Share |

ব্রেক্সিট পেছাতে পার্লামেন্টে বিল পাশ : বিপাকে বরিস

পত্রিকা প্রতিবেদন
লন্ডন, ০৯ সেপ্টেম্বর : ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের বদলে বিচ্ছেদের দিনক্ষণ পেছাতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য সংসদে আইন প্রণয়ন করেছে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী বলছেন, চুক্তি হোক বা না-হোক, নির্ধারিত আগামী ৩১ অক্টোবরই ব্রেক্সিট কার্যকরে অবিচল সরকার।
তবে কি সরকার সংসদে পাস হওয়া আইন অমান্য করবে? নাকি সরকারের হাতে এমন কিছু আছে, যার কারণে এই আইন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে? কোন রহস্যময় কারণে সংসদের নিয়ন্ত্রণ হারানো সরকার এতটা অবিচল, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিমকোর্টে গড়াতে পারে বলে সরকার ও বিরোধীদের তরফ থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।  
গত ৩ সেপ্টেম্বর ভোটাভুটির মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে সংসদের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয় চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ ঠেকাতে মরিয়া বিরোধী দলগুলো। বরিসের বহিষ্কারের হুমকি স্বত্বেও ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ২১ জন এমপি ওইদিন সরকারের বিপক্ষে ভোট দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ওই ২১ জন এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার করেন বরিস। এর আগেই কনজারভেটিভ দলের একজন এমপি লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের যোগ দেয়ার কারণে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় বরিস জনসনের সরকার।  
সংসদে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ইইউর সঙ্গে চুক্তি করতে না পারলে অথবা চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ কার্যকরে সংসদের অনুমোদন লাভে ব্যর্থ হলে প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই বিচ্ছেদের দিনক্ষণ পিছিয়ে দিতে ইইউর কাছে আবেদন করতে হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকারের তরফ থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বিরোধীরা সেই নির্বাচনে সমর্থন দেয়নি। সরকার সোমবার আবার সংসদে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব তুলবে। লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, এসএনপি, গ্রিন পার্টি, প্লাইড কামরুসহ সংসদের সব বিরোধী দল মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বিচ্ছেদের দিনক্ষণ পিছিয়ে দেওয়ার আগে নির্বাচন মানবে না।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বরিস হয় পদত্যাগ করবেন, অন্যথায় আইন মেনে বিচ্ছেদের দিনক্ষণ পেছানোর আবেদন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনে প্রধানমন্ত্রী বরিস একাধিকবার বলেছেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই বিচ্ছেদের দিনক্ষণ পেছানোর আবেদন করবেন না। সরকারের অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) সাজিদ জাভিদ গত রোববার বিবিসিকে আরও স্পষ্ট করে বলেন, বিরোধীরা যদি আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আবারও বর্জন করে, তবে সরকার তার কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আগামী ১৭ অক্টোবর ইইউ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী চুক্তি সম্পাদনে চেষ্টা চালাবেন। চুক্তি না হলে ৩১ অক্টোবর চুক্তি ছাড়া বিচ্ছেদ ঘটবে। বরিস পদত্যাগ করবেন না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। তবে সরকার কীভাবে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদবিরোধী আইন অমান্য করবে, সে বিষয়ে রহস্য রেখে দিয়েছেন জাভিদ। একই দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব ইঙ্গিত করেন, পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারে সরকার।
সরকার বিচ্ছেদ পেছানোর আবেদন না করলে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব বলেছেন, সুপ্রিমকোর্টে আইনটি চ্যালেঞ্জ করবে সরকার। বরিস জনসন আইন অমান্য করেন কি-না, তা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীসভার মধ্যেই এক ধরণের অস্বস্তি রয়েছে। মন্ত্রীসভার সদস্যরা আগামী ৩১ অক্টোবর চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ ঘটানোর পক্ষে। কিন্তু আইন অমান্য করে সেটি তারা করতে চান না। বরিস জনসন মন্ত্রীদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি আইন অমান্য করবেন না।  
