Share |

শানশওকত ফেলে রাজকুমারী পালালেন কেন?

লন্ডন, ০৮ জুলাই : সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আল মাকতুমের স্ত্রী হায়া বিনতে আল-হুসেইন সম্প্রতি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সৎবোন রাজকুমারী হায়া জার্মানি হয়ে এসেছেন লন্ডনে। সেখানেই তিনি আত্মগোপনে আছেন। অনেকের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছিল, দুবাইয়ের শানশওকত ফেলে হায়া কেন বিদেশ-বিভুঁইয়ে থাকতে যাবেন?
তবে এখন একে একে হাঁড়ির খবর বের হয়ে আসছে। জীবন বাঁচাতে নাকি হায়া দুবাই ছেড়েছেন। দুবাইয়ের শাসক মাকতুমের সঙ্গে বিচ্ছেদ চেয়ে মামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
হায়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষ্যাপা শেখ মাকতুম (৬৯) সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে জ্বালাময়ী কবিতা পোস্ট দেন। সেখানে হায়াকে ‘প্রতারক’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ নারী হিসেবে অভিহিত করেন। হায়া (৪৫) যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৪ সালে মাকতুমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। হায়া মাকতুমের ষষ্ঠ ও সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী।
জানা গেছে, চলতি বছর আশ্রয়ের আশায় পালিয়ে জার্মানিতে যান হায়া। এখন তিনি লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেনসে বসবাস করছেন। সম্প্রতি হায়ার ঘনিষ্ঠ একজন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, কয়েক মাস ধরেই হায়া লন্ডনে থাকছেন। জীবনের ভয়সহ নানা হুমকিতে রয়েছেন। হায়া এখন বিচ্ছেদ চাইছেন।
একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, হায়াকে অপহরণ করে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তবে তিনি লন্ডনে সারা জীবন পার করতে চান। ২০১৭ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হায়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নারীর দুর্দশা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, তিনি নারীবাদী নন। তবে বিশ্বাস করেন, এখানে নারীর ক্ষমতায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর দুবাইয়ের শাসকের এক মেয়ে শেখ লতিফা জেলেদের সহায়তায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। হায়ার বিরুদ্ধে মামলা  সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ধনী শাসক শেখ মোহাম্মেদ বিন রশিদ আল-মাকতুম তাঁর কনিষ্ঠ স্ত্রী ও জর্ডানের প্রয়াত বাদশাহ হুসেইনের মেয়ে রাজকুমারী হায়া বিনতে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে করা ওই মামলায় হায়ার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে তা জানা যায়নি। কবে মামলাটি করা হয়েছে, সেটিও জানা যায়নি।    
রাজকুমারী হায়ার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। জানা গেছে, হায়া যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের উত্তরসূরি চার্লস ও তাঁর স্ত্রী ক্যামেলিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
হায়ার বিরুদ্ধে মাকতুমের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের এক বিচারক বলেছেন, ৩০ থেকে ৩১ জুলাই হাইকোর্টের ফ্যামিলি বিভাগে ওই মামলার শুনানি হবে। তবে এই মামলার বাদী ও বিবাদী কারা, সেই বিষয়টি উল্লেখ করেননি তিনি। আদালত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিচারক মুরের অধীনে ওই মামলার সবশেষ শুনানি হয় ২২ মে। ৩০ জুলাই মামলাটির আবার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।’ জানা গেছে, মাকতুমের পক্ষ হয়ে আদালতে লড়বেন লন্ডনের নামকরা আইনি সেবা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ড অব স্টেওয়ার্টসের আইনজীবী লেডি হেলেন। তবে হায়ার পক্ষে কে লড়বেন তা জানা যায়নি।
হায়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। হায়ার সঙ্গে তাঁর সন্তানেরা রয়েছে বলে জানা গেছে।
২০১৭ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হায়া মধ্যপ্রাচ্যে নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এখানে নারীর ক্ষমতায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।