Share |

পুলিশের আচরণ অগ্রহণযোগ্য : কমিউনিটির আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার

জনগণের বন্ধু বলে ব্রিটিশ পুলিশের একটা আলাদা সুনাম ছিলো। ব্যক্তির অধিকার আর মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে পুলিশ - এমন বিশ্বাস ও আস্থার ওপর ভিত্তি করেই এ দেশের মানুষ ভরসা খোঁজে।  কিন্তু এই যে মূল্যবোধ নিয়ে পুলিশের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার কথা তা যেনো দিন দিন তলানির দিকেই গড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে টাওয়ার হ্যামলেটসে দুই সন্তানের জনককে রাস্তায় ফেলে আক্রমণ ও তাঁকে হাতকড়া পরানোর ঘটনার ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশের আচরণ নিয়ে শুধু প্রশ্ন ওঠেনি বরং এই বাহিনির ভাবমূর্তি মারাত“ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  পূর্ব লন্ডনের পপলার এলাকার এভারফে?িতে এস্টেটে সংঘটিত এ ঘটনায়  ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। আক্রান্ত ওই ব্যক্তির নাম ইউনিস বেনতাহার (৩৮)। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুইজন পুলিশ অফিসার ইউনিস বেনতাহারকে হাতকড়া পরাতে গিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে তার উপরে ওঠে বসে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করেন। ইতিমধ্যে আরো কজন পুলিশ অফিসার ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন। স্তাধস্তির এক পর্যায়ে ইউনিস বেনতাহার নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তার মুখে রক্তের দাগ দেখা যায়। এখন এটা স্পষ্ট যে, এই গ্রেফতারের নামে পুলিশ যে আচরণ করেছে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।  
পুলিশের দাবি হচ্ছে, তিনি স্ট্রিটে সিঙ্গেল ইয়ালো লাইনে গাড়ি পার্ক করেছিলেন এবং?তা এই সড়কের অন্য গাড়ি চলাচলে বাধার সৃষ্টি করছিলো। জানা গেছে, ইউনিসের ২ বছরের মেয়েটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্লু ব্যাজ ছিলো।  
এবারের ঘটনায়?পুলিশের নিষ্ঠুর আচরণের ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর মানুষের মাঝে সৃষ্ট ক্ষোভের মাত্রা খুবই উদ্বেগজনক। ঘটনায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী গত রোববার স্থানীয় আলতাব আলী পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ করে এর যথাযথ বিচার চেয়েছেন। টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস এভারফে?ি এস্টেটে গ্রেফতারের ভিডিওটি দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, স্যোশাল মিডিয়ায় সব সময় পূর্ণ চিত্র পাওয়া না গেলেও এই ভিডিওটি পরিষ্কারভাবে বিরক্তিকর।
 ঘটনাটি তদন্তের জন্য ইন্ডিপেনডেন্ট অফিস ফর পুলিশ কনডাক্ট দায়িত্ব নিয়েছে। আমাদের কথা হচ্ছে- সমাজে শান্তি রক্ষায় সফল হতে হলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা থাকাটা জরুরী। আর এজন্য কমিউনিটির আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।  আমরা আশা করবো চাই, এই আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশের স্বাধীন সংস্থা ‘ইন্ডিপেনডেন্ট অফিস ফর পুলিশ কনডাক্ট’ দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে এ ঘটনার নি?ত্তি করবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করে পুলিশ বাহিনির প্রতি কমিউনিটির আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য এটি খুবই জরুরী।