Share |

লন্ডনে গ্রন্থীর আনন্দ-আড্ডা : লেখক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সমাবেশ

সারওয়ার ই আলম
লন্ডন, ২০ জানুয়ারি : লন্ডনে শীতটা জেঁকে বসতে শুরু করেছে। একেতো হাড় কনকনে ঠাণ্ডা, তারপর সারাদিনের কর্মক্লান্তি। তবুও আড্ডার কথা শুনে নিজেকে কিছুতেই দমিয়ে রাখতে পারলাম না। উচ্চনিনাদে ভাটিয়ালী ছেড়ে দিয়ে এ-টুয়েলভ ধরে ছুটে গেলাম পূর্ব লন্ডনের জুবিলি স্ট্রিটে। এখানটাতে বিলেতের এ সময়কার সবচেয়ে প্রভাবশালী বাংলা কাগজ সাপ্তাহিক পত্রিকার কার্যালয়। আমাদের আড্ডার জন্য গ্রন্থী সম্পাদক কবি শামীম শাহান এ জায়গাটিই বেছে নিয়েছেন। গিয়ে দেখি কবি হামিদ মোহাম্মদ আর কবি টিএম কায়সার, চাচা-ভাতিজা মিলে আমন্ত্রিতদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ভালবাসার ডালা সাজিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
শীত কেটে কেটে, নির্দিষ্ট সময়ের আগে পরে দূর দূরান্ত থেকে সবাই ঠিকই এসে জড়ো হলো গ্রন্থীর আনন্দ আড্ডায়। কবিতা, গান, সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতির তীর্যক বিশ্লেষণ, স্মৃতিকথা আর হাস্যরসে আপ্লুত হলাম আমরা সকলে। মায়া এঞ্জেলো থেকে পড়ে শোনালেন জেসমিন চৌধুরী, স্বরচিত কবিতা পড়ে মুগ্ধ করলেন কবি ও নাট্যশিল্পী কাজী নজরুল ইসলাম। খালি গলায় ‘তুমি কি এমনি করে থাকবে দূরে’র মত বেশ কিছু সোনালী দিনের গান গেয়ে আড্ডায় সবাইকে আপ্লুত করলেন কণ্ঠশিল্পী রিপা রকিব।
কণ্ঠশিল্পী সঞ্জয় দে’র প্রাণকাড়ানিয়া কণ্ঠে হারানো দিনের কয়েকটি গান শুনে, তার সাথে হেঁড়ে গলায় কণ্ঠ মেলাতে যেয়ে বারবার খেই হারাচ্ছিলাম আমরা; যাদের কৈশোর আর তারুণ্যের এক বিশাল অধ্যায় জুড়ে স্মৃতির পাতা দখল করে আছে মান্নাদের বহুল জনপ্রিয় ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই-এর মতো কালজয়ী কিছু গান।
নৃত্য শিল্পী সোহেল আহমেদ, সোনিয়া সুলতানা, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী নন্দিতা মুখার্জি আড্ডায় যুক্ত হলেন খানিকটা বিলম্বে যখন কবি শামীম শাহানের স্ত্রীর হাতে রান্না করা মুখরোচক খাবারের পর্বটা শেষ করে আমরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছি আর কবিপতœীর রন্ধন শৈলীর অকাতর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে সবার কাছে আবারো নন্দিত হলেন নন্দিতা। তীব্রভাবে একটি হারমোনিয়াম পাওয়ার চেষ্টা করে আমরা যখন ব্যর্থ তখন কবি টিএম কায়সার তার ভরাট কণ্ঠে গান পরিবেশনের অনুসঙ্গ হিসেবে বেছে নিলেন এলুমিনিয়াম পাতিলের একটি ঢাউস ঢাকনা। না যুতসই হলো না! শেষ পর্যন্ত টেবিলের ওপরই এই ‘শক্তিমান’ কবির আঙ্গুলগুলো তরঙ্গায়িত হলো গানের তালে তালে।
দু’একটি কবিতা পড়ে শোনানোর সুযোগ আমিও পেয়েছিলাম। যদিও গত ক’দিনের ঠান্ডায় গলাটা একেবারে বসে ছিল, তারপরও এতসব গুনীজনের সংস্পর্শে মুহূর্তে একেবারে চাঙ্গা বোধ করছিলাম। কবিতা পড়া শেষে দেখি সাত আটটা হাত তালিও পড়েছে। নিতান্তই ভদ্রতা করে কিনা কে জানে!
রাজনীতিবিদ ও কবি হরমুজ আলী, সমাজকর্মী সৈয়দ এনামুল ইসলাম, সংস্কৃতিপ্রেমী মোহাম্মদ আবদুর রকিব, স্বরূপ চৌধুরী, সূর্য, তৌহিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আড্ডায় যুক্ত করলো অনন্য প্রাণের স্পন্দন।
বন্ধুত্ব, ভালবাসা, সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যরে মাধ্যমে উজ্জ্বীবনের আকাঙ্খা নিয়ে রাত এগারটায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টার একটি তুমুল আড্ডা শেষে বাড়ি ফিরলাম আমরা।