Share |

ইউএস ওপেন টেনিস ২০১৯

নাদালের চতুর্থ শিরোপা জয়
নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মেডোসে এক উত্তেজনাপূর্ণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর পুরুষদের একক ফাইনালে শেষ পর্যন্ত রুশ খেলোয়াড় ডানীল মেদ্ভেদেভকে পাঁচ সেঁটের ম্যাচে হারিয়ে চতুর্থ ইউ-এস-ওপেন শিরোপা জিতে নিলেন স্পেনের রাফায়েল নাদাল। সেই সংগে তাঁর গ্র্যান্ডস্যৗাম একক শিরোপার সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল উনিশে। অর্থাৎ রের্কডধারী রজার ফেদারারের চাইতে একটি কম। সেই প্রসঙ্গ পরে।  
প্রথম দুটো সেট ৭-৫, ৬-৩এ নাদাল জিতে নেওয়ার পর, সবাই মনে করেছিলেন আরও একটি সহজ জয় তুলে নেবেন তিনি। কিন্তু এরপরই মেদ্ভেদেভ ঘুরে দাঁড়ালেন, তিনি সহজে পরাজিত হতে রাজী নন। নতুন উদ্যম নিয়ে খেলতে শুরু করলেন। তৃতীয় সেট জিতলেন ৭-৫এ, পরের সেট ৬-৪এ। খেলায় সমতা এলো। বাকী রইল চূড়ান্ত সেটটি। প্রথমবারের মত কোনো গ্র্যান্ডস্যৗাম ফাইনালে পৌঁছে শিরোপা জেতার জন্য প্রয়োজন আর একটি সেট। তবে ৩৩ বছর বয়স্ক অভিজ্ঞ নাদাল দেখালেন তাঁর হাতে-পায়ে এখনো শক্তি আছে। জেতার স্পৃহা তাঁর এতটুকু কমেনি। চূড়ান্ত সেট জিতলেন ৬-৪এ, সেই সংগে শিরোপা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে এই ফাইনাল। খেলা শেষে দর্শকরা দুই খেলোয়াড়কে জানায় প্রাণঢালা অভিনন্দন। রজার ফেদারার তাঁর শেষ গ্র্যান্ডস্যৗাম শিরোপা জেতেন বছর দেড় আগে। এরপর নাদাল জিতেছেন আরও তিনি। ক্লে কোর্টের রাজা খ্যাত নাদাল ২০২০ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা জিতবেন না। এটা ভাবাই যায়না। নাদাল এটাও দেখিয়েছেন যে, ঘাস এবং হার্ডকোর্টেও তিনি শিরোপা জিততে পারেন। তাঁর খেলার মান এখনও তুঙ্গে, তাই ফেদারারের রেকর্ড যে তিনি অতিক্রম করবেন সেই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। বয়সটাও রয়েছে নাদালের পক্ষে। ফেদারারের চাইতে পাঁচ বছরের ছোট তিনি। তাঁর ঝুলিতে আরও গ্র্যান্ডস্যৗাম একক শিরোপা ঢুকবে তা সহজেই অনুমেয়। তাই প্রশ্ন ওঠে- কে সেরা- ফেদারার না নাদাল? উত্তর রেখে দিলাম টেনিসপ্রেমীদের জন্য। তবে, এই দুই টেনিস কিংবদন্তীর মধ্যে এই পর্যন্ত হওয়া চল্লিশটি ম্যাচে নাদালের জয়ের সংখ্যা ২৪, ফেদারারের ১৬।
এবারের ইউ-এস-ওপেন-এ নাদালের কাছে হেরে গেলেও মেদ্ভেদেভ দর্শকদের ভালোবাসা ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন এবং গ্র্যান্ডস্যৗাম একক শিরোপা জেতার স্বপ্ন তিনি অবশ্যই দেখতে পারেন। নাদালের সাফল্যে তাঁকেও জানাই অভিনন্দন।  
মহিলা টেনিসে নতুন তারকা বিয়াংকা আন্দ্রিস্কু
মহিলা টেনিসে আত্মপ্রকাশ করলেন নতুন এক তারকা - বিয়াংকা আন্দ্রিস্কু। ইউ-এস-ওপেন-এর মহিলাদের একক ফাইনালে তেইশটি গ্র্যান্ডস্যৗাম শিরোপার অধিকারী কিংবদন্তী সেরেনা উইলিয়ামসকে হারালেন এই ১৯ বছরের তরুণী সরাসরি সেটে। প্রথম সেট ৬-১এ জেতার পর, দ্বিতীয় সেটে এগিয়ে যান ৫-১এ, কিন্তু সেরেনা হাল ছেড়ে দেওয়ার মত খেলোয়াড় নন। বিশাল অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে দ্বিতীয় সেটে তিনি সমতা আনলেন ৫-৫এ। বিয়াংকার চোখেমুখে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়ের ছাপ। পরপর দু’টো  গেম জিতে দ্বিতীয় সেট জিতলেন ৭-৫এ আর সেই সঙ্গে তাঁর প্রথম গ্র্যান্ডস্যৗাম শিরোপা।
অন্যদিকে সেরেনা উইলিয়ামস মা হওয়ার পর, চারটা গ্র্যান্ডস্যৗাম ফাইনালে খেলা সত্ত্বেও এখনো মারগারেট কোর্টের চব্বিশটি শিরোপা জেতার রেকর্ড ছুঁতে পারেননি। তার জন্য তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছর পর্যন্ত। তখন তাঁর বয়স হবে ৩৮। পারবেন কি সেরেনা এই রেকর্ড ছুঁতে? ২০০৪ সালে রুশ খেলোয়াড় মারিয়া শারাপোভার পর বিয়াংকা আন্দ্রিস্কু প্রথম তরুণী যিনি তাঁর অভিষেক গ্র্যান্ডস্যৗাম প্রতিযোগিতা খেলতে এসে শিরোপা জিতলেন। বিয়াংকার আগে কানাডার কোনো খেলোয়াড়- পুরুষ বা মহিলা কোনো গ্র্যান্ডস্যৗাম শিরোপা জেতেননি। আর ভাবতে অবাক লাগে, সেরেনা উইলিয়ামস খেন তাঁর প্রথম গ্র্যান্ডস্যৗাম শিরোপা জেতেন- সেটা ছিল ১৯৯৯ সালের ইউ-এস-ওপেন-তখন বিয়াংকার জন্মই হয়নি। ইউ-এস-ওপেন জেতা ছিল বিয়াংকার স্বপ্ন। তিন বছর আগে একটি ভূয়া চেক লিখেছিলেন বিয়াংকা। অংক - ইউ-এস-ওপেন চ্যাম্পিয়নকে দেওয়ার সমান। প্রতি বছর এই রকম চেক লিখে যেতেন তিনি। তিন বছর পর বিয়াংকার স্বপ্ন পূরণ হল। তিনি পেলেন সত্যিকারের চেক যার অংক ৩.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ম্যাচ শেষে তিনি বললেন, “এই মুহূর্তটির স্বপ্ন দেখছিলাম গত কয়েক বছর ধরে”। তাঁর আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ মেলে আরো একটি ঘটনা থেকে। তাঁর শিরোপা জেতার পর সংবাদ সম্মেলন শেষে, আয়োজকরা তাঁর কোচ সিলভিয়ান ব্রুনিওকে একটি ট্রফি দেন। কোচ বলেন ট্রফি হাতে নিতে তিনি অভ্যস্ত নন। প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী বিয়াংকা আন্দ্রিস্কু তাৎক্ষণিকভাবে বলে উঠলেন, “অভ্যস্ত হয়ে পড়ুন” । টেনিস জগত বিয়াংকা আন্দ্রিস্কুর আরো অনেক সাফল্য দেখার অপেক্ষায় থাকবে।
লন্ডন, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