Share |

সিলেটে ‘ফটককৌশলে’ সাবাড় টিলা

সিলেট, ০৫ আগস্ট : মূল সড়কলাগা সরু একটি রাস্তা। এটির আশপাশে কয়েকটি পাকা বাড়ি। কয়েক কদম পেরোলেই সীমানাপ্রাচীরবেষ্টিত একটি ফটক। টিনের বেড়ার এই ফটকটি গত প্রায় ছয় মাস তালাবদ্ধ ছিল। কয়েক দিন হলো খোলা হয়েছে ফটক। সেই ফটক পেরিয়ে দেখা গেল মস্ত এক টিলার একাংশ কেটে সমান্তরাল করে ফেলা হয়েছে।
ফটকের আড়ালে কৌশলে টিলা কাটার এই চিত্র সিলেট নগরের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মজুমদার টিলার একাংশে, যা পড়েছে ব্রাহ্মণশাসন এলাকায়। একই এলাকায় টিলার উত্তর দিকের অংশের প্রায় ২০ শতক জায়গা কেটে ফেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু অভিযানের পরও কাটা হয়েছে টিলা। এ নিয়ে ৪ আগস্ট রোববার প্রথম আলোয় ‘অভিযানের পরও সাবাড় টিলা’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই কাটা টিলার দক্ষিণ দিকে পড়েছে ‘ফটককৌশলে’ টিলা কাটা। গত ৩ আগস্ট শনিবার ওই এলাকায় গেলে ফটককৌশলে টিলা কাটার বিষয়টি স্থানীয় লোকজনই এ প্রতিবেদককে দেখান।
সরেজমিন দেখা গেছে, টিলা কাটা শেষ হওয়ার পরই খোলা হয়েছে ফটক। কালীবাড়ি, ব্রাহ্মণশাসন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কয়েকজন জানান, টিলা কাটা ও মাটি পরিবহনকাজ রাতে চলে। দিনে শুধু কাটা অংশই পড়ে থাকতে দেখেছেন। চিকিৎসকের ওই জায়গার সম্মুখ অংশে টিনের বেস্টন দিয়ে ফটক তৈরি করে রাখায় সুউচ্চ টিলার কোন অংশ কাটা হচ্ছে, তা এলাকাবাসী দেখেননি। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ফটকটি খোলা থাকায় টিলা কাটা অংশটি এলাকাবাসী প্রত্যক্ষ করছেন।
টিলাভূমির ৫ দশমিক ৭ শতক জায়গা সমান্তরাল করা। জায়গার মালিক দিলীপ বণিক। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। সিলেট নগরের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, জায়গা কেনার পর টিলা কাটার বিষয়টি তদারক করেছেন পাশের ২০ শতক জায়গার মালিক অজিত রায়। তাঁর মাধ্যমে টিলা কাটা হয়েছে। টিলা কাটা পরিবেশ আইনে নিষিদ্ধ, এ বিষয়টি চিকিৎসক অবহিত আছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।
শনিবার দুপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা টিলা এলাকায় অজিত রায়কে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে কল করে বন্ধ পাওয়া গেছে। সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, একের পর এক টিলা কাটা চলছে। এলাকাজুড়ে টিলা কাটার একটি শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ তৎপর। পরিবেশ অধিদপ্তরও গাছাড়া অবস্থায় থাকায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
যোগাযোগ করলে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের পরিচালক ইশরাত জাহান বলেন, ওই টিলা কাটায় নিয়োজিত দুজনের নামে একটি প্রতিবেদন পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মজুমদার টিলার অপর একটি অংশে ফটককৌশলে টিলা কাটা ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ‘ধারণার মধ্যে নেই’ বলে এড়িয়ে যান।
সিলেট নগরে টিলা কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় অভিযান চালালেও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনফোর্সমেন্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে। এতে আইনি প্রতিকারে সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত গড়ায়। এতে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা হচ্ছে না বলে জানিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালের জুনের দিকে সিলেটের একটি টিলার চূড়ায় পুকুর নির্মাণ করে অভিনব কৌশলে কাটা হচ্ছিল টিলা। তখন পরিবশে অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট পরিচালকের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী সিলেট এসে সরাসরি অভিযান চালিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড করেছিলেন। এরপর আর এ রকম অভিযান না হওয়ায় পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তাই এনফোর্সমেন্ট অভিযান সরাসরি হওয়া ছাড়া উপায় নেই।