Share |

পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসনে লেবার দলের মনোনয়ন : সাড়া ফেলেছেন হালিমা বেগম

পত্রিকা প্রতিবেদন
লন্ডন, ১৬ সেপ্টেম্বর : পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস সংসদীয় আসনে লেবার দলের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা সরগরম হয়ে উঠেছে।
 যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দফতরের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করা হালিমা বেগম এ আসনে দলটির মনোনয়ন পেতে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত যেসব মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা গেছে তার মধ্যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় বাংলা টাউনে বেড়ে উঠা বাঙালি কন্যা হালিমা বেগম সবার চেয়ে বেশ এগিয়ে। শিক্ষা জীবন থেকেই লেবার দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হালিমা বেগম।  হালিমার বাংলাদেশে বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরের শ্রীরামসি। দুই বছর বয়সে তিনি বাবা-মার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে আসেন।  লেবারের নিশ্চিত আসন হিসেবে পরিচিত পপলার অ্যান্ড লাইম হাউজে দলের মনোনয়ন বাগাতে পারলেই বিজয় অনেকটা নিশ্চিত বলে ধরে নেয়া যায়।  
পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসনে লেবার দলীয় বর্তমান এমপি জিম ফিটজপেট্রিক আগামী নির্বাচনে  প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যে কারণে আসনটিতে নতুন প্রার্থীর খোঁজে নেমেছে লেবার পার্টি। সম্প্রতি লেবার পার্টি আসনটি কেবল নারীদের জন্য সংরক্ষিত ঘোষণা করে। এর ফলে কেবল নারীরাই এ আসনের মনোনয়নের জন্য লড়তে পারবেন। প্রার্থী বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। তবে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন। হালিমা বেগম ছাড়া বাকী যে দুজনের না শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন- লেবার দলের লন্ডন রিজিওনাল ইস্ট কাউন্সিলের সদস্য আফসানা বেগম এবং  টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি লিডার র‌্যাচেল ব্লেক।     
বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান হালিমা বেগমের বেড়ে উঠা ও স্কুল জীবন হ্যামলেটসেই। সেন্ট্রাল ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে জিসিএসই শেষ করে এ লেভেল সম্পন্ন করেন কিংসওয়ে কলেজ থেকে। লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স (এলএসসিই) থেকে রাজনীতি ও ইতিহাস বিষয়ে বিএসসি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এমএসসি করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজেও সক্রিয় হালিমা বেগম। সেই সুবাদে টাওয়ার হ্যামলেটসের কমিউনিটির নানা ইস্যুতে তিনি সরব।  
কুইনমেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পিটালফি?স রিডেভেলপমেন্ট বিষয়ে হালিমা বেগম ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর তিনি যেমন রানিমেইড ও এ্যাকশন এইডের মতো স্বনামধন্য এনজিওতে কাজ করেন। ছিলেন লন্ডন স্কুল অফ ইকনোমিক্সের রিসার্চ কোঅর্ডিনেটর। তিনি ব্রিটিশ সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বা ডিএফআইডি) ইউকেএইড, ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষে বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। তাঁর এসব কাজের কেন্দ্রে ছিল বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দফতরের পক্ষে শিক্ষা-বিষয়ক নীতি প্রণয়ন ও বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় ভূমিকা রাখা। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দফতরে ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে কাজ করা হালিমা বেগম বাংলাদেশ, নেপাল, চীন, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক হিসেবে তিনি পূর্ব এশিয়ার ১৪টি দেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন।   
বিভিন্ন দেশে ব্রিটেনকে প্রতিনিধিত্বকারী হালিমা বেগম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের সংশ্লিষ্ট দেশ সফরকালীন সময়ে তাঁদের পরামর্শদাতা হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন যখন পাকিস্তান সফর করেন তখন হালিমা বেগম তাঁর পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন। শিক্ষা ও উন্নয়নের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশে ব্রিটেনের একজন নীতিনির্ধারক হিসেবে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন হালিমা।  
তিনি বর্তমানে বিশ্বখ্যাত খেলার সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লেগোর আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাজ্যে কর্মরত আছেন। এছাড়া টাওয়ার হ্যামলেটসভিত্তিক সংগঠন উইমেন্স এনভারনমেন্টাল নেটওয়ার্কের নন এক্সিকিউটিভ চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।  হালিমা বেগম বলেন, তিনি অভিবাসী বাঙালি পরিবারের সন্তান। টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়ে। পপলার অ্যান্ড লাইম হাউসে বসবাসরত মানুষদেরই একজন তিনি। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন, দুঃখ, কষ্ট ও সংগ্রামের যে জীবন সে সম্পর্কে তাঁর ভালই ধারণা রয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করার কারণে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর যথেষ্ট যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে। যে কারণেই তিনি পপলার অ্যান্ড লাইম হাউসের বাসিন্দাদের পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন তিনি।  
প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দাদের আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সমস্যার সমাধানে জোরালো ভূমিকা নেবেন তিনি। কাজ করতে চান তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে। রাজনীতিতে মেধা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটাতে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের লেবার দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার আহবান জানান হালিমা। তিনি সকলের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।