Share |

ইস্ট লন্ডন মসজিদের সাথে বিসিএ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

লন্ডন, ২৭ জানুয়ারি : ইস্ট লন্ডন মসজিদ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১৩ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় ইস্ট লন্ডন মসজিদের নন-মুসলিম ভিজিটিং সেন্টারে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে ‘মিট এণ্ড গ্রিটস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মসজিদের পক্ষ থেকে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময়কালে ইস্ট লন্ডন মসজিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মসজিদের ম্যানেজমেন্ট কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, সেক্রেটারি ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ, সাবেক চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি ড. মুহাম্মদ আব্দুল বারী এমবিই, ট্রেজারার মোহাম্মদ আব্দুল মালিক ও ডাইরেক্টর দেলওয়ার খান।
বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট এম এ মুনিম, সেক্রেটারি জেনারেল মিটু চৌধুরী, চীফ ট্রেজারার সাঈদুর রহমান বিপুল, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জামাল উদ্দিন মকদ্দুস, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফয়জুল হক, কালচারাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য গোলাম আহাদ রুহি ও বিসিএ এসেক্স রিজিয়নের জয়েন্ট সেক্রেটারি সালেহ আহমদ।
মতবিনিময়কালে দেলওয়ার খান ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইতিহাস ও বহুমুখী কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রজেক্টারের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ইস্ট লন্ডন মসজিদের কার্যক্রম শুধু নামাজ পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, নামাজের পাশাপাশি বহুমূখী সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। তিনি বলেন, একজন মানুষের জীবনে যে ধর্মীয় সেবাগুলো প্রয়োজন তার অধিকাংশই ইস্ট লন্ডন মসজিদ প্রদান করে থাকে। আমরা মসজিদকে কমিউনিটির মানুষের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
ইস্ট লন্ডন মসজিদের ভাইস প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বলেন, এই মসজিদ আজ ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভের পেছনে কমিউনিটির মানুষের বিশাল অবদান রয়েছে। কমিউনিটির মানুষের দানেই আজ আমরা একটি গর্বিত প্রতিষ্ঠান পেয়েছি। তিনি তসলিম ফিউনারেল সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা তসলিম আলীর অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি মসজিদের সাথে ওতোপ্রতোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি একান্ত খালিস নিয়তে মসজিদের জন্য কাজ করে গেছেন। অনেক সময় তিনি মসজিদে আজান দিতেন, আবার তিনিই নামাজ পড়াতেন। তখন মসজিদের অফিশিয়াল কোনো কাঠামো ছিলোনা। কিন্তু মসজিদ যখন একটি কাঠামোর ওপর দাঁড় হয়ে যায় তখন তিনি তাতে স্বাগত জানান। তিনি কাঠামোকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেননি। তিনি কখনো নিজের স্বার্থকে উর্ধে দেখেননি। এই ধরনের নিবেদিত মানুষের একান্ত সেবায় মসজিদ আজকের অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছে। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে তসলিম আলীসহ সকলকে স্মরণ করি। তাঁদের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করি।
মসজিদের সেক্রেটারি ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ বিসিএ নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমরা কমিউনিটি সংগঠনগুলোর সাথে মসজিদের সম্পর্ক আরো উন্নত করতে চাই। মসজিদের কার্যক্রম সম্পর্কে সময়-সময় কমিউনিটির মানুষকে অবহিত করতে চাই। তিনি বলেন, মসজিদের অনেক সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেন। আমরা উত্তর দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকি। কিন্তু তাঁরা উত্তরের অপেক্ষা করেন না। শুধু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েই বসে থাকেন। আমরা যেকোনো সমালোচনাকে স্বাগত জানাই। সমালোচনা আমাদেরকে আরো দায়িত্বশীল করবে বলে বিশ্বাস করি।
বিসিএ প্রেসিডেন্ট এম এ মুনিম তাঁর বক্তব্যে তাঁদেরকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মসজিদের ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি মসজিদের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং মসজিদের সাথে বিসিএ’র সম্পর্ক অটুট থাকবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইতোপূর্বেও তিনি মসজিদে আমন্ত্রিত হয়েছেন। এটা তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানের। যখনই সময় পান তখন মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। তবে আজকের মতবিনিময়ের মাধ্যমে মসজিদের ইতিহাস ও কার্যক্রম সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পেরেছেন।
এম এ মুনিম এসময় বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশী কমিউনিটির মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিসিএ গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখছে। বাংলাদেশে অনেক এমপি, মন্ত্রী আছেন যাঁরা ব্রিটেনে ছাত্রজীবনে রেস্টুরেন্টে কাজ করে পড়াশোনার খরচ যুগিয়েছেন। কমিউনিটিতে কারি শিল্পের অনেক অবদান রয়েছে। কিন্তু এই শিল্প আজ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে স্টাফ সংকট একটি স্থায়ী সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে বিসিএ কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে আমরা প্রায় ৪০ হাজার ক্যাটারারের অংশগ্রহণে ট্রাফালগার স্কয়ারে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করি। আমরা কারি ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে সরকারের সাথে লবিইং করে আসছি। ইতোমধ্যে আমাদের অনেক ক্যাম্পেইন সফলও হয়েছে।
সেক্রেটারি জেনারেল মিঠু চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে মসজিদের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের ভুয়শী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মসজিদ যে শান্তির জায়গা এটি ইস্ট লন্ডন মসজিদে নামাজ পড়তে এলে অনুধাবন করা যায়। এই মসজিদ আমাদের প্রাণ। মসজিদের সাথে আমাদের অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক। মসজিদের অগ্রগতিতে বিসিএর সহযোগিতা সবসময় অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ইস্ট লন্ডন মসজিদ অনেক বড় হয়েছে। আমরা এই মসজিদ নিয়ে গর্ববোধ করি। অনেক সময় মসজিদ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণাও আমরা দেখতে পাই। এতে আমরা ব্যথিত হই। আমি আশাকরি নেতিবাচক প্রচারণা বন্ধে ইস্ট লন্ডন মসজিদ কার্যকরি উদ্যোগ নেবে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়জুল হক বলেন, আমরা আজ মসজিদের ব্যাপক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারলাম। অনেক সময় মসজিদের কার্যক্রম নিয়ে নেতিবাচক কথা শুনি। নেতিবাচক প্রচারণার বিপরীতে এখন আমরা ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে পারবো।
মতবিনিময় শেষে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি