Share |

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মাঠে প্রবাসী বাঙালির দেশপ্রেম ও ভালোবাসার নজির

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ক্রীড়াযজ্ঞে ব্রিটেনের মাঠে প্রবাসী বাঙালির উপস্থিতি এং সমর্থন বরাবরের মতো এবারেও অত্যন্ত উদ্দীপনামূলক। যে কোনো খেলা বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মাঠের সমর্থন কতটুকু প্রয়োজন তা ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মাঠের পরিবেশ যারাই মিনি পর্দায় বা মাঠে বসে দেখছেন-তা অবলীলায় স্বীকার করবেন।
দেশের প্রতি প্রবাসীদের অসাধারণ মমত্ববোধ তা আলাদাভাবে যেন জানিয়ে দিচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের প্রতি প্রবাসের বাঙালিদের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনও নানাভাবে উপলদ্ধি করার মতো।   
যে মাঠেই বাংলাদেশের ক্রিকেট টিম খেলতে যাচ্ছে, সেই মাঠেই হাজার হাজার বাঙালি দর্শক ছুটে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যাওয়া, শুধু খেলা দেখা নয়, মূলত সমর্থনটা খেলোয়াড়দের জন্য ছুঁড়ে দেয়াও উদ্দেশ্য। যার কারণে লাল-সবুজ পতাকাবাহী জার্সিতে গ্যালারি রঙিন হয়ে উঠছে প্রতিদিন। 
বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ইংল্যাণ্ডের অভিজাত ওভাল, ব্রিস্টল ও টনটন আর কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন ভেন্যুতে মোট চারটি খেলায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনই সাউথ আফ্রিকাকে পরাজিত করেছে ৩৬ রানে। স্বাগতিক ইংল্যাণ্ডের সাথে ১০৬ রানে বিশাল ব্যবধানে হেরেছে। কিন্তু ব্রিস্টলে বৃষ্টির জন্য খেলা হয়নি, পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছে। ১৭ জুন টনটনে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে জয়লাভ করেছে ৭ উইকেটে। যে খেলার টান টান মাঠের উত্তেজনা সঞ্চারিত হয়েছিল মিনি পর্দার দর্শকদের মধ্যেও। 
বিভিন্ন রিপোর্ট মতে, প্রথম দিনের খেলায় মাঠের ২৫ হাজার দর্শকের মধ্যে ১৭ হাজার বাঙালি ছিলেন। একইভাবে কার্ডিফে ৮০ ভাগ দর্শক বাঙালি এবং ব্রিস্টলে বৃষ্টি খেলা বিঘিœত হতে পারে জেনেও বাঙালি সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল সর্বাধিক। টনটনেও মাঠ কাঁপিয়েছে বাঙালি দর্শকরা।  আমরা সবাই জানি, প্রবাসী বাঙালিরা দেশের যে কোনো সংকটে যেভাবে অতীতে জানবাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, আনন্দেও তেমনি উদ্বেলিত হতে দেখা গেছে তাদেরকে সর্বদা। 
তবে আমরা মনে করি, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের নানা নেতিবাচক ভাবমূর্তি সত্ত্বেও এ ধরণের বিশ্ব পরিসরের খেলায় অংশ নেয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ক্রীড়ানৈপূণ্য আর বিশ্বমানের দক্ষতা প্রদর্শন প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে তাদের পূর্বসূরীদের জন্মভূমি ও বাঙালি জাতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সহায়ক হবে। এই অর্জনটাও হেলা করার নয়। এরপর, কোনো খেলায় যদি জয় আসে, তা হলে তো কথাই নেই। উদ্দীপনা, উত্তেজনা আর আকাঙক্ষাও শতগুণে বেড়ে যায়। 
সবশেষ বলতে চাই, প্রবাসীদের দেশপ্রেম আর ভালোবাসা চিরদিন এইভাবে জাগ্রত থাকুক সাফল্যে এবং সংকটে, সর্বক্ষেত্রে।