Share |

স্বাধীনতার চার যুগ : শোষণমুক্ত, সাম্যবাদী সোনার বাংলা কবে হবে?

# রাজনউদ্দিন জালাল #
এই লেখনির শুরুতেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই এবং কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই সেই বীর সন্তানদের যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বিজয় এবং স্বাধীনতা। ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান এবং একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ফসল হিসাবে পেয়েছি আমরা বাংলাভাষার মর্যাদা, একটি লাল-সবুজের পতাকা এবং বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন একটি ভূখন্ড - যার নাম বাংলাদেশ।
এসব অর্জনের জন্য আমরা অনেক সময় নামি-দামি নেতাদের নিয়ে গর্ব করি। তবে, স্মরণ করি না অগণিত ত্যাগীদের- যাদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এসব অর্জন। এদের অনেকেই উপযুক্ত মর্যাদা না পেয়ে অন্ন এবং চিকিৎসার অভাবে অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে দিন গুজরান করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বর্তমানেও আমরা দেখতে পাই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক এবং একাত্তরের সৎ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অনেকেই অপমানজনক জীবন যাপন করছেন।

মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা
আমার জন্ম বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলাধীন চান্দগ্রামে। সুনাই নদীর তীরের এই সুন্দর গ্রাম আমার পূর্ব প্রজন্মের আদি নিবাস।
বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য বড়লেখা উদ্যানে ওসমানী সাহেবের আহবানের পরে আমার গ্রাম এবং ইউনিয়নের কিছু সংখ্যক তরুণ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য লাতুর বর্ডার পার হয়ে ভারতে যান। এরা সকলেই ছিলেন সাধারণ কৃষক ও শ্রমিক পরিবারের সন্তান। অবস্থাশালী তেমন কেউ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেননি বলেই জানি।
১১ বছরের আমি তখন প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র। আমাদের স্কুলের শিক্ষক এবং প্রতিবেশী প্রয়াত কাইয়ূম মাস্টার সাহেবের নেতৃত্বে আমি এবং আমাদের বন্ধুবান্ধব মিলে গ্রামে ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মিছিল বের করতাম। আমরা শ্লোগান দিতাম- ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ এবং ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। ১৯৭১ ইংরেজির নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেন আমাদের এলাকায় আসেন এলাকার জননন্দিত নেতা বর্তমানে প্রয়াত আবদুল জব্বার এবং সিরাজুল ইসলাম। দুজনই পরবর্তীতে এমপি হয়েছিলেন। তাদের নেতৃত্বে আমরা এলাকায় মিছিল দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে ভোট চাই এবং বিজয়ী হই। তবে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা জনগণের এ রায় মানেননি এবং পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
আমার চাচা (পাশের ঘরের) সুলেমান মিয়া একজন প্রখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক ছিলেন। এই কারণে হানাদার বাহিনি রাজাকারদের সহায়তায় আমাদের গ্রামে প্রবেশ করে। পুড়িয়ে দেয় সুলেমান চাচার ঘর। আমিসহ আমাদের পাড়া-প্রতিবেশীদের বেদম মারপিট করে। আমাদের পাড়ার মহিলাদের কিভাবে ধর্ষণ করেছে হানাদাররা তা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। আমার আপন বড়ভাই এবং ফুফুতো ভাইকে লাতুর ক্যাম্পে নিয়ে যায় হানাদারেরা গুলি করে হত্যা করার জন্য। তবে তাদের সৌভাগ্য- সেখানে দেখা হয় আমাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় পার্শ¦বর্তী উপজেলার মুসলিম লীগ নেতা বচন হাজীর সাথে। তিনিই বিভিন্ন কৌশলে এ দুজনকে মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই দিতে সক্ষম হন বলে জেনেছি।
আমার মতে, আমার মা ছিলেন (বর্তমানে প্রয়াত) বড় এক মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাবা তখন ব্রিটেনে ছিলেন। এরকম বহু রাত গেছে যখন ক্ষুধার্ত মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের বাড়িতে আসতেন খাওয়ার জন্য। আমার মা সব সময় হাসিমুখে  মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করতেন।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে আমাদের চান্দ বাজারে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনির সদস্যরা ক্যাম্প স্থাপন করে বিজয়ের ঘোষণা দেন।
সম্প্রতি দেশে গিয়েছিলাম। এ সময়?আমার পাশের বাড়ির এক বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আবদার পাঠিয়েছেন মেয়ের বিয়ে এবং ছেলের অপারেশনের জন্য আর্থিক সহায়তার জন্য। আমার প্রশ্ন, দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজ স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও এই দুর্ভাগ্যের শিকার কেন হবেন?

