Share |

চ্যারিটির অর্থ সংগ্রহে অনুসরনীয় পথ

চ্যারিটি কর্মকাণ্ড যেমন সারা বিশ্ব জুড়ে লক্ষ লক্ষ বিপন্ন মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসছে, জীবন বাঁচাচ্ছে ঠিক তেমনি চ্যারিটি সংগঠনগুলোর নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনাও রয়েছে। এর মধ্যে অসহায়দের প্রতি চ্যারিটি কর্মীদের অগ্রহণযোগ্য আচরণের গুরুতর অভিযোগ আছে। আছে দাতাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বড় অংশ প্রশাসনিক কাজে ব্যয়ের।  
এই অত্যধিক ব্যয়?নিয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রিটেনের চ্যারিটি কমিশনের প্রকাশিত রিপোর্টে এই বিতর্কে?নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। নানা রিপোর্ট মতে, ব্রিটেনের মুসলিম কমিউনিটি সবচেয়ে বেশি দান করে থাকেন। সেই কারণে চ্যারিটির আয়-ব্যয় নিয়ে নানা কথা চালু আছে কমিউনিটিতে।  এই পরিস্থিতিতে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার কিছু তরুণ নেমেছে অসহায়দের জন্য তহবিল সংগ্রহে। সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরীর এক লেখা থেকে জানা গেছে, ভিক্ষার থালা হাতে নয়, ওই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণরা গাড়ি ধোয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কাজ করে অর্থ সংগ্রহ করছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য। তাদের মতে, পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে অসহায়দের সেবায় এগিয়ে আসতে পারা অনেক মর্যাদার। কমিউনিটি নেতারা বলছেন, বাংলাদেশি কমিউনিটির তরুণদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের নজির সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। কারণ, টাওয়ার হ্যামলেটসের বাংলাদেশি তরুণদের একটা বড় অংশের মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এখানকার ২০ থেকে ৩০ জন তরুণের একটা দল নেমেছে আর্তমানবতার সেবায়। ফি?গেট ব্রাদারস নামের এক সংগঠনের ব্যানারে তারা গাড়ি ধুয়ে তহবিল সংগ্রহ করছে। অন্যদেরকেও তারা উদ্বুদ্ধ করছে তাদের এই শুভ উদ্যোগে সামিল হতে। কেবল গাড়ি ধোয়া নয়, অনলাইনে পেজ খুলে এবং রাস্তায় তাঁবু টানিয়ে তারা চকলেট, কেক ও বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস বিক্রি করছে। সেই অর্থও জমা হচ্ছে অসহায়দের তহবিলে। ২০১৮ সালের মে মাসে আত্মপ্রকাশ করে ফি?গেট ব্রাদারস নামের সংগঠনটি।  
এরইমধ্যে বাংলাদেশের দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের একাংশ তাদের কাছে সহায়তা পেয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমার, সিরিয়া ও কেনিয়ার অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরাপর সংগঠনগুলোর মতো তাদের নির্দিষ্ট কোনও দলনেতা নেই।
সংগঠনের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই নেতা এবং প্রত্যেকেই সমান দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বছর তারা ৩০ হাজার পাউন্ড সংগ্রহের লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছেন। জুন মাসে সংগঠনটি বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড স্ট্রিটে গাড়ি ধোয়ার কর্মসূচি পালন করেছে। আয়োজকদের পক্ষে সালেহ আহমদ বলেন, ‘আমরা নিজেরা কিছু একটা করতে চাই। নিজেদের শ্রম দিয়ে আয় করা অর্থ দিয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।’
ভিক্ষা করার মতো করে চ্যারিটি সংগ্রহের চিরাচরিত দৃশ্যের বাইরে এসে তরুণদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই কমিউনিটির নজর কাড়তে শুরু করেছে। আমরা মনে করি চ্যারিটির জন্য এই পথে অর্থ সংগ্রহ অনুসরনীয়।