Share |

বিলেতে বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন

বাংলাদেশ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব হয়ে গেল লন্ডনে গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর। উদ্যোক্তা সংগঠন ছিলো সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকে। এ আয়োজনকে ঘিরে ছিল কবি সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ। বই মেলাকে ঘিরে ছিল সেমিনার, আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, নৃত্য এবং শিশুদের আকর্ষণীয় পরিবেশনা। মেলা উপলক্ষে  বিলেতের লেখক ও কবিদের বই প্রকাশিত হওয়াও ছিল একটি ভিন্নমাত্রা। দুই দিনব্যাপী বইমেলায় ছিল প্রবাসীদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এর আগের সপ্তাহে হয়ে গেলো আবৃত্তি উৎসব এই পূর্ব লন্ডনেই। তাতেও বাঙালি কমিউনিটির ব্যাপক উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়েছে।
এ ধরনের বইমেলাসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা এবং?উৎকর্ষ সাধনে বিলেতের বাঙালি কমিউনিটি আগ্রহী। কিন্তু একে বাঁচিয়ে রাখতে বা নিয়মিত আয়োজন করতে সীমিত শক্তি বা সামর্থ্য দিয়ে কোনো সংগঠনের পক্ষে কতটুকু  সম্ভব, তা সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে।  ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিত করে যাতে এদেশে আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে অবাধ করা যায় এবং নতুন প্রজন্মকে এর সাথে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয় সেজন্য যথাযথ সামর্থ নিয়ে ব্রিটেনে বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। এবারের বইমেলার প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি এ ব্যাপারে তার বক্তৃতায় আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আমরা দেখেছি, অতীতেও দায়িত্বশীল মন্ত্রী, এমপি এবং হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এরকম প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। দিন গড়িয়ে যায়, বাস্তব উদ্যোগ বা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি- আশ্বাসও চোরবালিতে হারিয়ে যায়।
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বার বার আশ্বাস দেয়া হয়? প্রবাসীদের কেন অবহেলা করা হয়? যে-প্রবাসীরা বাংলাদেশের সকল অর্জনের সাথে যুক্ত, সে প্রবাসীরা কেন বার বার বঞ্চিত হবে, অবহেলা শিকার হবে।
আমরা সকলেই জানি, জাতি গঠন এবং  সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশে ও চর্চায় সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিকল্প নেই। কিন্তু সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সীমাবদ্ধাতা রয়েছে। বইমেলার মত কোনো বড় উদ্যোগকে সার্বজনীন ও সফল করতে এবং বৈশিষ্টময় করতে প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগ, প্রচেষ্টা ও বাস্তবায়ন। তাই শক্তিশালি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দরকার। প্রত্যেক দেশেরই রয়েছে এরকম প্রতিষ্ঠান। যেমন-বাংলাদেশে আছে ব্রিটেনের ব্রিটিশ কাউন্সিল, রাশিয়ার রয়েছে রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যুক্তরাষ্ট্রের ইউসিস। একইভাবে ব্রিটেনেও রয়েছে ভারতের  নেহেরেু সেন্টারসহ বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক  কেন্দ্র।  
এসব সাংস্কৃতিক কেন্দ্র জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশে অবদান রাখে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাথে সমন্বয় সাধন ও নেতৃত্বদান করে। এতে সাংস্কৃতি  ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ধারা ও জাতির মজবুত অবস্থান তৈরীতে সহায়ক হয়। অন্যতায় সংগঠনগুলোর নিজ নিজ অবস্থান ও আদর্শগত ভিন্নতার কারণে বিভেদ সৃষ্টি হতে বাধ্য। সংস্কৃতি চর্চার নামে অপসংস্কৃতিই জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে পারে। তাই, প্রবাসীদের দাবী-লন্ডনে একটি শক্তিশালি ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দ্রুত প্রতিষ্ঠা। আর তা  যেন অতি শীগিগরই বাস্তবাািয়ত হয়।