Share |

ওয়ান ব্যাংকে জমা ব্রিটেন প্রবাসীর অর্থ আত্মসাত

পা?া মামলায় হাজিরার তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশে যেতে আতঙ্কিত আবদুর রউফ
লন্ডন, ০৩ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশের ওয়ান ব্যাংকে জমা অর্থ আত“সাত করেছেন ওই ব্যাংকেরই এক কর্মকতা। গত ২৮ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুর রউফ।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুর রউফ তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, অনেক কষ্ট ও শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একটি ব্যাংকে সঞ্চয় করি। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সফরকালে আমাদের পারিবারিকসূত্রে পরিচয় হয় ওয়ান ব্যাংক সিলেটের ইসলামপুর ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা (সেকেন্ড অফিসার) মো: সরফরাজ আলীর সাথে। আমার সঞ্চিত অর্থের ব্যাপারে জানতে পেরে, তিনি আমাকে তার ব্যাংকে এই অর্থ ফিক্সড ডিপোজিট করার ব্যাপারে অনুরোধ জানান। তার অনুরোধে আমি রাজি হয়ে, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার অগ্রণী ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থ থেকে ৩০ লাখ টাকা তুলে এনে ওয়ান ব্যাংক ইসলামপুর শাখায় জমা রাখি।
ওয়ান ব্যাংক থেকে আমাকে একটি চেক প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে লন্ডনে এসে আমি ধাপে ধাপে আরো প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ওয়ান ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখি।
গত বছর ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সফরে গেলে, দেশে পৌছার একদিনের মাথায় ওয়ান ব্যাংকের কর্মকর্তা মো: সরফরাজ আলী আমাকে বার বার ফোন করে অনুরোধ জানান, ওয়ান ব্যাংকে যাওয়ার আগেই যেনো তিনি আমার সাথে দেখা করার সুযোগ পান। তার এই কথায় আমার সন্দেহ হলে, আমি তার সাথে সাক্ষাতের আগেই ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি, মো: সরফরাজ আলী আমার নামে ব্যাংক থেকে আরেকটি চেক ইস্যু করে বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে পুরো ৭৬ লাখ টাকা ২৩টি চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করেছেন। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যেই তিনি এই অর্থ উত্তোলন করেন।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত মো: সরফরাজ আলী তার স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবাকে নিয়ে হাজির হয় আমার বাসায় হাজির হয়। তিনি চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করার কথা স্বীকার করেন। তিনি দ্রুত অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।
তার স্ত্রী, পিতা-মাতার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি রাজি হলে, তিনি আমাকে ২৬ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। ওই চেকটির অর্থ ব্যাংকে জমা হয়। এর সাথে আরো একটি ৫ লাখ টাকার চেক দিয়ে বলেন এটি আমি যেনো লন্ডনে পৌছার পর ব্যাংকে জমা রাখি। বাকি অর্থ ৬ মাসের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আমি ৫ লাখ টাকার চেকটি আমার বোন জামাইকে দিয়ে আসি জমা দেওয়া জন্য। পরবর্তীতে এই চেকটি ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখিত হয়। বাকি অর্থ পরিশোধের ৬ মাসও পেরিয়ে গেলে, তার সাথে বার বার যোগাযোগ করা সত্বেও কোন সদুত্তর না পেয়ে আমি ২০১৯ সালের নভেম্বরে দেশে গিয়ে সিলেটে আইনজীবি ইশতিয়াক আহমেদ জায়গিরদারের মাধ্যমে তাকে উকিল নোটিশ প্রদান করি।
আইনী পদক্ষেপের পাশাপাশি তিনি ওয়ান ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিমধ্যে এসব ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে ওয়ান ব্যাংক মো: সরফরাজ আলীকে বরখাস্ত করে।
মো: সরফরাজ আলী ব্যাংক থেকে প্রত্যাখাত ৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধারের জন্য উ?ো সিলেট মাজেস্ট্রেট কোর্টে প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন। সরফরাজের দাবি ৫ লাখ টাকা নাকি তিনি আমাকে লন্ডনে তার আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে নগদ পরিশোধ করেছেন। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি এই চেক আদায়ে আমাকে চাপ প্রয়োগ করলে আমার বোন জামাই‘র মাধ্যমে চেকটি থানার ওসিকে হস্তান্তর করি।
তার ভূয়া এই মামলায় এখন আমাকে হাজিরা দিতে হচ্ছে সিলেটে গিয়ে।
ভুক্তভোগী এই প্রবাসী বলেন, অর্থ ফেরত পেতে তিনি সকল ধরনের আইনী পদক্ষেপ নিতে রাজি। কিন্তু তাঁর আশঙ্কা সফররাজ হয়তো অর্থ ফেরত না দিয়ে জীবননাশের ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই নিরাপত্তা এবং সুবিচার নিশ্চিত করতে প্রবাসী আব্দুর রউফ বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।