Share |

স্বাধীনতার আটচল্লিশ বছর: কতটা এগোলো বাংলাদেশ?

# সারওয়ার-ই আলম #
বাহাত্তরে সাতশ’ ছিয়াশি কোটি টাকার বাৎসরিক বাজেটের দেশটিকে আজ আটচল্লিশ বছরে পদার্পণের পর যখন সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট নিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে বীরদর্পে যাত্রা করতে দেখি, তখন এ দেশটির একজন নাগরিক হিসেবে সাড়ে পাঁচ হাজার মাইল দূরে বসবাস করেও আত্মশ্লাঘা অনুভব করি। গর্বে আমার এবং বিশ্বাস করি আমার মতো অনেক প্রবাসীর বুকটা ফুলে উঠে যখন দেখি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোকে পাশে ঠেলে বঙ্গপোসাগরের তীরের এই দেশটি ফি বছর নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মাঝেও প্রবৃদ্ধির সূচকে আট দশমিক একের ঘর অতিক্রম করে বিশ্বকে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিচ্ছে।
স্বাধীনতা উত্তর তলাবিহীন ঝুঁড়ির দেশটির তলা আটচল্লিশ বছরে আজ এতটাই সুসংহত যে মাত্র ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জিডিপি সময়ের পরিক্রমায় আজ তিনশ’ সাতচল্লিশ বিলিয়নে উপনীত- যা যে কোন অর্থনৈতিক বিবেচনায় ঈর্ষণীয় বটে।
দীর্ঘ নয়?মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর একাত্তরের ষোলই ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন দেশ হিসেবে সগর্বে আত্মপ্রকাশ করা সাতকোটি জনসংখ্যার দেশটি আজ আটচল্লিশ বছরে সতেরো কোটি সন্তান নিয়ে দণ্ডায়মান। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বিনিয়োগ ও জীবনমানে বহুলাংশে উন্নত মাত্র পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের দেশটিতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় যেখানে মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র সাতচল্লিশ বছর। আজ অর্ধ-শতাব্দীর অগ্রযাত্রায় তা এসে দাঁড়িয়েছে বাহাত্তর বছরে- প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই বোধকরি বিষয়টি দারুণ সন্তুষ্টির; কারণ আমরা আরো বেশীদিন বাঁচতে পারবো, আরো বেশীদিন উপভোগ করতে পারবো সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামলা সোনার বাংলাদেশের স্নিগ্ধ আলো বাতাস।
বৈশ্বিক বিবেচনায় একটি অতি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জাতিগত ইতিহাসও যুগপৎ গৌরব ও গর্বের। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জীবনের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারীতে আজ লণ্ডন, প্যারিস ও নিউ ইয়র্কে যখন দেখি বিশ্ব আমাদের ত্যাগের কথা বলছে, শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে আমাদের ভাষা শহীদদের, তখন একজন বাঙালী হয়ে আমার এবং আমার মত অনেক নাগরিকেরই আনন্দের কোন সীমা পরিসীমা থাকে না। মগ্ন চৈতন্যে আমাদের কণ্ঠ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে আত্ম-ঐশ্বর্য্যরে পংক্তিমালা:

একটি বাংলাদেশ
তুমি জাগ্রত জনতার
সারা বিশ্বের বিস্ময়
তুমি আমার অহঙ্কার।

কিন্তু আমাদের এতসব অহঙ্কার, আমাদের এত কাড়ি কাড়ি অর্জন ম্লান হয়ে যায়, যখন দেখি অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকে  হন হন করে এগিয়ে যাওয়া দেশটি মানবিক সূচকে পিছিয়ে পড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে।
বাহাত্তরে মাত্র বিয়াল্লিশ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে যাত্রা শুরু করা দেশটি বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের পর আজ প্রায় ত্রিশ বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অবতীর্ণ হলেও মানবিক বোধ, সহনশীলতা, আইনের শাসন ও পরমতসহিষ্ণুতার বিবেচনায় দেশটি যেন ততটাই পিছিয়ে পড়ছে- যা প্রকৃত অর্থেই আশংকার।
বাহাত্তরে সদ্যস্বাধীন যে দেশটির মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র অষ্টআশি মার্কিন ডলার, আটচল্লিশ বছর পর আজ সে দেশটিতে মাথা পিছু আয় প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার হলেও খবরের কাগজে আমরা যখন দেখি অভাবের জ্বালায় সন্তানের ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অসহায় জননী দু’ সন্তান নিয়ে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন, তখন সমস্ত উন্নয়ন সূচককে যেন গোলকধাঁধার মতো মনে হয়।
সন্তান প্রসবের পর হাসপাতালের খরচ পরিশোধ করতে না পেরে ছাড়পত্র পেতে ব্যর্থ প্রসূতিকে আমরা যখন হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করতে দেখি, তখন প্রবৃদ্ধির এ শনৈ শনৈ অগ্রযাত্রার হিসাব দেখে কেমন যেন ধান্ধা লাগে। মধ্যবিত্তের নিম্ন মধ্যবিত্ত অনুর্বর মস্তিষ্কে কিছুই পরিষ্কার হয় না - পাঁচ লাখ কোটি টাকার এ বিশাল বাজেটের টাকা আসলে যায় কোথায়!
