Share |

আসামে এনআরসি জরিপে ১৯ লক্ষ অনাগরিক! : সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত?

আসামে এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জী তৈরী করে ১৯ লাখ বাঙালিকে তা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এদেরকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলাপ করা হবে বলে আসামের অর্থমন্ত্রী বিশ্ব শর্মার তরফে জানা গেছে।  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চকে সীমা ধরে এই ১৯ লাখ নাগরিক আসামের নাগরিক নয় বলে চি?িত করা হয়েছে।
ভারতের এই ১৯ লক্ষ নাগরিককে হঠাৎ করে অনাগরিক করে ফেলার পদক্ষেপ এবং?তৎপরবর্তী আসামের অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরী করেছে।
জানা গেছে, আসামের এই ১৯ লাখ মানুষ যদি ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে তাদের প্রত্যাবাসনের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন তাহলে এই ১৯ লাখ মানুষের জীবনে যে চরম ভাগ্যবিপর্যয় নেমে আসবে তা কল্পনা করার মতোও নয়। শুধু তা-ই নয়, এদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ভারতীয়?পরিকল্পনা  বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পাদিত সিমলাচুক্তি অনুযায়ী যারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পূর্বে ভারতে বা আসামে বাংলাদেশ থেকে যারা প্রত্যাবাসন করেছিলেন তারা আসামের নাগরিক। সেই অনুসারে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পরবর্তীতে যারা আসামে প্রত্যাবাসন করেছিলেন তারা সেখানকার নাগরিক নন মর্মে এনআরসি জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে।  
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর এই জরিপ কেনো এবং কোন উদ্দেশ্যে করা হলো তার পেছনের বিষয়গুলো বাংলাদেশের ভালো করে অনুধাবন করা প্রয়োজন। কারণ, এই ইস্যু নিয়ে?আসছে দিনগুলোতে পানি অনেক ঘোলা হবে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ কম। তাই আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা যাতে সময়মতো মিলে তার জন্য এখন থেকেই তৎপর হওয়া উচিৎ।   
যদিও কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিচ্ছে, জরীপে অনাগরিক করা আসামের অধিবাসী এই ১৯ লক্ষের কাউকে বাংলাদেশে সহসা পাঠানো হবে না। বলা হচ্ছে, প্রত্যেককে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে এবং?আদালতের কোনো সুরাহা না-হওয়া পর্যন্ত এরা ভোটাধিকারসহ নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত থাকবেন। এছাড়া নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারলে এদেরকে বিদেশী হিসেবে ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হতে পারে। এক্ষেত্রে আসামে নজিরবিহীন সঙ্কটজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।  
বাংলাদেশ এখন চলছে বিতাড়িত ২০ লাখ রোহিঙ্গার নানা সমস্যা ও সংকট। বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশ এখন কঠিন সময় পার করছে।
এখন যদি আসামের বাঙালিদেরকে অন্যায়ভাবে পুশ-ইন করা হয়-বাংলাদেশ কী এই বোঝা বহন করার ক্ষমতা রাখে? এই সঙ্কট মোকাবেলায়?বাংলাদেশ কী প্রস্তুত?