একটি সমঝোতার মাধ্যমে ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকরে গত তিন বছর যাবত চেষ্টা চললেও কোনো প্রকার চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে উভয় পক্ষ। যে কারণে ইতিমধ্যে দুই দফা বিচ্ছেদের দিনক্ষণ পিছানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বিচ্ছেদের দিনক্ষণ আর পিছাতে রাজি নন। চুক্তি হোক বা না হোক, নির্ধারিত আগামী ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করতে চান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, বার বার ব্রেক্সিট পিছিয়ে এ নিয়ে বিতর্ক বাড়ানো ছাড়া আর কোনো লাভ হচ্ছে না। ব্রেক্সিট ইস্যুর সমাধান টানা জরুরি।  
কিন্তু চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লেগেছে বিরোধীরা।   
মরে যাব, তবু ব্রেক্সিট পেছানো নয়
বরিস জনসন বলেছেন, মরে গেলেও তিনি ব্রেক্সিট পেছানোর অনুরোধ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে যাবেন না। গত ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ইয়র্কশায়ারের একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বরিস এমন প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। বরিসের এই মন্তব্য চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলেছে।  
প্রধানমন্ত্রী বরিস আরও বলেন, ‘আমি ব্রেক্সিট নিয়ে বিতর্ককে ঘৃণা করি। আমি এই বিতর্ক আর করতে চাই না। আমি আরেকটি নির্বাচনও চাই না। কিন্তু বাচ্চবতা হচ্ছে, আমি অন্য কোনো বিকল্প দেখছি না।’
বরিসের ইয়র্কশায়ার সফরকে আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার তিনি ছুটে যান স্কটল্যান্ডে। এসব সফরে বরিস ব্রেক্সিটের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।  
এদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন স্থগিত থাকার কথা। সংসদ যাতে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ আটকাতে না পারে, সে জন্য বরিস এই স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ। সংসদ স্থগিতের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয় আদালতে। শুক্রবার যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে সরকারের সংসদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা রইল না।
কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংসদ স্থগিত হওয়ার আগে বিরোধীরা ঠিকই বিচ্ছেদ পেছানোর আইন করে ফেলছেন। এখন এ আইন মানতে না চাইলে বরিসকে অবশ্যই ৩১ অক্টোবরের আগে নির্বাচন দিতে হবে। সংসদ স্থগিতের কারণে সে কাজটি কঠিন হয়ে যাবে।
গত সোম ও বৃহস্পতিবার পরিচালিত ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, জনসমর্থনের দিক থেকে ৩৫ বনাম ২৫ ব্যবধানে লেবার থেকে এগিয়ে আছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি।  
সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল সরকার
প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কট্টর ব্রেক্সিট কৌশলের বিরোধিতা করে ব্রেক্সিটবিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলে যোগ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের এমপি ফিলিপ লি। গত ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বরিস জনসন যখন পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখছিলেন তখনই ফিলিপ লি আসন পরিবর্তন করে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের সারিতে গিয়ে বসেন। এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল বরিস জনসনের সরকার। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও এখনই বরিস সরকারের পতন ঘটছে না। কেননা, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) ঠেকানোর বিষয়ে বিরোধী দলগুলো একমত হলেও বিকল্প সরকার গঠন নিয়ে তাদের মধ্যে তুমুল মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিনকে প্রধানমন্ত্রী করা নিয়ে অনেকের আপত্তি আছে। আপত্তি আছে তাঁর নিজ দলেও।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে মোট আইনপ্রণেতা ৬৫০ জন। নর্দান আয়ারল্যান্ডের ডিইউপির ১০ জন আইনপ্রণেতাসহ এত দিন সরকারের সমর্থনে আইনপ্রণেতার সংখ্যা ছিল ৩২০ জন। আর বিরোধী আইনপ্রণেতার সংখ্যা ছিল ৩১৯ জন। বাকি ১১টি আসনের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণে সরব নর্দান আয়ারল্যান্ডের শিইন পেইনের দখলে রয়েছে ৭টি আসন। তারা ওয়েস্টমিন্সটারের পার্লামেন্টে আসে না। আর স্পিকারসহ তিনজন সহকারী ভোট দিতে পারেন না। অর্থাৎ মাত্র একজনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল সরকারের। ফিলিপ লির দল ত্যাগের কারণে এখন আর সরকারের কোনো কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রইল না। এরপর আরও ২১ জন এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার করার কারণে সরকারী দলের এমপির সংখ্যা কমে হয়েছে ২৮৮ জন।  
বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ‘এই সরকারের প্রতি জনগণের কোনো সমর্থন নেই। এদের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই এবং এদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও নেই।’  
স্পিকারকে চ্যালেঞ্জ  
আগামী নির্বাচনে হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকোর বিপরীতে কনজারভেটিভ দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী অ্যানড্রিয়া লিডসম। বিরোধীদের সংসদের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে স্পিকার নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ লিডসমের। বাকিংহাম আসনের আইনপ্রণেতা স্পিকার বারকো। যুক্তরাজ্যের রীতি অনুযায়ী স্পিকারের আসনে সাধারণত কোনো প্রার্থী দেওয়া থেকে বিরত থাকে বড় দলগুলো। গত ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার স্পীকার জন বারকো ঘোষণা দিয়েছেন তিনি পদত্যাগ করবেন। আগামী নির্বাচন কিংবা ৩১ অক্টোবরের ব্রেক্সিট-এই দুটির যেটি-ই আগে ঘটুক না কেন, তখন তিনি পদত্যাগ করবেন।    
মন্ত্রীসভায় ফাটল
অ্যাম্বার রাড ও জো জনসনের পদত্যাগ
লন্ডন, ০৯ সেপ্টেম্বর: পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বরিস জনসনের মন্ত্রীসভায়ও ভাঙ্গনের সুর বেজে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর  আপন ভাই জোন জনসন মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এরপর পদত্যাগ করেন ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন সেক্রেটারি অ্যাম্বার রাড। এসব পদত্যাগের ঘটনায় বরিস জনসনের মন্ত্রীসভার ফাটল স্পষ্ট হয়ে গেল।  
জো জনসন
ব্রেক্সিট ইস্যুতে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার পারিবারিক সংকটেও পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার তার ছোট ভাই জো জনসন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। জো বলেছেন, পারিবারিক আনুগত্য ও জাতীয় স্বার্থের সংঘাতের কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী এবং দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ওরপিংটন থেকে নির্বাচিত টরি এমপি ‘অসমাধিত উত্তেজনার’ কথা বলেছেন।
২০১৬ সালে ইইউ গণভোটে জো জনসন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাই ব্রেক্সিটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। গতবছর সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট চুক্তির বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছিলেন জো। কিন্তু কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা তার ভাইকে দলীয় নেতা নির্বাচিত করার পর তিনি পুনরায় সরকারে যোগ দেন।  
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, জো জনসনের সেবার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি একটি অসাধারণ ও মেধাবী মন্ত্রী ছিলেন এবং একজন দারুণ সংসদ সদস্য।
মুখপাত্র আরও বলেন, রাজনীতিক ও ভাই হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানেন জো জনসনের বিষয়টি খুব সহজ ছিল না। ওরপিংটন সংসদীয় আসনে তার চেয়ে ভালো কোনও প্রতিনিধি হতে পারে না।
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনের লড়াইয়ে বরিসের অনেক প্রচারণায় স্বশরীরে হাজির ছিলেন জো। ২০১৩ সালে বরিস জানিয়েছিলেন, জো একসময় প্রধানমন্ত্রী হবেন।  
অ্যাম্বার রাড
গত ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার মন্ত্রিসভা ও দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ভিন্নমত পোষণ করার কারণে ২১ জন আইনপ্রণেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানান। পদত্যাগের আরও একটি কারণ উল্লেখ করে অ্যাম্বার বলেন, সরকার চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের প্রস্তুতির জন্য যে পরিমাণ কাজ করছে, চুক্তি সম্পাদনের জন্য তার সিকি পরিমাণও করছে না। তবে আগামী নির্বাচনের আগেই বহিষ্কৃত সব আইনপ্রণেতাকে নিয়ে আবারও দলে ফেরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অ্যাম্বার। সংসদে শোচনীয় অবস্থা সত্ত্বেও ব্রেক্সিট কার্যকরে বেপরোয়া বরিস সরকারের মন্ত্রিসভার ঐক্য অটুট বলে ভাবা হচ্ছিল। অ্যাম্বার রাডের পদত্যাগে মন্ত্রিসভার ফাটলও স্পষ্ট হয়ে গেল।
নতুন ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন থেরেস কফি। রবিবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন-এর দফতর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।