প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আমি মা-বাবার সাথে লন্ডন চলে আসি ১৯৭২  সালের ৩১ মে। এখানে আসার পরে প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে জেনেছি বিভিন্ন সভা-সমিতিতে, তখনকার তোলা ক্যামেরার ছবিতে এবং প্রামাণ্য চিত্রে।
শত শত মুক্তিযোদ্ধার পক্ষের সংগঠকদের নাম লেখা এই ক্ষুদ্র প্রতিবেদনে সম্ভব নয়। এদের অনেকেই পরবর্তীতে সমাজকর্মের মাধ্যমে আমাদের অভিভাবক, সিনিয়র বন্ধু এবং প্রেরণাদাতা হয়ে যান। এদের মুখে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক গল্প শুনেছি। পরবর্তীতে এদেরই উৎসাহ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নিজেকে নিয়োজিত করি ১৯৭৮ সালের বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন (পূর্ব লন্ডন) ‘দি ব্যাটল অব ব্রিকলেন’-এর সাথে।
লাল সালাম জানাই শত শত মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক কমিউনিটি নেতাদের, যারা আবু সাঈদ চৌধুরী সাহেবের নেতৃত্বে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে ব্রিটেনের মিডিয়া এবং রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বের মানুষকে জাগ্রত করেন।
প্রবাসী বাঙালিরা (প্রায়?৯৯% সিলেটের লোক) নিজের সম্পূর্ণ বেতনের টাকা প্রতি সপ্তাহে ‘খিছা’ (বেতনের প্যাকেট) না খুলেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য দান করে দিতেন। এই ধরণের অনুদান দিয়েই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধের খরচ বহন করে। মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র কেনা হয় এ ধরণের সাহায্য দিয়ে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম তহবিল শুরু হয় এই প্রবাসীদের অনুদানে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য এরকম ত্যাগের উদাহরণ পৃথিবীতে কমই আছে।
ত্যাগী এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের নেতৃত্বেই বিশ্ববাঙালির আত্মপ্রকাশ। বিশ্বের প্রায় দেশেই বাঙালির বসবাস রয়েছে। অনেক দেশে বাঙালিরা বহিরাগত হিসাবে বাস করছেন। তারা সেখানে সঠিকভাবে ন্যায়বিচার পান না কিংবা অধিকার বঞ্চিত অথবা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। তবে ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকায় বাঙালিরা অনেকেই স্থায়ী বাসিন্দা। তারা সম-অধিকার এবং মর্যাদাশীলভাবে জীবন যাপন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্রিটেনে ‘দি ব্যাটল অব ব্রিকলেন ১৯৭৮’ (প্রবাসী বাঙালিদের ছোট এক ধরনের সংগ্রাম), আমাদেরকে দিয়েছে আত্মপরিচিতি এবং বিশ্বাস। এই সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আমরা সক্ষম হয়েছি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থান তৈরীতে। টাওয়ার হ্যামলেটসের আলতাব আলী পার্কে আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি শহীদ মিনার এবং স্পিটালফি?সের নামের সাথে সংযুক্ত করেছি ‘বাংলাটাউন’। অনেক স্কুলের নামকরণ করেছি বাঙালি নেতা ও গুণীদের নামে (বঙ্গবন্ধু, কবি নজরুল ও ওসমানী এবং শাপলা প্রাইমারি স্কুল)। বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট, সাইনবোর্ড এবং পাবলিক সার্ভিসের বিভিন্ন সার্ভিসের তথ্য দেয়া হয় বাংলায়। এই পাওয়াগুলো হল আমাদের ঐক্য আর ত্যাগের ফসল। তবে ষড়যন্ত্রকারিরা আমাদের এই সক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব অর্জনে নারাজ এবং এটি ধ্বংস করতে অনেকক্ষেত্রে তৎপর। তাই আমাদেরকে সর্বদা সচেতন এবং সাবধান থাকতে হবে। ইউনোস্কো কর্তৃক মর্যাদা দেয়া বাংলাভাষা বর্তমানে ব্রিটেনে হুমকির সম্মুখীন। এমনকি টাওয়ার হ্যামলেটসের মত স্থানে বাংলাকে একটি মডার্ণ অথবা কমিউনিটি ভাষা হিসাবে শেখার কোনো সুব্যবস্থা নেই। আমি নিজে বাংলা ‘এ’ লেভেল পর্যন্ত পড়েছিলাম কেমডেন বারার কিংসওয়ে কলেজের নাইট স্কুলের ছাত্র হিসাবে। তবে এই সুযোগ আর নেই। বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির চর্চা হতো বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে। এগুলো বেশিরভাগ বন্ধ হয়ে গেছে স্থানীয় কাউন্সিলের অর্থাভাবের অজুহাতে।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কি?
এদেশে অনেক বন্ধু-বান্ধব বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা প্রায়শই বলে থাকেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নাকি অচিরেই মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হবে। এটি সুসংবাদ এবং খুশি হওয়ার কথা। এটি আসলেই অর্জন করা সম্ভব হলে হেনরি কিসিঞ্জারের ‘বটমলেস বাসকেট’ অভিধা থেকে তো রেহাই পাওয়া যাবে।
ব্যক্তিগত কাজে প্রতি বছরই একবার বাংলাদেশে যেতে হয়। এবারে সেপ্টেম্বর মাসে এক জরুরি কাজে গিয়েছিলাম বাংলাদেশে। ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও সেখানে অবস্থান করতে হয়েছে প্রায় আড়াই মাস। তবে কাজটা হয়নি। যাই হোক, বাংলাদেশ অবস্থান এবং ভ্রমণকালে বোঝার করার চেষ্টা করেছি, সত্যিই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিনা?
এই ক্ষুদ্র প্রতিবেদনে তো সম্পূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। তবে এক নজরে যা দেখলাম তাতে মনে হলো বাংলাদেশের অনেকক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিরাজমান থাকলেও ঢাকায় উড়ন্ত ফ্লাইওভারগুলো অর্ধসম্পন্ন, বিমানবন্দর ও বিমানের সংখ্যা বেড়েছে (তবে আন্তর্জাতিক বিমান সরাসরি সিলেট চট্টগ্রামে এখনো যায় না), বিদেশী গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে, সাথে যানজট এবং দোষণীয় পরিবেশ, বিভিন্ন ধরণের কলকারখানা এবং ইন্ডাস্ট্রি স্থাপিত হয়েছে (গার্মেন্টস, প্লাস্টিক এবং খাদ্যদ্রব্য), পর্যটন উন্নত হয়েছে (সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবন)। তবে গাড়িতে বা ট্রেনে যাতায়াতে গরীবদের জন্য সুব্যবস্থা এখনো হয়নি। এদিকে, সৌরবিদ্যুত ও বিদ্যুতের ঘাটতি কমানো কথা শোনা গেলেও গরীব মানুষ সৌরবিদ্যুত কিনতে অক্ষম। আবার ডিজিটাল বাংলাদেশে কৃষক এবং শ্রমিকরাও মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন।

অবনতির যে দৃশ্য দেখলাম
অফিস আদালতে কোন কাজ আদায় করতে হলে ‘বকশিস’ প্রথা অব্যাহত। নিজের চোখে দেখলাম ভূমি অফিস, অন্যান্য অফিস এবং পুলিশ ফাঁড়ির দুর্নীতির চিত্র। অথচ এদের সবাইকে সরকারিভাবে বেতন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ঠিকাদার এবং ভূমিদস্যু যাদের সমাজে কোন উল্লেখযোগ্য অবস্থান ছিল না এখন এরা অনেকেই শত এবং হাজার কোটি টাকার মালিক। অথচ আমরা যখন তরুণ ছিলাম তখন লক্ষ টাকার মালিক ধনীদের গল্প শুনলেও ভয় করতো।
বাংলাদেশের মত জায়গায় ব্রিটেনের মত দেশের চেয়ে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি। একই সাথে বিত্তশালী মানুষ ও ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়েছে। লোভী রাজনীতিবিদ ও ধনীদের কিছু সংখ্যক মানুষ বিদেশে অবৈধভাবে টাকা পাচার করে ধ্বংস করছেন উদীয়মান বাংলাদেশের অর্থনীতি। কৃষক-শ্রমিক অনেকই বেশিরভাগ অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এরা বাস করেও দারিদ্রসীমার নীচে। বেতন এবং জিনিসপত্রের দামের সাথে সঙ্গতি নেই। এদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা, চিকিৎসা এবং প্রকৃত বাসস্থান ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। আবার যাদের টাকা আছে তারা চিকিৎসা এবং শিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যান।