উন্নয়নের সূচকগুলো আমাদের কেমন যেন ধোঁয়াশায় নিমজ্জিত করে! যখন রাজধানী ঢেকে যাওয়া তিলোত্তমা অট্টালিকা দেখি তখন মনে হয় এইতো আমরা এগোচ্ছি তীব্র গতিতে। পর মুহূর্তে অভাবের তাড়নায় কৃষকের কিডনী বিক্রি করার খবর পড়ে, মুক্তিযোদ্ধার রিক্সা চালানোর ছবি দেখে একেবারে চুপসে যাই। এইতো সেদিন ঢাকার কোন
এক কাগজে দেখলাম এক শিক্ষিত তরুণ চাকুরীর পেছনে ছুটতে ছুটতে ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করে নিজের ওপরই যেন নিজে প্রতিশোধ নিয়েছে। উন্নয়ন সূচকের কোন জায়গায় তার মত শিক্ষিত এক বেকার যুবকের মৃত্যুকে  বসিয়ে আমাদের অর্থনীতিবিদগণ রচনা করবেন  নতুন মানবিক সূচক তা আমরা কেউই জানি না। কবে, কোন প্রহরে তা দেখবো আমরা?
বিলিয়ন ডলার খরচ করে আমরা সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি, আমাদের নাগরিকদের হাতে হাতে আজ স্মার্টফোন, থ্রিজি সংযোগ, ঘরে ঘরে রঙিন এলসিডি টেলিভিশন, দেশজুড়ে একশ’ উনত্রিশটি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রায় ছ’ হাজার হাসপাতাল, দুই দশমিক আট  বিলিয়ন ইউ এস ডলার খরচ করে মেট্রোরেল তৈরী করছি আমরা, দু’শ আটচল্লিশ মিলিয়ন ইউ এস ডলারের বিনিময়ে মহাশূণ্য ঘুরছে আমাদের স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু’, কিন্তু তারপরও বিবেকের যুদ্ধে আমরা যেন হার মেনেই চলেছি প্রতিনিয়ত।
আটচল্লিশ বছরের পথপরিক্রমায় দেশটি যেন বিচারহীনতার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে আজ। নাগরিকেরা স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চেয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয় রাজপথে। শিক্ষার্থীরা যৌন নির্যাতনের শিকার সহপাঠিনীর হত্যার বিচার চেয়ে শ্রেণী কক্ষের পাঠদান ছেড়ে নেমে পড়ে রাজপথে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অন্যায়ভাবে নির্যাতিত বাবার ভয়ার্ত কণ্ঠস্বর শুনে তার শিশু সন্তান চিৎকার করে বলে উঠে- বাবা তুমি কান্না করতেছো যে, বাবা তুমি কান্না করতেছো কেন?
এরকম কান্না, এরকম ভয়ার্ত চিৎকারের তালিকা  দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুমের এক নিষ্ঠুর সংস্কৃতি চালু হয়েছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে। শুধুমাত্র মতের মিল না থাকায়, কিংবা রাজনৈতিক প্রতিবন্ধক মনে করায় রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অসংখ্য বিরোধী নেতা-কর্মীকে। চারদিকে এখন এক অদৃশ্য হানাদার বাহিনীর ভয়। মানুষ কথা বলতে সাহস পায় না, সমালোচনা করতে যেয়ে পিছু হটে। সারাদেশ জুড়ে গ্রেফতার ও গুম আতংক। মাত্র ছত্রিশ হাজার বন্দীর জায়গায় আটাত্তর হাজার বন্দীকে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে কারাগারগুলোতে। মানবাধিকার সংগঠনের সূত্রে জানা যায় এর দুই তৃতিয়াংশই বিনা বিচারে আটক।
কী এক বিস্ময়কর গণতন্ত্র উপভোগ করছি আমরা! এ বিস্ময়কর গণতন্ত্রে বিচারহীনতা অতীতের যে কোন সময়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে যেন। চলতি বছরের প্রথম  ছ’মাসে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একশ’ তিরানব্বই জন জীবনকে জীবন দিতে  হয়েছে। অথচ স্বাধীন এ  রাষ্ট্রটির মালিক  তারা প্রত্যেকেই। কিন্তু তারা জানেনা কী তাদের অপরাধ, আমরাও জানিনা কোন আইনে, সংবিধানের কোন ধারা মতো  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অধিকার অর্জন করতে পারলো!
