Share |

সীমাহীন দুনীর্তি ও অবৈধ তৎপরতার ভয়ঙ্কর চিত্র

বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ দুর্নীতি এবং সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে হঠাৎ শুরু হওয়া অভিযানে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতৃবৃন্দ ধরা পড়েছেন। চাঁদাবাজির দায়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে পদচ্যুত করে এবারকার অভিযান শুরু। সাম্প্রতিক অভিযানগুলো থেকে যে চিত্র বেরিয়ে?আসছে তাতে যে শুধু সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের সাথে কোন না কোনভাবে সংশ্লিষ্টদের প্রতিই মানুষের ক্ষোভ তৈরী হচ্ছে তা কিন্তু নয়। এসব অবৈধ এবং?অসামাজিক তৎপরতার বাণিজ্য যে মাত্রায়  সর্বব্যাপী হয়ে?পড়েছে তাতে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হবার কথা। 
এসব কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র যা প্রকাশ হচ্ছে, তা দমনের জন্য সরকারের উচিৎ ছিলো প্রশংসা পাওয়া। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ডকে দিনের পর দিন প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগে সরকারের বরং?সমালোচনা হচ্ছে। তবে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন ওঠছে- হঠাৎ করে এখন কেন দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে? এর নেপথ্য কারণ কী হতে পারে সেটার জবাব পেতে চাইছেন অনেকে।  কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে দুর্নীতি ও অপকর্ম যে দিনে দিনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে যা দেশের মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে তা প্রতিরোধে এতোদিন পর হঠাৎ করে কেনো সক্রিয় হলো? সাধারণ মানুষ দিশাহারা হয়ে ভাবছিল একটি বড় ঝাঁকুনি ছাড়া বা কোনো বিপ্লব ছাড়া দেশবাসীর মুক্তি আসবে কি?
অনেকে মনে করছিল দেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্য আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ আমরা জানি, দুর্নীতি আর অপকর্ম, দাম্ভিকতা ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছাড়া মানুষকে তার অধিকার ও জাতিকে মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়। এমন দুরবস্থা যখন বাংলাদেশে চলছে, সাধারণ মানুষ অপকর্ম আর দুর্নীতির বেপরোয়া স্রোতে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখনই দুর্নীতি আর দাম্ভিকতার বিরুদ্ধে যুগপৎ অভিযান হয়েছে। 
বেআইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত ক্যাসিনো থেকে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কালো টাকার মালিকদের যত  লুট করা বা বেপথে উপার্জিত টাকা জব্দ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনি। সরকারের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট বাহিনির সাঁড়াশি অভিযানকে স্বাগত জানাচ্ছে দেশবাসী। তবে আজ যারা এসব জব্দ করছে তাদের অনেকেই কাল ছিলো অপকর্মের হোতাদের সাথে। সবকিছুর পরও আমরা বলবো, এই শুদ্ধি অভিযান যদি প্রকৃতভাবে চলে এবং সফল হয়, কোথাও বাধাগ্রস্ত না হয়, তবে দেশ ও জাতি জগদল পাথরের চাপ থেকে মুক্তি পাবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশের স্বাধীনতালাভের পর মানুষের শান্তনা ছিল অন্তত দুর্নীতিমুক্ত ও লুটপাটহীন সমতাভিত্তিক সমাজ। কিন্তু গত ৪৮ বছরে তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং বিরামহীন দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস ও দখলবাজিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। অর্ধশতাব্দীর পরও কোনো সরকারই জনগণের সরকার হতে পারেনি- জনগণের জীবনমান রক্ষা করতে পারেনি, নিরাপদ করতে পারেনি জনজীবন-তা কি সত্যিকার হবে? স্বপ্ন পুরণ হবে দেশের মানুষের, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙক্ষার বাস্তবায়ন হবে কি?
দেশের মানুষের আকাঙক্ষা ও স্বপ্ন পুরণ হওয়া চাই এই শুদ্ধি অভিযানে। না হলে সবই হবে লোক দেখানো এবং?অসার।