Share |

লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান : অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

বাংলাদেশে দুর্নীতি, জুয়া এবং লুটপাটের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ব্যাপক অভিযানের মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে। অবিশ্বাস্য রকমের বিশাল বিশাল অঙ্কের অনৈতিক লেনদেন আর চরমমাত্রার দুর্নীতির বিরুদ্ধে হঠাৎ করে সাড়াশি অভিযানে মানুষ প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হলেও কোন কোন মহল থেকে তা প্রশংসা পাচ্ছে। কিন্তু এই অভিযান আবার হঠাৎ করেই মুখ থুবড়ে পড়ে কি না সেটা নিয়েও। কারণ অতীতের এ রকম অনেক নজির আমাদের সামনে রয়েছে। ব্যাপক তোড়জোড় করে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানগুলো শুরু হয়েছিলো। খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদে অপারেশন ক্লিন হার্টও ছিল বহুল আলোচিত। সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিচারবহির্ভূত হত্যা ছিলো ক্লিন হার্টের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এসব অভিযানের ক্ষেত্রে ধরপাকড়ে যাঁরা আটক হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই কিছুদিন পর সদর্পে রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন। প্রয়োজনে কেউ দল বদল করেছেন, নয়তো অন্য কোনোভাবে রফা করে নিয়েছেন। 
ফলে এসব আইওয়াশে পর্যবসিত হয়েছে যা জনগণ বা রাষ্ট্রের কোনো উপকারে আসেনি। বরং পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকে। জনগণ মুক্তি পায় না দাম্ভিকতা, দুর্নীতি ও লুটপাট থেকে।
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, এবারের অভিযানে জাতির ভাগ্যাকাশে উদিত হবে কি কোনো আশার সূর্যপ্রতীম সুস্থ, সুন্দর সমাজ। রাষ্ট্র কি আদতেই জনগণের হবে? জনগণের ভাগ্যান্নয়নে রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট না হয়ে জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে?
খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ‘লুটপাট নাহলে দেশ অনেক এগিয়ে যেতো।’ প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং স্বীকার  করেছেন যে, দেশে লুটপাট রোধ করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় সরকারের সকল স্তরের সকল পর্যায়ে এবং নিজ দলের ভেতরে যারা অকর্মে জড়িত কেউই রেহাই পাবে না-এই কথা, এই সর্তকবাণী  শুধু শ্লোগান না  হয়ে যেন বাস্তবে রূপ নেয় এই আকাঙক্ষা নিয়ে দেশবাসী ভরসা করতে চায় সরকারের উপর। আর দোষীদের উপযুক্ত স্বচ্ছ বিচার ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তি না দিলে বা সর্বোপরি অপকর্মকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে যেই সেই হতে পারে। 
বলতে হয়, এই পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিই দায়ী। দেখা গেছে, অস্ত্রবাজ ছাত্র নেতৃত্ব গড়ে তুলতে রাজনীতিই দায়ী-যা অপরাজনীতির নামান্তর। এই অপরাজনীতির গহবর থেকেই যুব সমাজে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে দাম্ভিকতা, শক্তির দাপট এবং লুটপাটের মন্ত্র। 
এই বিষবা? শুধু যুবসমাজে ছড়িয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেখা গেছে দেশের আর্থিক যত খাত রয়েছে, সবগুলোই বিষাক্ত হয়ে সমাজে পঁচন ধরিয়ে দিছে। ব্যাংক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও ঘুষ বাণিজ্য চরম আকার ধারণ করেছে। লুটপাটের এই অপসংস্কৃতি থেকে জাতি মুক্তি চায়।