Share |

প্রফেসর আবদুল মোমেন : আমাদের সময়ের দিশারী ব্যক্তিত্ব

রাজনউদ্দিন জালাল
আজকাল সোস্যাল মিডিয়ায় মেসেজ দেখতে অথবা টেলিফোন ধরতে ভয় লাগে। কারণ এসবে প্রায়ই আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের কারো কিংবা কোন স্বজনের  মৃত্যু সংবাদ আসে প্রায়শই।
সোমবার সন্ধ্যায় ক্যামডেন কাউন্সিলের প্রাক্তন কাউন্সিলার মাহমুদ হাসান ভাইর কাছ থেকে খবর পেলাম আমাদের কমিউনিটির এক বিশিষ্ট নেতা শিক্ষাবিদ আবদুল মোমেন সাহেব মারা গিয়েছেন। জানলাম তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলা টাউনের ব্রিকলেইন জামে মসজিদে। আর তাঁকে দাফন করা হবে চিগওয়েলের গার্ডেন অব পীস-এর কবরস্থানে।
এর একটু পরে আমার বন্ধু অগ্রজপ্রতীম জামাল হাসান (বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম এক সংগঠক) ফোন করে একই সংবাদ জানালেন। পূর্ব লন্ডনে আলতাব আলী হত্যার পরে ‘দি ব্যাটল অব ব্রিকলেন’ এর অন্যতম নেতা এবং তৎকালীন সার্বজনীন যে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ‘এ্যাকশন কমিটি এগেইনস্ট রেসিজিম’-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। তখন আমরা একই সাথে ‘নাম্বার সেভেন দি ক্রিসেন্ট’ নামে রানীর পুরাতন বাড়ির পিছনে এক হোস্টেলে বাস করতাম।
আমি সাথে সাথে এই মৃত্যু সংবাদটি পুনরায় সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংগঠনের গ্রুপগুলোতে পাঠিয়ে দেই। কারণ, ভেবে দেখলাম - মোমেন সাহেবের বয়স আশির বেশি হবে। তাঁর সাথী সহকর্মী অনেকেই আর বেঁচে নেই। তাই তাদের পরবর্তী জেনারেশনের একজন হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব খবরটা কমিউনিটার অন্যদের জানানো। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশের খুলনা এলাকার থেকে আগত এক ব্যক্তি এবং আমার জানামতে তাঁর এক ছেলে এবং মেয়ে ছাড়া অন্য কোন আত্মীয়-স্বজনও এখানে নেই।
মঙ্গলবার ৪টা ফেব্রুয়ারি বাংলাটাউনের ব্রিকলেনে জামে মসজিদে মোমেন সাহেবের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হলো। সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখলাম তাঁকে শেষ বিদ্যায় দেয়ার জন্য কিছু পুরাতন কমিউনিটি নেতা উপস্থিত হয়েছেন- কেমডেনের প্রাক্তন কাউন্সিলার মাহমুদ হাসান, শিক্ষাবিদ ড. হাসনাত এম হোসেইন, কমিউনিটি নেতা আজিজ চৌধুরী, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের প্রাক্তন নেতা হেলাল আব্বাস, আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের সভাপতি নুরউদ্দিন আহমদ, আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের সম্পাদক আনসার আহমদউল্লাহ, প্রাক্তন ইয়ূথ ওয়ার্কারদের মধ্যে আবদুল সালাম, আলা আজাদ চৌধুরী, আবদুল মুকিত চুন্নু, সিদ্দেক মিয়া, সাজ্জাদ মিয়া, ফিরোজ আলম, প্রাক্তন কাউন্সিলার হেলাল রহমান, শিক্ষাবিদ কামাল উদ্দিন, কেমডেনের কাউন্সিলার নাসিম আলীসহ আরো বেশ কয়েকজন কমিউনিটি নেতা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ইয়ুথ এবং কমিউনিটি ওয়ার্কার পেশায় অতীতে যারা কাজ করেছেন তাদের অনেকেই এই পেশায় এক সময় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মোমেন সাহেবের কাছে। তাঁরা এ্যাভরি হিল কলেজে তাঁর ছাত্র ছিলেন। জানাজার নামাজ শেষে পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী আমিসহ আরো কয়েকজনকে অনুরোধ জানালেন মোমেন সাহেবের জীবন ও কর্ম নিয়ে লেখা দেয়ার জন্য।