অনেক লক্ষপতি এখন ভিখেরি। অন্যান্যরা শত কোটিতে খুশি নন, লোভ হাজার কোটির প্রতি। অথচ দেশের ৯০% মানুষ বাস করেন দরিদ্রসীমার নিচে (দৈনিক আয় ৫শত টাকার বেশি নয়)। ধনী-দরিদ্রের আয়ের পার্থক্য ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
জলবায়ূ পরিবর্তন (ক্লাইমেট চেইঞ্জ) বাংলাদেশকে ধ্বংস করে পানির নীচে নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। অথচ এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকার, আমলা ও জনগণের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখিনি। আগাম বর্ষা এবং সাইক্লোন ইত্যাদি হলেই প্লাবিত হয়ে যায় বাংলাদেশ এবং নদী ও সমুদ্রপারের চরের মানুষ হয়ে যান গৃহহীন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যত
মুক্তিযুদ্ধ যারা করেছিলেন তারাও এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেননি, যেখানে সম্রাটরা নৈরাজ্য কায়েম করবেন, দুর্নীতি বিরাজমান থাকবে এবং গরীব মানুষ দরিদ্রসীমার নীচে বাস করবেন আর খাদ্য, চিকিৎসা এবং বাসস্থানের অভাবে রাস্তায় দিন কাটাবেন।
মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের চাহিদা ছিল শোষণমুক্ত এবং সাম্যবাদী সোনার বাংলার। আমরা এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারছি না কেন? সমৃদ্ধশালি বাংলাদেশ গঠন করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ কেন বাংলাদেশ? জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ধনী এবং গরীবদের আয় বৈষম্য এবং বর্তমান জীবনব্যবস্থা (মতান্তরে অব্যবস্থা) হয়তো ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধের পথ দেখাবে।
জলবায়ূ পরিস্থিতি মোকাবেলা না করতে পারলে তো বাংলাদেশের ভূখণ্ড ক্রমাগতভাবে পানির নীচে ডুবে যাবে। দেশের মানুষ সবাই বর্তমান নিয়ে ব্যস্ত এবং ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করেন যারা তাদের সংখ্যা নগণ্য।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যারা টাকা বানানোর লোভে ব্যস্ত তারা কি ভয় করে না যে একদিন সব কিছু ছেড়ে কবরে যেতে হবে? আমার উপলদ্ধি হচ্ছে- এটি এক অসহায় প্রধানমন্ত্রীর আকুতি। আসলে জনগণ সহায়তা না করলে তিনি বাংলাদেশকে ঠিক করতে পারবেন না। তিনি আরো ঘোষণা দিয়েছেন যে, দুর্নীতিবাজ, রাজনৈতিক ঠিকাদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকেই চেয়ে রইলাম। দেখি, তাঁর ঘোষণা এবং পরিকল্পনা কতটকু বাস্তবায়িত হয়?
বাংলাদেশের বিজয়ের চার যুগ পূর্তিতে বাঙালি-ব্রিটিশ হিসাবে আমিও অন্যান্যদের মত আশা করি বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালি করে তুলতে এবং দেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সবাই সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। সবার জন্য বিজয়ের শুভেচ্ছা।
লন্ডন, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯
লেখক : রাজনীতিবিদ, টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টির সাবেক ডেপুটি লীডার