Share |

Share | সিলেটবাসীর অতিথিপরায়ণতার অনন্য নজির

সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনাশা নানা খবরে বাংলাদেশ ভারাক্রান্ত। দুনীর্তি, লুটপাট, সামাজিক  ও রাজনৈতিক অবক্ষয়ের দু:সংবাদসমূহ দেশ এবং দেশের মানুষকে হতাশার দিকে ঠেলছে যখন, সেই দু:সময়ে কোনো অনন্য সম্প্রীতির আনন্দময় সংবাদ মন ভালো করে দেয়। এই মন ভালো করা খবরটি হলো- সিলেটবাসী সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। 
গত ২৬ অক্টোবর শনিবার ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষায় ২৮টি বিভাগের অধীনে ১৭০৩টি আসনের বিপরীতে ৭০ হাজার ৫৫৪ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রায় ৭১ হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মিলিয়ে অন্তত ২ লাখ লোকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সিলেট নগরী। 
পরীক্ষার্থীরা যাতে পরিবহণ সংকটে না পড়েন, এ জন্য সহায়তাস্বরূপ বিনামূল্যে ২০টি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করে সিলেট চেম্বার অব কমার্স। পাশাপাশি একটি রাইড শেয়ারিং গ্রুপ ২শ’ মোটরসাইকেল নিয়ে পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। রাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে হোটেল-মোটেলে স্থান না পেয়ে মসজিদে রাত কাটান। কর্তৃপক্ষ মসজিদ খুলে দেন। এরপর পরীক্ষার্থীদের গাড়ি দেখামাত্রই অন্যান্য যানবাহনের পথ ছেড়ে দেওয়া ছিল যানজটে কুঁকড়ে যাওয়া শহরের অন্যচিত্র।  কোনো কোনো অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘জানতাম সিলেটবাসী অতিথিপরায়ণ। এবার স্বচক্ষে দেখলাম।’ ‘সিলেটের মানুষ শুধু অতিথিপরায়ণই নন, মানবিকতায়ও দেশসেরা।’ অচেনা এই নগরীতে নেমেই তরুণ-যুবকদের সহযোগিতা দেখে মুগ্ধ হন তারা।
অনেকে বলেছেন, অটোরিকশার ভাড়াটা পর্যন্ত দিতে দেয়নি। হোটেলে পৌছার পর সকালে কিভাবে বিনা ভাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে- সেবিষয়টিও নিশ্চিত করেন যুবকরা। এমন মানবিকতায় মুগ্ধ হন পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতসহ সর্বক্ষেত্রে সিলেটবাসী যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তা সারাজীবন মনে রাখবেন- এমন মন্তব্য করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
শনিবার সকালে যখন সিলেটের আকাশে সুর্যের দেখা মিলেনি। বৈরী আবহাওয়া স্থবির ছিল জনজীবন। এরপরও দেখা মিলেছে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের। পরীক্ষা শুরুর আগেই সাত সকালে বেরিয়ে আসেন চেম্বার নেতারা। শিক্ষার্থীরা যাতে পরিবহণ সংকটে ভোগান্তিতে না পড়েন, সেই মানসে চেম্বার অব কমার্স থেকে ২০টি বাস সরবরাহ করা হয় নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে। 
ওই বাসগুলো পরীক্ষার্থীদের বহন করে নেয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর তাতে একজন করে গাইড হিসেবে দেওয়া হয় রোটারেক্ট সদস্য। কিন্তু এরপরও স্বীয় দায়বোধ থেকে বসে থাকেননি চেম্বার নেতৃবৃন্দ। কাকডাকা ভোরে তারা বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে বাসে পরীক্ষার্থীদের পরিবহন তদারকি করেছেন। শিক্ষার্থীরা যাতে আস্থাহীনতায় না ভোগেন, এর জন্যই পাশে থেকে তদারকি করেছেন তারা।  সম্প্রীতির এই অনন্য নজিরের সংবাদটি দেশেবিদেশে ছড়িয়ে গেছে নানা মিডিয়ার মাধ্যমে। আমরা মনে করি, সব মানুষের মাঝেই এই সম্প্রীতিবোধ রয়েছে। শুধু তাকে জাগিয়ে তোলার প্রয়োজন। সিলেটবাসী একযোগে সাড়া দিয়েছেন এবং দাঁড়িয়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশে।  বাংলাদেশ এখন যে মানবিক সংকটকাল অতিক্রম করছে, এই সময়ে সমগ্র জাতি যদি এভাবে জেগে উঠে- সম্প্রীতি আর মুগ্ধতার আলো ছড়ানোর উদ্যোগ নেয়, দেশ আলোকময় হয়ে উঠতে দেরী হবে না। এই রকম আশা লালন করার বার্তাই দিল সম্প্রতি সিলেটবাসী।