Share |

সেরা প্রমাণের লড়াই শুরু : ২৭ অক্টোবর বিসিএ অ্যাওয়ার্ড

লন্ডন, ১৬ সেপ্টেম্বর : ব্রিটেনের বাংলাদেশী কারি শিল্পের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৪তম বিসিএ এওয়ার্ড প্রদান করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশী কারি শিল্পের নানা সাফল্য বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট এবং শেফদের যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরপ বিসিএ দীর্ঘদিন ধরে এই সম্মাননা দিয়ে আসছে।
আগামী ২৭ অক্টোবর, রোববার বিসিএ’র ১৪তম এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তিনটি ক্যাটাগরিতে বিসিএ এওয়ার্ড ২০১৯ প্রদান করবে। এওয়ার্ড তিনটি হলো-বিসিএ রেস্টুরেন্ট অফ দ্যা ইয়ার, বিসিএ শেফ অফ দ্যা ইয়ার এবং বিসিএ অনার অফ দ্যা ইয়ার। এছাড়াও কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের কারি ইন্ডাস্ট্রির নানা কাজে সহযোগিতার জন্য স্বীকৃতিস্বরপ বিশেষ সম্মাননা এওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এ উপলক্ষে ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে লন্ডনের ওয়ালথাম অ্যাবিতে অবস্থিত হোটেল ম্যারিয়েটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১৪তম বিসিএর এওয়ার্ড ২০১৯-এর নানা আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, বিসিএ এওয়ার্ডের অংশ হিসাবে বিসিএ ব্রিটেনের বিভিন্ন রেস্টুরেণ্ট এবং শেফদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই শর্ট লিস্ট করে সেরাদের নির্বাচন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সেরাদের বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য বিসিএর ১৪তম এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে কারি ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন শাখার বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি এম এ মুনিম জানান, ‘এই বছর বিসিএ‘র এওয়ার্ডের শিরোনাম হলো- ‘বিসিএ: দ্যা হোম অফ গ্রেট ব্রিটিশ কারি’। তিনি স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি কারি শিল্পের মাধ্যমে আমরা ব্রিটেনের খাবার সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছি এবং এই শিল্পের আলোকিত দিকগুলো মূলধারায় তুলে আনতে এটি হচ্ছে ধারাবাহিক কাজের অন্যতম অংশ।
বিসিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল মিটু চৌধুরী বলেন, ব্রিটেনে অর্থনীতিতে বাংলাদেশী কারি শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা একটি স্বীকৃত বিষয়। এই শিল্প এখন ব্রিটেনের মূলধারার খাবার সংস্কৃতিতে ষআন কর নিয়েছে। এই অর্জনের পিছনে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এবং স্টাফদের অবদান অনস্বীকার্য। আমরা তাদের অর্জন এবং নতুন নতুন উদ্ভাবিত কারি ডিসগুলোও মূলধারায় প্রকাশ করতে নিরন্তর প্রয়াস চালাচ্ছি। বিসিএ’র প্রধান কোষাধ্যক্ষ সাইদুর রহমান বিপুল বলেন, দীর্ঘদিন থেকে চলমান ব্রেক্সিট ইস্যু’র কারণে বর্তমানে অন্যান্য ব্যবসার মতো ব্রিটিশ কারিশিল্প কঠিন সময় পার করছে। আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি হিসাবে বিবেচিত কারিশিল্পের সংকট সময়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। আসন্ন বিসিএ ১৪তম এওয়ার্ড বাংলাদেশী কারি শিল্পের আলোকিত দিকটিই তুলে ধরতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এই শিল্পে জড়িতদের মধ্যে মৌলিক প্রতিযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে নতুন নতুন ম্যানু এবং দক্ষ শেফ এবং বিভিন্ন শাখার দক্ষ স্টাফ তৈরী হবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই বছরের এওয়ার্ড অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে বিসিএ কারি ইন্ডাস্ট্রির বিদ্যমান নানা সমস্যা এবং সম্ভাবনার একটি মৌলিক বার্তা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে চায়। ১২,০০০ এরও অধিক ব্রিটিশ বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাটারার্সদের প্রতিনিধিত্বকারি শক্তিশালী সংগঠন বিসিএ মনে করে দীর্ঘদিন থেকে চলমান ’ব্রেক্সিট ইস্যু’ কারি শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পগুলোকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, ব্রিটেনের রাজনীতিবিদগণ এই একটি বিষয়েই মনোনিবেশ স্থির করে রেখেছেন। অন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে না বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। এই অনিশ্চয়তা ব্রিটেনের কারি শিল্পকে প্রায় ধংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসছে।
