Share |

অপরাধ থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় চাই সামাজিক আন্দোলন

‘টাওয়ার হ্যামলেটসে আবারো বাঙালি যুবক খুন’- শিরোনামের সংবাদ বিচলিত করেছে পূর্ব লন্ডন তথা ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষকে। গত ২৬ মে পূর্ব লন্ডনের সেন্ট পলস ওয়েতে স্কুলের সামনে সংঘটিত ছুরিকাঘাতে বাঙালি এই যুবক নিহত হয়। এ ঘটনায় আরেকজন আহতও হয়েছে। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। 
দেখা যাচ্ছে, খুনোখুনিসহ নানা অপকর্ম ঘটছে পূর্ব লন্ডনে এবং এসব ঘটনায় বাঙালি যুবকরা জড়িত। দেখা যায়- এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে মাদকাসক্তিসহ সংশ্লিষ্ট অবৈধ ব্যবসা। সামাজিক ক্ষেত্রে এই অবক্ষয়ের অভিঘাত বাঙালি পাড়ায় দীর্ঘদিন যাবত চলে আসছে। কয়েক বছর যাবত ঘটে চলা এসব ভয়ঙ্কর ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি হলেও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। 
দেখেশুনে মনে হচ্ছে- মূলত সামাজিক এই অবক্ষয়ের জন্য অংশত দায়ী আমাদের অভিভাবক মহলের সচেতনতার অভাব এবং অনেকাংশে নির্লিপ্ততা। আর এসব ব্যাধি বৃদ্ধি পাচ্ছে যেসব কারণে বিশেষত তা চি?িত না করা। 
আমাদের বাঙালি কমিউনিটিতে রয়েছে শত শত সামাজিক সংগঠন। যে সংগঠনগুলো সমাজকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত। দেখা যায়, এসব সংগঠন নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, চাকুরী, ব্যবসাসহ সমাজে নানা ক্ষেত্রে সাফল্যকে উৎসাহ দিতে কাজ করছে। নুতন প্রজন্মের অর্জনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু নৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয়রোধে তেমনভাবে কোনো সংগঠনেরই উপযুক্ত পদক্ষেপ বা কর্মসূচী নেই। কথা হচ্ছে, শুধু পুলিশ বা আইনী তৎপরতা দিয়ে কোনোভাবেই অবক্ষয় যে রোধ করা যায় না, তা প্রমাণিত হয়েছে পর্যায়ক্রমে অপরাধ প্রবণতার বৃদ্ধি। তাই, মনোযোগ দিতে হবে কিভাবে আমাদের সন্তানদের এসব অপরাধ জগত থেকে দূরে বা মুক্ত রাখতে হবে। 
আন্দোলন ছাড়া কোনো অর্জনই সম্ভব নয়, এটা সকল মহলেরই জানা। শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাই সামাজিক আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে এখনই দাঁড়াতে হবে, এখনই ডাক দিতে হবে আমাদের প্রজন্মকে রক্ষার। আসুন, আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। প্রয়োজন কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ। 
আসুন, অপরাধের প্রতিকারে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাতে সহযোগিতা দানের পাশাপাশি আমাদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এমন উদাহরণ সৃষ্টি করি যাতে বাঙালি সন্তানরা কর্মে, উদ্দীপনায় সমাজে সেরা হয়ে উঠতে পারে। এরা যেনো অপরাধী হিসেবে সমাজের বোঝা না হয়ে সমাজের অগ্রগতির দিশারী হতে পারে। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ বা অবদান সমাজের এসব ব্যাধির অবসান ঘটাতে এই সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করতে পারে। সেই চেষ্টা হতে হবে আমাদের সকলের। 
ইতোমধ্যে বহু প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ প্রাণ ঝরে গেছে মাদকের ছোবলে। ধারণা করা অসঙ্গত হবে না, এই অন্ধগলিতে আরও বহু তরুণ-তরুণীর জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। সুতরাং সময় নষ্ট করবার সময় নেই আর। আমাদের সক্রিয় হতে হবে এখনই।