে অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন, রস টেইলার ও মার্টিন গাপটিলের উপর। ৩৫ বছর বয়স্ক টেইলার এখন দারুন ফর্মে রয়েছেন এবং ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর-তার ব্যাটিং গড় ৮১। তবে উইলিয়ামসন গত মার্চ মাসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে আহত হবার পর, তিনি কতটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন- তা দেখার বিষয়।
বোলিং আক্রমণে ইংল্যান্ডের পরিবেশে ট্রেন্ট বো? বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। ফাস্ট বোলিংয়ে তার সাথে সহায়তায় থাকবেন দুই ফাস্ট বোলার টিম সাউদি ও লকি ফারগুসন। আছেন স্পিনার সেন্টনারও। স্পিন বোলার ইশ সোদী যদি সুযোগ পান তাহলে ইংল্যান্ডে তিনি কতটা সফল হবেন তাও দেখার বিষয়। 
অনুশীলন ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বেশ বেড়েছে। তাদের অগ্রগতির দিকে নজর রাখতে হবে।
 অস্ট্রেলিয়া
পাঁচবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জনকারী অস্ট্রেলিয়া এখন র‌্যাংকিংয়ে নেমে এসেছে পঞ্চম স্থানে। তবে বছর দুয়েক খারাপ খেলার পর, দলটি আবার পুরনো ফর্মে ফিরে আসছে। বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে শাস্তি ভোগ করার পর, দলে ফিরে এসেছেন সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নার। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুশীলন ম্যাচে জয়ে স্মিথ করেছেন শতক। এছাড়াও পাকিস্তান ও ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় দলের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। 
ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটি ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার যে কোনো বিপক্ষের জন্য ভীতির সঞ্চার করতে পারেন। স্মিথ ফিরেছেন ফর্মে। ব্যাটসম্যান হিসেবে আছেন খোয়াজা এবং শন মার্শ। তবে তাদের দ্রুত রান করার চেষ্টা করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিংও বেশ শক্তিশালি। দুই ফাস্ট বোলার স্টার্ক ও কামিন্স ইংল্যান্ডের পরিবেশে সুবিধে পাবেন। সঙ্গে আছেন বেরেনডর্ফ, কু?ার নাইলস ও মার্কাস স্টইনিস।
দুই স্পিন বোলার ন্যাথান লায়ন ও আ্যাডাম জ্যাম্পা বোলিংকে আরো শক্তিশালি করে তুলবেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে ইন্দ্রপতন না ঘটলেই হয়! 
 পাকিস্তান
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়লাভ করেছিল পাকিস্তান ১৯৯২ সালে। এরপর ২০১৭ সালে পেলো চ্যাম্পিয়ান ট্রফি শিরোপা। তারপর থেকে দলে নামলো ধস। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ হারলো ৪-০তে। গত ২০টি ওডিআইয়ে হেরেছে ১৭টিতে। আর সম্প্রতি অনুশীলন ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে পরাজিত হয়েছে পাকিস্তান। র‌্যাংকিংয়ে ৬ নম্বরে থাকলেও এবারের বিশ্বকাপে তারা কতটা ভালো করবে তা বলা মুস্কিল। ব্যাটিংয়ে নির্ভর করতে হবে বাবর আজম, ফাকার জামান এবং অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজের ওপর।
ফাস্ট বোলিং আক্রমণও কাগজেকলমে বেশ শক্তিশালি কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবে তেমন সাফল্য বোলাররা দলকে এনে দিতে পারছেন না। স্পিন বোলার শাদাব এবং ইমাদ যদি প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন, তাহলে দলের সম্ভাবনা রয়েছে।  আরও যে বিষয়টা দেখতে হবে- সেটা হচ্ছে অধিনায়ক সরফরাজ আহমদ বোলারদের কিভাবে ব্যবহার করেন, কখন কার হাতে বল তুলে দিচ্ছেন তার ওপর। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের পারফর্মেন্স কেমন হবে সে ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন।  
বাংলাদেশ
১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর, আরও চারটি বিশ্বকাপে খেলেছে বাংলাদেশ। তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৫ সালে যখন তারা গ্রুপ পর্যায়ে শক্তিশালি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছায়। শেষ আটে ভারতের বিরুদ্ধে বেশ ভালো প্রতিরোধ গড়েই হেরেছিল।  তবে ১৯৯৯ সালে স্কটল্যান্ড এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ দলে রয়েছে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়ের মিশ্রণ। তামিম ইকবাল বিশ্বের অন্যতম নির্ভরশীল ওপেনিং ব্যাটসম্যান। মুস্তাফিজুর রহমান পুরোপুরি সুস্থ থাকলে বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন। দলে আছেন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, অভিজ্ঞ অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তাজার পাশে মুশফিকুর রহমান ও মাহমুদ উল্লাহ। দলকে ভালো করতে হলে ব্যাটিংয়ে মোসাদ্দেক হোসেন, সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুনকে সফল হতে হবে। তবে আমার মতে, মারকুটে ব্যাটসম্যান লিটন দাস এবার চমক সৃষ্টি করবেন।
