Share |

যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বিনিয়োগের মুনাফা আত্মসাতের অভিযোগ : প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

লন্ডন, ১৩ জানুয়ারি : আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অংশীদারদের মধ্যে বিরোধের শুরু। দশ বছর আগের করা প্রায় আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও এখনো লাভের মুখ দেখেননি দুই প্রবাসী বিনিয়োগকারী। হবিগঞ্জে প্রায় ৫ কোটি টাকার একটি যৌথ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এই অভিযোগ এনে?এখন এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
গত ১০ই জানুয়ারী শুক্রবার লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামসুল ইসলাম রাজু ও আবুল কালাম।
এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন, হবিগঞ্জে জি এস ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন প্রকল্পে তাদের অংশীদার
লন্ডন প্রবাসী গাজীউর রহমান গাজী সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রবাসীদের অর্থ আত্মসাত নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য মিথ্যা দাবি করে এর প্রতিবাদ জানাতেই লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান শামসুল ইসলাম রাজু ও আবুল কালাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে আমরা দুই প্রবাসী শামসুল ইসলাম রাজু এবং আবুল কালাম “জিএস ব্রাদার্স” নামের একটি কোম্পানিতে ২০০৯ সালে বিনিয়োগ করি। কোম্পানীর অংশীদার, লন্ডনে বসবাসকারী গাজীউর রহমান (গাজী) সম্প্রতি আমাদের কোম্পানী সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে মিথ্যা তথ্যাদি মিডিয়াতে উপস্থাপন করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি।
অভিযোগকারীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তারা জিএস ব্রাদার্স নামের ফিলিং স্টেশনের জমি তাদের নামে রেখে দেন। যৌথ ব্যবসার টাকা দিয়ে নিজেদের নামে বিলাসবহুল গাড়ী ক্রয়সহ আমাদের না জানিয়ে ব্যক্তিগত ব্যয় যেমন বাসার কার্পেট, ড্রাইভারের বেতন, কাজের লোকের বেতন, নিজের আত্মীয়দের বেশি বেতন প্রদান করা ইত্যাদি অনিয়ম নিয়ে ২০০৯ সাল থেকেই আমাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
শুধু তাই নয়, চুক্তি অনুসারে প্রতি বছর লাভক্ষতির হিসাব ও তিন বছর অন্তর পরিচালক বদলানোর কথা থাকলেও বিগত দশ বছরে কোম্পানীর কোন লাভের অংশ আমাদের দেয়া হয়নি। এ নিয়ে তাদের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হলে লন্ডনের বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিদের নিয়ে কয়েক দফা আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করেও নি?ত্তি হয়নি। পরে আমরা বাধ্য হয়ে লন্ডন হাইকমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ পাঠাই এবং বিষয়টি সুরাহার জন্য বাংলাদেশে গিয়ে গাজীউর রহমানের (গাজী) এলাকার সংসদ সদস্য হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ এডভোকেট মো: আবু জাহিরের শরণাপন্ন হই।
শামসুল ইসলাম রাজু এবং আবুল কালাম বলেন, আমরা ২০১৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় এমপি হোস্টেলে মাননীয় সংসদ সদস্যের বাসভবনে এমপি সাহেবসহ ১৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে দীর্ঘ ৪ ঘন্টা উভয়পক্ষের আলোচনা হয়। এতে আমরা বিগত ৮ বছরের লাভের অংশ হিসেবে সাড়ে ৪ কোটি টাকা পাওনা দাবি করি। কিন্তু আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদার গাজীর দেয়া হিসেব মতে, লভ্যাংশ হয় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
মাননীয় সাংসদ এডভোকেট মো: আবু জাহির বৈঠকের সভাপতি হিসেবে আমাদেরকে গাজীর উপস্থাপিত হিসাব অনুসারে আমাদের লভ্যাংশ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মেনে নেয়ার অনুরোধ করেন। আমরা বিচারকদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এমপি সাহেবের প্রস্তাব মেনে নিয়ে আপোষনামায় উভয়পক্ষ স্বাক্ষর করি। কিন্তু গাজী পরে এই টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করেন। তিনি বলেন, টাকা আমাদের কাছে দেবেন না, এমপি সাহেবের কাছে দিয়ে তাঁর কাছ থেকে আপোষনামা নিয়ে যাবেন। পরবর্তীতে তিনি এমপি সাহেবের কাছে পুরো টাকা না দিয়ে প্রথমে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে আসেন এবং বাকী টাকা দু-এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করবেন বলে জানান। এমপি সাহেব তখন আমাদেরকে উক্ত টাকা গ্রহণ কারার জন্য বললে আমরা এই টাকা না নিয়ে সমঝোতা অনুযায়ী পুরো টাকা একসাথে দিতে এমপি সাহেবকে অনুরোধ করি। এর ৫ মাস পর এমপি সাহেব লন্ডন সফরে এলে বাকি টাকা না দিয়ে গাজী, এমপি সাহেবের কাছ থেকে আপোষনামা নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারও কৌশল শুরু করে। তখন আমরা এমপি সাহেবকে বলি, যেহেতু গাজী এক দুই মাসের কথা বলে ৯ মাস পার করেছেন, সেহেতু আপনি তার কাছ থেকে বাকী টাকার একটি চেক নিয়ে নেন।
পরবর্তীতে এমপি সাহেব বাকী ৭০ লক্ষ টাকার চেক ব্যাংকে জমা রাখলে তা-ও (চেক) ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়। এর পরবর্তীতে মাননীয় সাংসদ বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
প্রবাসী শামসুল ইসলাম রাজু ও আবুল কালাম লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পাওনা ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাত করার হীন উদ্দেশ্যে গাজী তার নিজ এলাকার সংসদ সদস্য এবং তার পরিবারের সদস্যসহ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। এ ব্যাপারে আমরা দেশে গিয়ে বিভিন্ন সংস্থায় আবেদন করি। শুধু তাই নয় ২০১৩ সালে আমাদের অজান্তে অধিক মুনাফার জন্য ফিলিং স্টেশনে মিটার টেম্পারিং করে ৫৮ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন তিনি। এ হীন কর্মকাণ্ডের কথা সরকারী দপ্তরে অঙ্গীকার নামায় স্বীকারও করেছেন তারা।
শামসুল ইসলাম রাজু ও আবুল কালাম এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।