Share |

ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের তথ্য : ট্রাম্প প্রশাসন অযোগ্য, শৃৃখলাহীন

পত্রিকা প্রতিবেদন
লন্ডন, ৮ জুলাই : যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিম ডারোখ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অযোগ্য, তাঁর প্রশাসন বিশৃৃখলায় ভরা। ট্রাম্প সরকারের নীতিতে কোনো স্থিতিশীলতা নেই। দায়িত্বের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হালচাল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশ ফরেন অফিসে পাঠানো ইমেইলে  কিম এমন মন্তব্য করেন। গত ৬ জুলাই শনিবার প্রকাশিত এক খবরে দ্য টাইমস পত্রিকা কূটনৈতিক এসব বার্তা ফাঁস দিয়েছে।  
কূটনৈতিক এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ব্রিটিশ সরকার কোনো দেশ ও সে দেশের সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।  টাইমসে এসব গোপন বার্তা ফাঁস হওয়ার ঘটনায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ ফরেন অফিস এসব তথ্যের সতত্য অস্বীকার করেনি। তথ্যগুলো কিভাবে ফাঁস হলো তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফরেন অফিস।  
গোপন ওইসব বার্তায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়েও নানা মন্তব্য করেন।  ইরান সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত কিম বলেন, ১৫০ বেসামরিক লোক নিহত হতে পারে এমন তথ্য জানার পর ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ তুলে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এ দাবি বাস্তব সম্মত নয়। বরং ট্রাম্প কখনো ইরানে হামলার বিষয়টিতে সত্যিকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনাই করেননি।  ২০১৭ সালের পর থেকে পাঠানো সবগুলো গোপন ইমেইল তাদের হাতে আছে বলে দাবি করেছে টাইমস।   
এর আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রবিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান টম টুগেন্ডহ্যাট বলেছেন, এভাবে তথ্য চুরি করে তা প্রকাশ করা আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এর পেছনে যে-ই থাকুক তার বিচার করা হবে।  
অন্যদিকে ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্স ব্রিটিশ দূত কিম ডারোখের ইমেইলগুলো ফাঁস করে দেয়ার সমালোচনা করে বলেন, এটি একটি অপেশাদার, অনৈতিক এবং দেশদ্রোহীতার মত কাজ হয়েছে।
এ ব্যাপারে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউজও। তবে ওই ব্রিটিশ দূতের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওই রাষ্ট্রদূত ব্রিটেনের কোনো উপকার করেনি।
ফাঁস হওয়া ওইসব বার্তায় ডেরক ট্রাম্পের শাসনামলে হোয়াইট হাউজকে একেবারেই অকার্যকর ও বিভক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। ওই সব মেইলে ব্রিটিশ দূত কিম ডারোখ ট্রাম্পকে অদক্ষ ও অযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। কেবল তাই নয়, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে আরো বলেন, ট্রাম্প সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।  
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ব্রিটেন-আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। কারণ ব্রিটেন এবং আমেরিকা বরাবরই বন্ধু-দেশ হিসেবে পরিচিত।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব দেশের দূতই নিজের দেশের জন্য এ ধরনের গোপন বার্তা পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু কদাচিৎ এসব বার্তা ফাঁস হয়ে গেলেই শুরু হয় নানা ঝামেলা। যা থেকে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক স্তরে তৈরি হয় চূড়ান্ত অস্বস্তি। এ ক্ষেত্রে ব্রিটেনের দূত কিম ডারোখ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মাসের পর মাস প্রচেষ্টা চালিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করেছিলেন, তা-ও এখন প্রশ্নের মুখে।