বোধকরি আটচল্লিশ বছরে যেমনি সবচে’ বেশী উন্নতি হয়েছে অর্থনীতিতে তেমনি সবচে’ বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের শাসন ব্যবস্থা। গণতন্ত্র যেন রীতিমতো আমাদের দেশে তামাশায় পরিণত হয়েছে। আমাদের গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ভোটের আগেরদিন রাতেই বাক্স ভর্তি হয়ে যায়। আমাদের গণতন্ত্রে দেশের প্রধান বিচারপতিকে আমেরিকায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে হয়। আমাদের গণতন্ত্রে সংসদ চলে গৃহপালিত বিরোধী দল দিয়ে আর প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের নেত্রীর আশ্রয় হয় কারা প্রকোষ্ঠে। আমাদের গণতন্ত্রে গ্রেনেড হামলা করে একটি দল আরেকটি দলের নেতৃত্বকে একেবারে ধূলোয় মিশিয়ে দিয়ে স্থায়ীভাবে কায়েম করতে চায় একদলীয় শাসন ব্যবস্থা।
স্বাধীনতার আটচল্লিশ বছরে আজ জাতির সবচে’ বড় দুর্ভাগ্য হচ্ছে- আমাদের সামনে এমন একজন সৎ, আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক নেতা নেই যার নেতৃত্বে দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম হতে পারে। রাষ্ট্রে আজ সবচে’ কলুষিত বিষয়টির নাম রাজনীতি। আমরা আজ প্রবৃদ্ধিতে এগোচ্ছি  দারুণভাব কিন্তু আশঙ্কাজনকভাব পিছিয়ে পড়ছে বোধ, বিবেচনা, সহনশীলতা ও মানবিকতায়।
এইতো সেদিন খবরের কাগজে দেখলাম বাষোট্টি বার পিছিয়েছে চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার তারিখ। কেন বার বার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হচ্ছেন সে বিষয়ে কারো কোন ব্যাখ্যা নেই। এখন উচ্চ আদালতও আর স্বপ্রণোদিত হন না। বুঝতে কষ্ট হয়না কোন শক্তিশালী মহলকে বাঁচাতে মরিয়া প্রশাসন। আর জনগণও হাজারো ঘটনার মাঝে যেন খেই হারিয়ে ফেলছে। কতো বিষয়ে আর প্রতিবাদী হওয়া যায়! নিজেদের জীবনে হাজারটা সমস্যা। সকালে ঘুম ভাঙ্গতে না ভাঙ্গতেই একেকটি রোমহর্ষক ঘটনা এসে হাজির। কোনদিন লেলিহান আগুনে পুড়ে যাচ্ছে চকবাজার। কোনদিন বনানীর সুউচ্চ ভবন। কোনদিন পঞ্চম শ্রেণীর শিশুছাত্রীকে ধর্ষণ করছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। কোনদিন ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারছেন মাদ্রাসা শিক্ষক কিংবা সাত বছরের শিশুকে বলাৎকার শেষে হত্যা করছেন ধর্মশিক্ষক। আবার কখনো নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেয়ায় ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন জননী। আরেকদিন চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ছাত্রকে মেরে ফেলছেন বাসের হেলপার। কোথাও কন্যাকে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় হাত-পা বেঁধে মা-মেয়েকে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে অপরাধীরা। আবার কোথাও মেয়েকে ধর্ষণের বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভে গ্লানিতে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পডয় আত্মহত্যা করছেন হতভাগা জনক-জননী। কী সব অবিশ্বাস্য ঘটনা! স্বামী সন্তানের সামনে থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হচ্ছে গৃহিণীকে। মানুষকে মানুষ তুচ্ছ ঘটনায় মেরে ফেলছে। এতটুকু বুক কাঁপছে না কারো। অথচ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দেশে  সমাজটা এতোটা ভয়ঙ্কর ছিলনা কখনোই।
অর্থনীতির বিচারে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ঠাঁই করে নিচ্ছি ঠিকই কিন্তু নির্দয়তা, নিষ্ঠুরতায় অতীতের সকল সময়কে হার মানাচ্ছি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের এক পরিসংখ্যান সেদিন চোখে পড়লো যাতে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৩২২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে আরও ৬৩৯ জন শিশু। শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে।১০৫০ জন শিশু। দেখা যাচ্ছে, আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুটা কম হলেও ধর্ষণ, নির্যাতনের ধরণ ছিলো নির্মম ও নিষ্ঠুর। অপরদিকে, শুধুমাত্র ২০১৭ সালে ৮১৮ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আসক-এর আরেকটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর ২০১৮ সালে দেশে ৪৩৭টি বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করেছে সংস্থাটি।
এভাবে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হলে হত্যা কিংবা হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটছে। সমাজ দেহে বিবেকের পচন ও মূল্যবোধের সংকটটা আজ তীব্র। সমাজের যে মানুষগুলো নমস্য, যারা আমাদের আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল, যাদেরকে অভিভাবকেরা বিশ্বাস করেন কোনরূপ দ্বিধা ছাড়াই; সেসব শিক্ষকেরাও শ্লীলতাহানী ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত- ভাবতেই গা শিউরে উঠে। অপরদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, যাদের দায়িত্ব হলো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ যেন রাষ্ট্র নিজেই কর্তৃত্ববাদী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে নিপীড়কের ভূমিকায়! এরকম অসহায়ত্বের মাঝে একজন নাগরিক হিসেবে স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে- স্বাধীনতার আটচল্লিশ বছরে প্রকৃত অর্থে কতটা এগুলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ?
লন্ডন, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
লেখক : কবি, সাংবাদিক।