Share |

ইউকেবিসিসিআই অ্যাওয়ার্ডস : সফল বাংলাদেশিদের অর্জন উদযাপন

লন্ডন, ০৭ অক্টোবর : জমজমাট আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটালিস্টস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ র (ইউকেবিসিসিআই) গালা ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। বিজনেস অ্যান্ড এন্ট্রেপ্রেনার এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০১৯ শীর্ষক এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় সেন্ট্রাল লন্ডনের অভিজাত হিলটন অন পার্ক লেন হোটেলের সুবিশাল বলরুমে। মোট ১২টি ক্যাটাগরিতে সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের  হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশিষ্টজনেরা। 
ইউকেবিসিসিআই-এর অনুষ্ঠানে  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্ষমতাসীন কনজাভেটিভ দলের চেয়ারম্যান জেইমস ক্লেভারলি। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ দলের বার্ষিক সম্মেলনে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। সেখানে তিনি ব্রিটিশ পররামন্ত্রী ডোমিনিক রাব এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে একটি সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের হাইকমিশনার আমাদের দলীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন। কারণ আমরা বিশ্বের অন্যতম দ্রুত এগিয়ে চলা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ গুরুত্ব বুঝি।’
ক্লেভারলি আরও বলেন, গত মাসে ‘কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ এর আয়োজনে তাঁর দলের তিন আইনপ্রণেতা অ্যান মেইন, বব ব্ল্যাকম্যান এবং দলের ডেপুটি চেয়ার পল স্কালি বাংলাদেশ সফর করেন। তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরও পরিদর্শন করেন। তিন এমপি ফিরে আসার পর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দফতর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যে আরও ৮৭ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেয়। ‘এটাই শক্তিশালী দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের ফলাফল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।  
যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এই রাজনীতিক বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক বরাবরই নিবিড়। দুই দেশের ব্যবসাগুলোর সম্পর্ক জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চায় তাঁর দেশ। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত বাংলাদেশে তৃতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসতে চাই।’ 
আইটিভির উপস্থাপিকা সামিনা আলী খানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট বজলুর রশিদ এমবিই। তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, কেবল কারি ইন্ডাস্ট্রি ব্রিটিশ অর্থনীতিতে বছরে সাড়ে ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের অবদান রাখে। ব্রিটেনে প্রায় ৫ লাখ বংলাদেশি ব্রিটিশ আইটি খাত থেকে শুরু করে, আমদানী-রপ্তানি, চিকিৎসা, রিটেইল সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মেধা ও পরিশ্রমে দেশের জিডিপি প্রতি বছর বৃদ্বি পাচ্ছে। আর এর পেছনের সেরাদের কৃতিত্ব গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে এসবের স্বীকৃতি প্রদানেই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সংগঠনের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ, ওবিই, ডিবিএ বলেন, ব্রিটিশ অর্থনীতিতে আমরা সাফল্যের চি? রেখেছি। তবে সময় এসেছে বাংলাদেশ এবং ব্রিটেনের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধি করা। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন সম্ভাবনাময় দেশ। আর তাই বাংলাদেশের সফল ব্যবসায়ীদের সাথে ব্রিটেনের সফল ব্যবসায়ীদের একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার কাজটি করছে ইউকেবিসিসিআই। আর এতে করে দুই দেশের সাথে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে বলে তিনি মনে করেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাউস অব লর্ডসের সদস্য ক্যারেন বিলিমোরিয়া ও রুশানারা আলী এমপি।  অনুষ্ঠানে ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার জন্য এবার মোট ১২টি ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড  প্রদান করা হয়।  ইউকেবিসিসিআইয়ের মর্যাদাকর ‘আজীবন সম্মাননা’ পুরস্কার লাভ করেন এ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, পাইওনিয়্যার ইন্সুরেন্স ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ী বলেন, যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশিদের  মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে ইউকেবিসিসিআই যে কাজ করছে তা প্রশংসনীয়। একজন ব্যবসায়ী হিসাবে তিনি মনে করেন কঠোর পরিশ্রম, সততা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৈাছাতে পারে খুব সহজেই। তিনি ব্রিটিশ বাংলাদেশী সাফল্যের গল্প শুনে অভিভূত বলে জানান। এসব সফল উদ্যোক্তাদের মেধা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। আর তাই বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান তিনি।
স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ডস প্রদান করা হয় বিলেতের প্রাচীনতম সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা জনমত এবং ডাইরেক্টর্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস প্রদান করা হয় ইউকের অন্যতম জনপ্রিয় বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল এসকে।
এছাড়া কন্ট্রিবিউশন টু দ্য ইন্ডাস্ট্রি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন প্রাইম স্টেইট অ্যাজেন্টের উদ্যোক্তা ও পরিচালক কাজী আরিফ।  বিজনেস ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন প্রফেসর ডাক্টার পারভেজ হারিস, ইন্সপাইরেশনাল বিজনেস লিডার অব দ্যা ইয়ার শামীমুর রহমান বশির, বেস্ট নিউ বিজনেস লন্ডন টি এক্সেঞ্জের ইউজি মাছা এনার্জি ড্রিংক। রেস্টুরেন্ট অব দ্যা ইয়ার বোমবে প্লেইস এবং ইয়াং অ্যান্ট্রোপ্রনার অব দ্য ইয়ার রাফায়েল চৌধুরী।   আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার হার এক্সেলেন্সি সাইদা মুনা তাসনীম, বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের এমপি রুশনারা আলী, পল স্কালি এমপি, লর্ড কারান বিলিমরিয়া, ইউকেবিসিসিআই ভাইস চেয়ারম্যান এম.এ. রউফ জেপি, ফাইনান্স ডাইরেক্টর নাজমুল ইসলাম নুুর, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এ্যাফেয়ার্স ডাইরেক্টর, রহিমা মিয়া, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পুরস্কার প্রদানের ফাঁকে ফাঁকে বিরতিতে শীর্ষ শিল্পীদের নাচ ও গানের পরিবেশনা ছিল বরাবরের মতো মনোমুগ্ধকর।