Share |

টাওয়ার হ্যামলেটসের অনুদান তামাশা! : বরাদ্দের অন্যায্য সিদ্ধান্ত

নর্বিবেচনা প্রয়োজন
বাঙালি অধ্যূষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এবারের অনুদান বরাদ্দে স্থানীয় ছোট সংগঠনগুলো ব্যাপকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছে। নজীরবিহীন কৌশল অবলম্বন করে কাউন্সিলের গ্রান্ট প্রদানের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন কার্যকর করার ফলে এসব সংগঠন বাদ পড়েছে। বহুজাতি ও সংস্কৃতির মিলনে গঠিত এই বারায়?এবারই প্রথম সোমালী এবং?চাইনিজ কমিউনিটির একটি সংগঠনও কোন অনুদান পায়নি। বারার এক তৃতীয়াংশ বাঙালি অধিবাসীর বহু সংগঠনের গ্রান্ট কর্তন হয়েছে। কারো কারো অনুদান একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান প্রশাসন অনুদান প্রদানে আরও স্বচ্ছতা আনার কথা বলে প্রচলিত মেইন স্ট্রিম গ্রান্ট পদ্ধতি পরিবর্তন করে লোকাল কমিউনিটি ফান্ড নাম দেয়। শুধু নাম বদলেই ক্ষান্ত হয়নি কাউন্সিল। সেই সঙ্গে এই অনুদান প্রদানের জন্য সংগঠনের আবেদন বাছাইয়ের দায়িত্ব দিয়ে দেয় কাউন্সিলের বাইরের একটি কোম্পানির কাছে। ইস্ট অ্যান্ড কমিউনিটি ফাউন্ডেশন নামে ওই কোম্পানির চেয়ারপারসন হলেন প্রভাবশালী ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের পরিচালক হাওয়ার্ড ডোবার। 
গত ৩০/৪০ বছর ধরে এসব সংগঠনের বেশিরভাগ কমিউনিটির নানা চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিলো।  কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ বলছেন, টাওয়ার হ্যামলেটস বারার ছোট ও মাঝারি এবং এথনিক সংগঠনগুলোকে অনুদান থেকে বঞ্চিত করে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে অনুদান তুলে দিয়ে কার্যত স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে তামাশা শুরু করেছে কাউন্সিল। এর ফলশ্রুতিতে বারার মারাত“ক প্রভাব পড়বে সাধারণ বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায়। কারণ, আগামী প্রায়?তিন বছরের জন্য এই অনুদান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে কর্র্তৃপক্ষ। আর এর ফলে অন্তত এতে ১৫ হাজার উপকারভোগী ক্ষতির শিকার হবেন। বহু সংগঠন বন্ধ হয়ে যাবে। 
কাউন্সিলের এই বঞ্চনামূলক সিদ্ধান্তে স্থানীয় কমিউনিটিতে ক্ষোভ বাড়ছে। এই বৈষম্যমূলক সিন্ধান্ত রুখতে বঞ্চিত সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, গত ২৩ আগস্ট শুক্রবার লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ কমিউনিটি সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ দাবী করেছেন, লেবার দলীয় মেয়র জন বিগসের প্রশাসন দলের নীতি-আদর্শের তোয়াক্কা না করে বড় সংগঠন ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে জনগণের অর্থ তুলে দেয়ার কৌশল নিয়েছে। কমিউনিটির প্রাণ হিসেবে পরিচিত ছোট ও মাঝারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে অনুদান বঞ্চিত করে জন বিগসের প্রশাসন কৌশলে কমিউনিটির ভিতকে শেষ করে দেয়ার কাজে নেমেছে বলে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তারা। 
সংজ্ঞা অনুসারে স্থানীয় কাউন্সিলের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, তার নিজের কমিউনিটির এজেন্সী হিশেবে কাজ করা। অথচ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এর বিপরীতে নয়া নজীর সৃষ্টি করলো। নিজ বারার কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংশ করার নীতি কিংবা পদক্ষেপ কোনো অবস্থাতেই জনবান্ধব হতে পারে না।
আমরা মনে করি, কাউন্সিলের এই অন্যায্য সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। আর এজন্য কমিউনিটিকে সক্রিয় হতে হবে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে।