Share |

অ্যাশেজ সিরিজ : ৪৭ বছর পর ড্র হল

উদয় শঙ্কর দাশ
ওভালে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই ইংল্যান্ড অ্যাশেজ জেতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ হারিয়ে ফেলে। অস্ট্রেলিয়া ২-১ এ এগিয়ে গিয়ে ট্রফি তাদের হাতে রেখে দেওয়াটা নিশ্চিত করে নেয়। তবে সিরিজে পরাজিত না হয়ে ড্র করার সুযোগটা ছিল এবং তাই করতে সক্ষম হয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ওভাল টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে ইংল্যান্ড ১৩৫ রানে জয়লাভ করে আর সিরিজ শেষ হয় ২-২এ। ক্রিকেটের দুই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যে অ্যাশেজ সিরিজ ড্র হওয়ার তেমন নজীর নেই। মোট অ্যাশেজ সিরিজ-এর সংখ্যা ৭১ আর ড্রয়ের ছয়। আর ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম কোনো অ্যাশেজ সিরিজ ড্র হল। ১৯৭২-এও শেষ টেস্ট হয়েছিল লন্ডনের ওভাল মাঠেই। প্রথমবারের মত ওডিআই বিশ্বকাপ জেতার পর, ইংল্যান্ড অ্যাশেজ সিরিজ জয় করে এই বছরের ক্রিকেট মরশুমটা আরও স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু বলতে গেলে স্টিভ স্মিথ হয়ে দাঁড়ালেন দুই দলের মধ্যে একটা বিরাট প্রাচীর। এই সিরিজে তাঁকে আউট করাটা দুরূহ হয়ে পড়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের জন্য। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে আরচারের বলে আহত হওয়ায় তৃতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি। তবুও চারটি টেস্টে ৭ ইনিংসে করেছেন ৭৭৪ রান, গড় ১১০.৫৭। ছিল তিনটা শতক, যার মধ্যে একটা ২১১ রানের ইনিংসও ছিল। অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন, দর্শকদের দিয়েছেন প্রচুর আনন্দ।
তাঁর আহত হওয়ার কারণে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন একটা নজীরও সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নিয়মে আহত খেলোয়াড়ের জায়গায় বদলী খেলোয়াড় ব্যাট করতে পারেন, আর লর্ডস-এ দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে স্মিথের পরিবর্তে দ্বাদশ ব্যক্তি লেবু শেইন ব্যাট করেন। টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় দেড়’শ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এমনটা ঘটল। আর লেবু শেইন খেলার সুযোগ পেয়ে দলে তাঁর জায়গা পাকাপোক্ত করে নিলেন। স্মিথের মত ‘বল টেম্পারিং’-এর অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসার পর, ওপেনিং ব্যাটসম্যান ওয়ারনারের ওপর বেশ ভরসা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। টেস্ট ক্রিকেট এবং একদিনের খেলায় তাঁর রেকর্ড চোখে পড়ার মত। কিন্তু চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন ওয়ারনার, দশটা ইনিংসে করেছেন ৯৫ রান, গড় মাত্র ৯.৫। এই সিরিজ তিনি মনে রাখতে চাইবেন না।
অন্যদিকে মনে রাখার মত এই সিরিজ ছিল ইংল্যান্ডের বেন স্টোক্সের জন্য। হেডিংলীতে বলতে গেলে একাই যেভাবে নিজ দলকে জিতিয়ে ছিলেন, তা শুধু তিনি নন, ক্রিকেটপ্রেমীরা মনে রাখবেন অনেকদিন। টেস্ট ক্রিকেট যে আসল ক্রিকেট, এই খেলায় দক্ষতা যে একজন ক্রিকেটারের মান নির্ধারণ করে, তাও আরেকবার দেখিয়ে দিলেন তিনি। ওভালে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে লেগ সিৗপে তাঁর নেয়া ক্যাচে আউট হলেন স্টিভ স্মিথ, আর সেই সংগে শেষ হল অস্ট্রেলিয়ার জেতার সব আশা। 
জফরা আরচারের কথা না বললেই নয়। আহত হওয়ার কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি, বাকী চারটা টেস্টে এই তরুণ ফাস্ট বোলার দু’বার পাঁচ বা তার বেশী উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। আরচার তাঁর ৯০ মাইল বেগে করা বলে বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানের  মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন, ইংল্যান্ড দল তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে আরো শক্তিশালী হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
অ্যাশেজ সিরিজে দেখা যায়,  যেই দেশে খেলা  হয়, সেই দেশই প্রভাব বিস্তার করে এবং তাদের প্রাধান্য থাকে বেশি। যেমন , অস্ট্রেলিয়া ২০০১ সালে শেষবারের মত অ্যাশেজ সিরিজ জেতে ইংল্যান্ডে। আর, ২০১০-১১তে ইংল্যান্ড ৩-১-এ অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জিতলেও, সেটা ছিল ১৯৮৬-৮৭-র পর, ইংল্যান্ডের প্রথম জয় অস্ট্রেলিয়ায়। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতল, অ্যাশেজ সিরিজ জিততে পারলে হত সোনায় সোহাগা। তবুও বলা যায়, এই দলের রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা। সব মিলিয়ে, ২০১৯-এর গ্রীষ্ম ইংল্যান্ড ক্রিকেটের এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।