Share |

বাংলাদেশের ক্রিকেট : এই হতাশার পুনরাবৃত্তি চাই না

 ক্রিকেট উৎসব চলছে ব্রিটেনে। ক্রীড়া বিশ্ব তাই উদযাপনে মেতেছে, স্টেডিয়ামগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। দেখা গেছে, যে সমস্ত দেশের টিম খেলায় রয়েছে, সে দেশের নাগরিক বা ভক্তদের ভিড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারীগুলো টইটুম্বুর। 
বাংলাদেশে এবং ব্রিটেনে এই ক্রীড়াযজ্ঞে মাঠের গ্যালারী আর বাইরে টিভি স্ক্রীনে ঝুঁকে পড়া উম্মাতাল বাঙালিরা নিদেন পক্ষে লাল-সবুজের টিমকে সেমিফানিালে দেখতে চেয়েছিলেন। বাঙালি-ব্রিটিশ নতুন প্রজন্মও বাংলাদেশের নানা বিষয়ে নেতিবাচক ইমেজকে পাশে ঠেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট সাফল্যের আশায়?এর সমর্থক বনে গিয়েছিলো এই কয়েকটি দিন। টাইগার সমর্থকরা ‘আমরা পারছি এবং?পারবো’ বলে বুক বেঁধেছিলেন। মোটা কথা এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাংলাদেশ নিয়ে আশা জাগানোর এবং গর্ব করার মতো একটা আশ্চর্যরকমের অনুভূতি তৈরী করেছিল।  এবারে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হওয়ার আগ থেকেই বিলেতে বাঙালিদের মধ্যে একটি উচ্ছ্বল আনন্দ আর আগ্রহ প্রবাহমান ছিল। খেলার টিকেট সংগ্রহে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও দেখা দেয়। মাঠের বাইরে বাঙালি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে এমন সাড়া ছিল চোখের পড়ার মতো। কিন্তু বাংলাদেশী কিছু খেলোয়াড়ের দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের অভাব আমাদের নিদারুণভাবে হতাশ করেছে। এ হতাশার কোন সান্তানা নেই। ভারতের সাথে জেতার সম্ভাবনাময় ম্যাচটা যখন ব্যাটসম্যানরা একে একে ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছিলেন তখনো ভক্ত-দর্শকদের রক্ষক্ষরণ কী দেখতে পেয়েছিলেন মাশরাফিরা? আর শেষ খেলায় তো রীতিমতো বিধ্বস্ত বোধ করেছেন বাংলাদেশের সমর্থকরা। 
এই একটি মাত্র ক্রীড়া দিয়েই বাংলাদেশের পরিচয়টি বিশ্ব যতটুকু হিসেব কষে অন্য কিছু দিয়ে বোধহয়?এখন আর তা করে না। অনেক উর্ধে তুলে ধরে এই ক্রিকেটের অর্জন  জাতিকে। প্রবাসী বাঙালিদের দেশের প্রতি বিশ্বাসটিও এমন সুনামে আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে। এসব প্রণোদনায় সিক্ত হওয়া বাঙালি এবার বিশ্ব ক্রিকেটে অনেক আশা-ভরসা করেও বড় ধাক্কা খেল। 
কেউ কেউ মনে করছেন-টিম সিলেশনে বা টিম গঠনেই এর ফাঁক রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট টিম বিশ্ব পরিসরে বর্তমানে যে অবস্থান তৈরী করছে, সেই পথচলায় ক্যাপটেন মাশরাফির অবদান স্মরণীয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অসুস্থতাসহ অন্যবিধ দায়িত্ব পালনকে সবাই বিশেষভাবে দেখছে। মাশরাফিও খেলায় শোচনীয় পরাজয়কে তাঁর দায় বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। এ দায় স্বীকারের পরও সমর্থকরা সবাই তুষ্ট নন। তবে বাংলাদেশের জন্য এবারের বিশ্ব ক্রিকেটে সত্যিকারের একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে সবাই দেখছে সাকিব আল হাসানকে। তাঁর মতে দক্ষতা দেখাতে না পারলেও অন্তত সন্তোষজনক নৈপূণ্য অন্যরা প্রদর্শন করলে বাংলাদেশের আবস্থান সেমিফানাইলে পৌঁছতো। 
সকলের আশা, টিম গঠনে এবারে কোনো ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। ভরসা করতেই পারি- ক্রিকেট বিশ্বকাপ এক সময় বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটবে এবং জয় ছিনিয়ে আনবে পারদর্শিতা দেখিয়ে-যা সম্ভব বলে বিশ্বাস রাখা অমূলক নয়। এই আশায়,এই উদ্দীপনায় শুরু হউক আগামীর পথ চলা।