Share |

লন্ডনে আনন্দমুখর গোলাপগঞ্জ উৎসব

প্রায় অর্ধশত সংগঠন ও বিলেতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশে ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো সম্পন্ন হয়ে গেলো সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব। এ উপলক্ষে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে বসেছিলো গোলাপগঞ্জবাসীর মেলা।
দুপুর ১২টায় ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব যুক্তরাজ্য-২০১৯ শীর্ষক উৎসবের উদ্বোধন করেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস, উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ছড়াকার নাট্যকার ও একাউন্টেন্ট আবু তাহের, সদস্য সচিব মারুফ আহমদ, অর্থ সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন এবং গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের মুরব্বি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এর পর বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার নিয়ে র‌্যালী ছুটে মূল অনুষ্ঠানস্থল ব্রাডি আর্ট সেন্টারে।
সেখানে উৎসবের দ্বিতীয় পর্বের সূচনা হয় বেলা তিনটায়। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মিতা তাহের ও তার দল সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এদিন ব্রাডি আর্ট সেন্টারের প্রধান হলে আয়োজকরা পূর্ব থেকেই প্রজেক্টরে সরাসরি অনুষ্ঠান উপভোগের সুযোগ করে দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় হল পরিপূর্ণ হয় যায়। জাতীয় সঙ্গীতের পর বাংলাদেশি-ব্রিটিশ সেতুবন্ধনের ওপর ভিত্তি করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের গাওয়া গান শোনানো হয়। এরপর উৎসব কমিটির আহ্বায়ক আবু তাহের, সদস্য সচিব মারুফ আহমদ ও অর্থ সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণের মধ্যে ছিল গোলাপগঞ্জের তথা ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন, সিলেটি কবিতা আবৃত্তি, সিলেটি বিয়ের গান, ধামাইল নৃত্য, নৌকা বাইচের গান, নৃত্য, নাইফ ক্রাইম ও ড্রাগের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সেমিনার এবং সিলেটি আধুনিক ও বাউল গান।
দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বেথনাল গ্রিন ও বো আসনের এমপি রুশনারা আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রয়ডন কাউন্সিলের মেয়র হুমায়ূন কবির, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলার ভিক্টোরিয়া ওভাজে, ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলার আছমা বেগম, ডেপুটি স্পিকার কাউন্সিলার আহবাব মিয়া, ওসমানী ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক শফিউর রহমান এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলারবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক ‘শিকড়ের সন্ধানে’ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত গোলাপগঞ্জের মুরব্বিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন আহ্বায়ক আবু তাহের ও সদস্য সচিব মারুফ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন বাংলাদেশ থেকে আসা জনপ্রিয় বাউল শিল্পী সৈয়দ আশিকুর রহমান আশিক, ব্রিটেনের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আলাউর রহমান, মিতা তাহের, নাজমুন নাহার খান তন্বী, বাপ্পিতা ও নতুন প্রজন্মের শিল্পী মৃদুল, মহিমা, রাফা, আনিকা ও মাহি। উৎসব উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ খান সঙ্গীতানুষ্ঠানের অংশবিশেষ উপস্থাপন করেন। মুনিরা পারভিনের উপস্থাপনায় সিলেটি বিয়ের গান ও ধামাইল নৃত্যে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন মিতা তাহের, নাজমুন নাহার খান তন্বী, বাপ্পিতা, আনিকা, রাফা, মাহি, মহিমা, মৃদুল, রাদ, রাজিব, রাকা প্রমুখ।
উৎসবে সিলেটি ভাষায় বাউল গান ও মরমী সাহিত্যের ওপর আলোচনা উপস্থাপনা করেন কবি ও গীতিকার আহমেদ ময়েজ। এছাড়া অনুষ্ঠানে সিলেটি কবিতা আবৃত্তি করেন জনপ্রিয় রেডিও প্রেজেন্টার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিসবাহ জামাল, ফয়েজ নূর ও কবি দবিরুল ইসলাম চৌধুরী। পুরনো দিনের স্মৃতি বিজড়িত পুঁথি পাঠ করেন কবি মুজিবুল হক মনি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল র‌্যাফল ড্র। পুরো অনুষ্ঠান সরাসরি ’লন্ডন বাংলা’ ফেইসবুক পেইজে সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আবু তাহের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং আগামিতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।