Share |

সুইনডনে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপিত

লন্ডন, ৩০ সেপ্টেম্বর : সম্প্রতি ব্রিটেনের সুইনডন শহরে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। 
গত ২৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এ শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়েছে। সুইনডনে স্থাপিত নান্দনিক ও গৌরবের প্রতীক এই শহীদ মিনার ব্রিটেনে হাতেগোনা কয়েকটির অন্যতম। উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক আগে ব্রিটেনে প্রথম শহীদ মিনার স্থাপিত হয় ও?হ্যামে।
সুইনডনে নবনির্মিত এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন সুইনডনের প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা এম এ কাহার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, সুইনডন বারা কাউন্সিলের কর্মকর্তারা, সাউথ সুইনডন প্যারিস কাউন্সিলের কর্মকর্তাসহ ব্রিটিশ বাংলাদেশী কাউন্সিলারবৃন্দ। 
উল্লেখ্য, বাঙালির গৌরবের প্রতীক ভাষা শহীদ স্মরণে শহীদ মিনার সুইনডন শহরে স্থাপনের স্বপ্ন ছিল দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন সুইনডন এই শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন সুইনডনের কার্যনিবাহী কমিটি, সুইনডন বারা কাউন্সিল, সাউথ সুইনডন প্যারিস কাউন্সিল, স্থানীয় ব্রিটিশ বাংলাদেশী কাউন্সিলারবৃন্দ এবং শহীদ মিনার নির্মাণে অর্থদানে কমিউনিটির মানুষ এগিয়ে আসায় তা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মেয়র জুনাব আলী ও কাউন্সিলার আবদুল আমিন শহীদ মিনার বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। 
সংগঠনের সাবেক সেক্রেটারি এনামুল হক চৌধুরী তাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, আমরা গত প্রায়?৭ বছর ধরে এই শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায়?স্থানীয় কাউন্সিলের সাথে কাজ করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় শহীদ মিনার নির্মাণ সম্পন্ন করে বর্তমান কমিটি ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে রইলো।  
জানা গেছে, সুইনডনের টাউন সেন্টারের নিকটে ফারিংডন পার্কের একটি জায়গা সুইনডন বারা কাউন্সিল ও সাউথ সুইনডন প্যারিস কাউন্সিল শহীদ মিনারের জন্য?সম্প্রতি বরাদ্দ করে দেয়। এরপর এই স্থানটিতে বাঙালি কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের অর্থদানের মাধ্যমে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। এতে প্রায় ২৫ হাজার পাউন্ড খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে। 
উল্লেখ্য, বাংলা ভাষাকে রাষ্টভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত অনেক ছাত্র ও যুবক পাকিস্তান সরকারের পুলিশের গুলিতে রাজপথে শহীদ হন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শোষক পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। তাদের আত্মত্যাগের এই দিনটি বাংলাদেশে এরপর থেকেই মহান শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। স্মরণীয় এই একুশে ফেব্রুয়ারি বর্তমানে জাতিসংঘ স্বীকৃতি আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস।