Share |

তিন তরুণের বাংলাদেশ দর্শন : রক্তাক্ত মায়ার হাতছানি কি অমোঘ!

তিন তরুণ সম্প্রতি বাংলাদেশে গিয়েছিলেন বেড়াতে। সম্পর্কে তারা পরস্পর চাচাতো ভাই। পিতৃভূমির টানে যাওয়া। কারো পিতা কারো চাচা বলেছিলেন, বাংলাদেশ খুব সুন্দর দেশ, মানুষ খুব মায়াবী। আরো বলেছিলেন, বাংলাদেশ আমার অহংকার। বাংলাদেশে গিয়ে এই তিন তরুণ ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের ক্যাডার বাহিনির আক্রমণের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন। পিতা বা চাচার মুখে ছাই, অংহকার ধুলিসাৎ এখন। এই ছাইমুখ সন্তানের সামনে স্তব্ধ প্রায়, বাকরুদ্ধ তিনি।
বিভিন্ন রিপোর্ট মতে, সিলেট শহরের পাঁচভাই রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। সঙ্গে সঙ্গে হামলে পড়েন ছাত্রলীগ নামধারী ক্ষমতাধর ক্যাডাররা। আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিন ভাই। জান বাঁচিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তারা যান হাসপাতলে চিকিৎসা নিতে। সেখানেও প্রাণনাশের হুমকি গেছে। অপরাধ- ঘটনার বিবরণ দিয়ে তারা জড়িতদের নামে থানায় মামলা দিয়েছিলেন। সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ আর হুমকিধামকি।
এ ঘটনায় সোচ্চার হয়েছেন প্রবাসী এবং প্রবাসীবান্ধব সচেতন মহল। সকলেরই আশংকা, এরকম ঘটনা ঘটলে নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশমুখি করা তো যাবেই না, বরং বাপ-দাদার দেশবিমুখ হবে আসছে প্রজন্ম।
আমাদের প্রশ্ন, বাংলাদেশে ক্ষমতার দাপট দেখানোর সংস্কৃতি দেখে আসা তরুণরা কি কখনও বিশ্বাস করবে- বাংলাদেশ আসলেই সুন্দর দেশ? নিরাপদ? কোনো অভিভাবক কি আর দেশ, দেশের মানুষ নিয়ে সন্তানদের সামনে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবার সাহস পাবেন?  
কথা হচ্ছে, আইনের শাসন নেই বলেই বাংলাদেশ এখন নিজ নিজ আইনে, নিজ নিজ ক্ষমতায় চলে। অনেকের মতে, দাম্ভিক রাজনীতির বিস্তার এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাষ্ট্রের সব ব্যবস্থা অকার্যকর হতে চলেছে। এই অকার্যকর হওয়ার পেছনে কী মনোভাব কাজ করছে? দেশের মানুষ মনে করে-ব্যক্তি অধিকার যেখানে নেই, জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায় যেখানে শূন্য, ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় দেশ চলে, সে অবস্থায় যেখানে-সেখানে মার খাওয়ার সংস্কৃতির বিস্তার রোধ করবে কে?
আমরা সকলেই জানি, গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ রয়েছে- প্রবাসীর সহায় সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন মহল। শক্তিবাজদের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে যে, ‘বেড়ায় ধান খায়’ এই প্রবাদটি সত্যে পরিণত হচ্ছে। প্রবাসীরা প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনকে বিশ্বাস করে সম্পদ দেখভাল করতে দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন-এরকম সংবাদ বিরল নয়।
অথচ, সরকারে থাকা নেতানেত্রীরা আর কর্মকর্তারা নিয়মিতই বড় গলায় বলছেন- প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে পুষ্টিসাধন করে চলেছেন, অবদান রাখছেন দেশের অগ্রগতিতে। সরকার আরো এক ধাপ এগিয়ে অঙ্গীকার ও প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন- বাংলাদেশ প্রবাসী বিনিয়োগ-বান্ধব। আর সরকারী এই ফাঁকা বুলিকে বিশ্বাস করে অনেকেই লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বা বিভিন্নভাবে প্রতারিত ও অর্থকড়ি খুইয়ে শূন্যহাতে ফিরে এসেছেন, এমন নজিরও কম নয়।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনা কী বার্তা দিলো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নুতন  প্রজন্মকে। সর্বক্ষেত্রে এই করুণ চিত্র বিদ্যমান আমাদের মায়াবী প্রিয় বাংলাদেশের।
শেষ কথা, আমরা নতুন প্রজন্মকে কেমন করে আশ্বস্ত করবো যদি এ ঘটনার যথার্থ বিচার না পাওয়া যায়? এ ঘটনা যেনো হয় বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা মাত্র। না হলে ‘অহংকারের বাংলাদেশ’ নিয়ে তরুণের প্রজন্মের হতবিহব্বল অভিভাবকদের মুখ তুলে কিংবা বুক ফুলিয়ে কথা বলার পথ থাকবে না। এ ঘটনার বিচার পাওয়া যাবেতো?