বিসিএ দীর্ঘদিন থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহে কারি শিল্পের ষ্টাফ সংকট সমস্যা নিরসনের জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। যাতে করে কারি ইন্ডাস্ট্রি বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠে ব্রিটেনের ‘কারি লাভারস‘দের কাছে। এবং এর স্বাদ সর্বত্র পৌছি দিতে, সর্বোপরি যাতে জাতীয় অর্থনীতিতে এই শিল্প আরও বেশি অবদান রাখতে পারে।  
উল্লেখ্য, কারি ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা, দাবী দাওয়া বাস্তবায়নে বিসিএ‘র বিভিন্ন কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, বিসিএ ২০০৮ সালের ১০ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে ‘সেইভ দ্যা কারি’ শিরোনামে একটি বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং স্থানীয় এমপিদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। বিক্ষোভে কারি শিল্প সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল।  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিসিএর পক্ষ থেকে তুলে ধরা বিভিন্ন দাবির মধ্যে রয়েছে- শর্টেজ ওক্যুপেশন লিস্টে উল্লেখিত দক্ষ কর্মীর বার্ষিক বেতন ২৯,৫৭০ পাউন্ড থেকে অবিলম্বে কমিয়ে তা  ২০,০০০ পাউন্ড এর মধ্যে নির্ধারণ করা। কারণ, একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি একটি অন্যায্য সিদ্ধান্ত।
এছাড়া, ‘ডকুমেন্টহীন‘ কর্মীদের ‘ওয়ার্ক রিপ্লেইসমেন্ট’-এর আওতায় এনে তাদেরকে কারি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া। বাংলাদেশি কারি শিল্পের সংকট সময়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করলে কারি শিল্পের বিদ্যমান স্টাফ সংকট হ্রাস পাবে বলে বিসিএ মনে করছে। এর পাশাপাশি কারি শিল্পের দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে জরুরীভিত্তিতে একটি ন্যাশনাল এপেন্ট্রিশীপ স্কিম গ্রহণ যেখানে বিভিন্ন দেশের জাতিগত খাবার তৈরী, সরবরাহে বিনিয়োগ এবং সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য দক্ষ কর্মী তৈরীর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এটি স্থানীয় মানুষের জন্য ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানও তৈরি করবে।  
সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন বিসিএর সেক্রেটারি জেনারেল মিঠু চৌধুরী। লিখিত বক্তব্য পাঠ ও প্রশ্ন উত্তরপর্ব পরিচালনা করেন প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি ফরহাদ হোসেন টিপু।
এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চীফ ট্রেজারার সাইদুর রহমান বিপুল, সাবেক প্রেসিডেন্ট এম কামাল ইয়াকুব, পাশা খন্দকার এমবিই, বিসিএ এওয়ার্ড কমিটির জয়েন্ট কনভেনার হেলাল মালিক, শেফ বাছাই কমিটির প্রধান আতিক রহমান. লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, বিসিএ’র অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, কোবরা বিয়ারের সিনিয়র ডাইরেক্টর স্যামসন সুহেল, লোলো ইট-এর ল্যে জোন্স, কিং ফিশারের সিনিয়র ডাইরেক্টার মি. পাটেল।
এই বছরের বিসিএ পুরস্কারগুলোর স্পন্সর হচ্ছে- কোবরা বিয়ার, কিংফিশার বিয়ার, সুপার পোলো, শেফ অনলাইন, লোলো ইট, স্কোয়ার মাইল, কানসারাস. গান্ধি ওরিয়েন্টাল, ব্র্যান্ডপ্যাক্স, জাইরো ফুডস লিমিটেড, ঢাকা রিজেন্সি, রাধুঁনি, পেইটাপ, অ্যারোমা আইস ক্রীম, বাংলা টাউন ক্যাশ এন্ড কারি, হ্যাপোসা ও মাধুস।  
‘বিন্দালু ভিসা‘- বিসিএ‘র আন্দোলনের সফলতা
এদিকে, গত ৯ সেপ্টেম্বর, সোমবার সেক্রেটারি প্রীতি প্যাটেল ঘোষণা করেছেন, তিনি দক্ষ শেফদের উপর ইমিগ্রেশন বিধি নিষেধ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন। তিনি ব্রিটেনের রেস্টুরেন্টগুলোকে বাচাঁতে প্রবর্তিত এই প্রকল্পকে ’বিন্দালু ভিসা’ নামে অভিহিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে সন্তোষ প্রকাশ করে বলা হয়, জানা গেছে স্বরাষ্ট্রসচিব প্রীতি প্যাটেল নতুন পয়েন্ট ভিত্তিক ইমিগ্রেশন নীতি প্রবর্তন করবেন। রেস্টুরেন্টগুলো যাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ শেফ আনতে পারে সেদিক বিবেচনায় রেখে ইমিগ্রেশনের নিয়মগুলোতে পরিবর্তন করছেন তিনি। বিসিএ মনে করে, প্রীতি প্যাটেলের এ ঘোষণা সংগঠনটির দীর্ঘ লবিইং ও আন্দোলনের আরও একটি সফলতা।