বোলিংয়ে তরুণ ফাস্ট বোলার আবু জায়েদ এবং স্পিনার মেহেদী হাসান এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।  সবমিলিয়ে মোট ৯টি খেলার মধ্যে অন্তত চারটি জেতার সম্ভাবনা অবশ্য রয়েছে। আর শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে একটিকে হারাতে পারলে সেটাও কম সাফল্য এবং অর্জন হবে না। তাতে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকতেও পারে। বাংলাদেশের ওপর অনেকের রয়েছে এবারের বিশ্বকাপে ভালো করার আশা।  
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে শিরোপা জেতার পর, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে পৌঁছে মাত্র আর একবার। দলে ক্রিস গেইলের মত মারকুটে ব্যাটসম্যান, শিমরন হেটিমাইয়ার-এর মত মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আর শেষের ওভারগুলিতে আদ্রে রাসেলের মতো অপ্রতিরোধ্য খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়ের মুখ দেখেনি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে। গত পাঁচ বছরে কোনো দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিদেশীয় সিরিজ তারা জেতেনি, যদিও ওশেইন টমাস, শেনন গেব্রিয়েল ও কেমার রোচ-এর মত ফাস্ট বোলার রয়েছেন দলে। 
অধিনায়ক জেসন হো?ারের ব্যক্তিগত সাফল্যও উল্লেখ করার মত। গত বিশ্বকাপের পর যে পাঁচ জন এক হাজার রান করেছেন এবং ৫০টি উইকেট নিয়েছেন, তাদের একজন তিনি।
তবুও, এককালের অন্যতম সেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবারের বিশ্বকাপে কতটা এগুতে পারবে-তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে অনেকেরই যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। 
শ্রীলঙ্কা
অর্জুনা রানাতুঙ্গেঁ, কুমার সাঙাকারা, জয়বর্ধনে, জয়সুরিয়া, চামিন্ডাভাসের মত খেলোয়াড়ের নাম মনে পড়ে যখন শ্রীলংকা ক্রিকেট দলের কথা ওঠে। ১৯৯৬ সালে তারা বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারতে। তিন তিনবার ফাইনালে খেলেছে। কিন্তু এখন শ্রীলংকা ক্রিকেট দল সম্পর্কে বলার মত তেমন কিছু নেই। গত ১৬টি একদিনের খেলায় জয়লাভ করেছে মাত্র ২টিতে। ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপেও তাদের রেকর্ড তেমন ভালো নয়। ১৬ ম্যাচে চারটি জয় এবং চারবারই গ্রুপ পর্যায়ে বিদায়। সম্প্রতি দলে এসেছে রদবদল। লাসিথ মালিঙ্গার জায়গায় অধিনায়ক করা হয়েছে করুনারতœকে। 
৩৫ বছর বয়স্ক মালিঙ্গা অবশ্য দলে রয়েছেন। এবং তার শেষ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডে কতটা সফল তিনি হবেন- সেটাই দেখার বিষয়। আর ৭ টা উইকেট নিতে পারলে বিশ্বকাপে তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়াবে পঞ্চাশে। ক্রিকেট মহলের ধারণা, এবার শ্রীলংকা কোনোও খেলায় জয়লাভ করতে পারলে সেটাকেই সাফল্য বলে ধরে নেয়া যাবে।  
আফগানিস্তান
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্ব ক্রিকেটে নিঃসন্দেহে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে আফগানিস্তান। বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক হয় ২০১৫ সালে। বিশ্বের অন্যতম সেরা অল রাউন্ডার রাশীদ খান এখন একটি পরিচিত নাম। রৌদ্রোজ্জ্বল মাঠে বল যদি কিছুটাও ঘুরে এই লেগস্পিনারের বলে অনেক নামীদামী ব্যাটসম্যান যে ধরাশায়ী হবেন-তা সহজেই বলা যায়। সঙ্গে আছেন আরও একজন তরুণ স্পিনার মুজিব উর রহমান এবং ৩৪ বছর বয়স্ক অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবী। 
দলের দূর্বলতা অবশ্য ব্যাটিংয়ে। এবং ইংল্যান্ডের পরিবেশে জয়ের সম্ভাবনাকে জিইয়ে রাখতে হলে-তাদের ভালো করতেই হবে, যাতে বোলাররা তাদের দলের জন্য সুবিধা আদায় করতে পারেন। অনুশীলন ম্যাচে তারা হারিয়েছে পাকিস্তানকে রান তাড়া করে এবং তাতে মহাম্মদ শাহজাদ, হজরত উল্লা, রহমত শাহ ও হাসমত উল্লা যেভাবে ব্যাট করেছেন-তাতে দল উৎসাহিত বোধ করবে।  আফগানিস্তান অবশ্যই এবারের বিশ্বকাপে চমক সৃষ্টি করবে। তাদের প্রথম খেলা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। সেই খেলার দিকে তাকিয়ে থাকবে অনেক ক্রিকেট অনুরাগী। 
 শেষ প্রশ্ন
ক্রিকেট সব সময় অনিশ্চয়তার খেলা। তাছাড়া ইংল্যান্ডের অনিশ্চিত আবহাওয়া খেলার হিসাব পা?ে দিতে পারে। মাত্র ১০টি দেশ অংশ নিলেও সারা ক্রিকেট বিশ্বে, ক্রিকেটামোদীদের জন্য তা বয়ে আনে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও উত্তেজনা। টিকেট সংগ্রহের জন্য হুড়োহুড়ি, দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার এবং নিজেদের দলকে সমর্থনের প্রবল আগ্রহে মেতে ওঠে তারা। তার ওপর কোটি কোটি টেলিভিশন দর্শক তো রয়েছেনই। 
চূড়ান্ত প্রশ্ন অবশ্য- কে অর্জন করবে এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ শিরোপা? বলা খুব কঠিন। এবারের পদ্ধতিতে-ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্য থেকে চারটি দেশের  সেমিফাইনালে পৌছাবার সম্ভাবনা বেশি। এরপর যারা ভালো খেলবে, তারাই ফাইনালে গিয়ে শিরোপা তুলে নেবে। 
মঞ্চ প্রস্তুত। কোটি কোটি ক্রিকেট অনুরাগী বিশ্বের সবচেয়ে বড়, আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর্দা ওঠার জন্য অপেক্ষা করছে অধীর আগ্রহে।