Share |

গ্যালারিতে ‘টাইগার ভাই’

তবারুকুল ইসলাম
লন্ডন, ১ জুলাই : লন্ডনের ওভাল কিংবা কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন, যেখানেই বাংলাদেশ খেলছে সেখানেই লাল-সবুজের উচ্ছ্বাস। এদের মধ্যে বাহারি পোশাক আর বিচিত্র ভঙ্গিতে মাঠ কাঁপানো ভক্তদের আলাদা করে খুঁজে নেয় ক্যামেরার চোখ। এবারের বিশ্বকাপে আস্ত বাঘের অবয়ব আর ক্ষিপ্র ভঙ্গিতে গ্যালারি মাতানো এক টাইগার ভক্ত রীতিমত তারকা সমর্থক বনে গেছেন। যেখানে বাংলাদেশ খেলছে, সেখানেই গ্যালারি মাতিয়ে নজর কাটছেন তিনি। কে এই আত্ম উজাড় করা টাইগার ভক্ত? বাংলাদেশের প্রতিটি খেলা দেখতে ছুটে যান পূর্ব লন্ডনের ফরেস্ট গেটের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন। ওই সমর্থকের ছবি দেখাতেই তিনি বললেন, ‘ওহ! টাইগার ভাই। আজকেও (১৭ জুন টন্টনে) তাঁকে পেয়েছিলাম।’ দেলোয়ার বললেন, ‘নাম জানি না, তবে নম্বর বিনিময় করেছি মিসকল দিয়ে। সম্ভবত লুটন শহরে থাকেন।’   
যাই হোক নম্বর তো পাওয়া গেল। সেই নম্বরে গত মঙ্গলবার বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর কথা হলো রাত সাড়ে এগারটায়। ‘টাইগার ভাই’ বলে সম্বোধন করতেই অপর প্রান্তে হাসির এক নির্মল ধারা বয়ে গেল। বললেন, তাঁর নাম মোহাম্মদ ইমাদ আহমেদ। তবে সবুজ নামে সবাই ডাকে। কিন্তু অপরিচিতজনদের কাছে তিনি এখন ‘টাইগার ভাই’। খেলা দেখতে মাঠে গেলে ‘টাইগার ভাই’ বলে সবাই ছুটে আসে। ছবি তোলে। বিষয়টা বেশ মজা লাগে তাঁর কাছে।
এই টাইগার ভক্ত জানালেন, পূর্ব লন্ডনের শ্যাডওয়েল এলাকায় বাসিন্দা তিনি। বাবা ছানোয়ার আহমেদ বেঁচে নেই। মা শারমিন সুলতানা ও তিন ভাইবোন নিয়ে তাঁদের পরিবার। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। জন্ম ও বেড়ে উঠা সিলেটের বালাগঞ্জের গহরপুরের আনোয়ারপুর গ্রামে। বালাগঞ্জের দেওয়ান আব্দুর রহিম দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি করেন। ভর্তি হয়েছিলেন মদন মোহন কলেজে। কিন্তু এইচএসসি শেষ না করেই ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি ‘ওয়েডিং ম্যানেজমেন্ট’ কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেন।
সবুজ বলেন, লন্ডনের বৈশাখী মেলা উপলক্ষ্যে গত বছর তিনি বাঘের পোশাক ও মুখোশ কিনেছিলেন। একান্ত মজা করার জন্য তিনি এসব পরিধান করে মাঠে যান। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি যে এতটা নজর কাটবে তিনি ভাবতে পারেননি। বাংলাদেশ থেকে বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনরা টেলিফোন করে জানায় টিভি পর্দায় তাঁকে দেখাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্ন খবরে তাঁর ছবি। এসব তাঁর উদযাপনী শক্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের এ পর্যন্ত সব খেলা তিনি দেখেছেন। বাকী সব খেলার টিকিটও কাটা আছে। দূরের মাঠের খেলাগুলো দেখতে আগের রাতেই গিয়ে হাজির হন বলে জানান এই ক্রিকেটপ্রেমী।   
কিন্তু চোখ বড় করে দাঁত কেলিয়ে ক্ষিপ্র ভঙ্গির রহস্য কি- ‘আসলে এমন ভঙ্গি কীভাবে হয়ে যায় নিজেই বুঝতে পারি না।’ এই ভক্ত বলেন, দলের হারে প্রচণ্ড কষ্ট পান। আর দল জিতে গেলে তাঁর সমচ্চ ক্লান্তি উবে যায়। ভিন দেশের মাটিতে নিজ দেশকে সমর্থন জোগাতে পেরে ভীষণ গর্বিত ‘টাইগার ভাই’।