Share |

জনগণের অর্থ ঋণখেলাপীদের কাছে: ফেরত আনার দায়িত্ব রাষ্ট্র পালন করবে?

বাংলাদেশের বিশাল বাজেট পাশের সাথে প্রকাশিত হয়েছে দেশের ৩০০ শীর্ষ ঋণখেলাপীর তালিকা। এটা এবারের বিশেষ চমক। অন্য কোনো বছরই ঋণখেলাপীর তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, এবারই প্রথম। 
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে ৩০ জুন রোববার। চমক দেখিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশের ৩০০ শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকাও সংসদে উপস্থাপন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। 
এছাড়া অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, এসব ঋণখেলাপির কাছে পাওনার পরিমাণ ৭০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা আর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৫২ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা।
শীর্ষ তালিকার পাশাপাশি পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে পাঁচ কোটি বা কম পাওনা থাকাদের তালিকাও প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। এ তালিকায় দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে ১৪ হাজার ৬১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। খেলাপি হয়েছে ১ লাখ ১৮৩ কোটি টাকা।
বলতে গেলে ব্যাংক লুট, ঘুষ, দুর্নীতি ও চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ বা আর্থিক উপার্জনই ‘কালোটাকা।’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে- যারা ঋণখেলাপী তারা কি ‘কালোটাকা’র মালিক নয়? দেখা যাচ্ছে-বাজেটের আকার প্রতি বছর বাড়ে, ঋণখেলাপীও বাড়ে। সেই সঙ্গে ‘কালোটাকা’ও বাড়ে। তাই ‘কালোটাকা’ সাদা করার বিধান রেখে অতীতের মত এবারও বাজেট পাশ  করে আর্থিক দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।  শীর্ষ ১০ ঋণ খেলাপি হলো-সামানাজ সুপার ওয়েল লিমিটেড (১ হাজার ৪৯ কোটি টাকা) গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড (৯৮৪ কোটি টাকা), রিমেক্স ফুডওয়্যার লিমিটেড (৯৭৬ কোটি টাকা), কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লিমিটেড (৮২৮ কোটি টাকা), মাহিন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড (৮২৫ কোটি টাকা), রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেড (৭৯৮ কোটি টাকা), ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড (৭৭৬ কোটি টাকা), এসএ ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেড (৭০৭ কোটি টাকা), সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড (৬১০ কোটি টাকা) ও গ্রামীণ শক্তি (৬০১ কোটি টাকা)।
একটু ভালো করেই ভাবলে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়- ঋণখেলাপীদের অর্থ এবং কালোটাকা’র মালিকদের কাছে যে সম্পদ জমা হচ্ছে তা আসলেই জনগণের অর্থ। বাজেটে নানা ট্যাক্স আরোপ করে জনগণের নিকট থেকে যে অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা হয়, তা-ই ঘুরে ফিরে চলে যাচ্ছে ঋণখেলাপী আর কালোটাকা’র মালিকদের হাতে। প্রশ্ন উঠতে পারে-দেশের মানুষ  কি এই চক্র থেকে মুক্তি পাবে?
সোজাসাপটা-আকাঙক্ষা হওয়া চাই যে, ঋণখেলাপীরা জনগণের টাকা ফেরত দেবে। রাষ্ট্র সে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যথায় বড় বাজেটে জনগণের কী লাভ?
জনগণের সম্পদ পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সেটি চুরি হোক আর দুর্নীতি হোক যেভাবেই অবৈধ মালিকদের কাছে গেছে সেখান থেকে ফেরত আনার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। কারণ, দায়িত্বশীলদের নজরদারির মধ্যদিয়েই জনগণের সম্পদ লোপাট হয়েছে এবং?হচ্ছে। রাষ্ট্র কি সেই গুরু দায়িত্ব পালন করবে?