আবদুল মোমেন এবং তাঁর কর্মতৎপরতা
মোমেন সাহেব তখন কেমডেন বারার বাসিন্দা ছিলেন। এবং তিনি কর্মরত ছিরেন কেমডেন কমিউনিটি রিলেশনস কাউন্সিলে। এই অবস্থানে থেকে তিনি শত শত মানুষ বিশেষ করে বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষকে সেবা প্রদান করেন।
তখনকার সময় কেমডেনে বাঙালি জনগণ বর্ণবাদী হামলার শিকার হতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবা অর্থ্যাৎ গৃহায়ন, স্বাস্থ্য এবং ওয়েলফেয়ার বেনিফিট থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এই অভাবী মানুষ এবং বঞ্চিত সমাজের মানুষের মূল সহায়ক ছিলেন মোমেন সাহেব। এই সংগঠনের মাধ্যমেই মোমেন সাহেব অনেক বাঙালিদের বিশেষ করে তরুণ সমাজের ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করেন সমাজকর্মে নিয়োজিত হওয়ার জন্য। তারই উদ্যোগে বাঙালিরা সাংগঠনিকভাবে তৎপর হন। তাঁর প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাঙালিরা অন্যান্য সংখ্যালঘু এবং প্রগতিশীল নেতা এবং রাজনীতিবিদদের সাথে সংযুক্ত হয়ে এ্যালায়েন্স গড়ে তুলেন নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। এই সংগঠনে তাঁর সহকর্মী ছিলেন এ্যথনি নাইটেঙ্গল, যিনি চাই? মাইগ্রেশন এর গবেষক এবং লেখক। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, মোমেন সাহেব অতি পরিশ্রমী আদর্শবান এবং একজন ভাল মানুষ ছিলেন।

বেঙ্গলি ওয়ারর্কাস এসোসিয়েশন -সুরমা কমিউনিটি সেন্টার
কেমডেন কমিউনিটি রিলেশনস কাউন্সিল-এর নিজস্ব ভবন পুড়ে যাওয়ার কারণে তাদের অফিস স্থানান্তরিত হয়েছিল। বর্তমান সুরমা সেন্টারে একটি খালি প্লটে-এক নাম্বার রবার্ট স্ট্রীট হউসটন, লন্ডন, এনডাব্লিউওয়ান। এবং সিসিসিআরসি যখন তাদের মেরামতকৃত ভবনে ফিরে যায় তখনই এই প্লটে বাঙালিদের জন্য একটি কমিউনিটি সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয় মোমেন সাহেবের নেতৃত্বে এবং প্রস্তাব পেশ করা হয় কেমডেন বারা কাউন্সিলের কাছে। বেঙ্গলি ওয়ারর্কার্স এ্যকশন গ্রুপ, সংগঠনটি একটি পোর্টাকেবিন থেকে শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। পরবর্তীতে এই প্লটেই স্থাপন করা হয় বাঙালিদের নিজস্ব কমিউনিটি ভবন-সুরমা কমিউনিটি সেন্টার। এই সেন্টারের মাধ্যমে মোমেন সাহেবের অবদান এবং অর্জন।
কেমডেনে বাঙালিদের একমাত্র কমিউনিটি সেন্টার এটাই বাঙালিদের প্রাণ কেন্দ্র। হাজার হাজার মানুষ বিগত ৩০ বছরে ধরে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সেবা পেয়ে আসছেন (বেনিফিট, স্বাস্থ্য, গৃহায়ন ইত্যাদি) কয়েকশত বাঙালি মানুষ পেশাজীবী চাকরি পেয়েছেন এই সুরমা সেন্টারের মাধ্যমে (আমিও এদের মধ্যে একজন)।
এই সুরমা সেন্টারের মাধ্যমে বাঙালিদের রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে কাউন্সিলার নির্বাচিত হন অনেকে লেবার পার্টির মাধ্যমে। এক সময় টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমান এমপি কেমডেনের কাউন্সিলার ছিলেন। তবে দু:খের বিষয় যে, প্রয়াত ফ্রাঙ্ক ডবসন যখন অবসর নেন তখন বাঙালি কেউ তাঁর আসনে এমপি হয়ে আসতে পারেননি। মোমেন সাহেব স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তার সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অবদানের জন্য।

‘লাস্ট ডেইজ অব দি রাজ’
মোমেন সাহেব এক পর্যায়ে ৮০ দশকের মাঝামাঝি সুরমা সেন্টারে জড়িত তরুণদের নিয়ে কো-অপারেটিভ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নেন।
লন্ডনের ‘থিয়েটার ল্যান্ড’ খ্যাত ড্রয়ারি লেনে শুরু করেন বাঙালিদের একমাত্র কো-অপারেটিভের রেস্টুরেন্ট ‘লাস্ট ডে অব দ্যা রাজ’। কেমডেন কাউন্সিল এবং অন্যান্য সংখ্যার সাহায্য নিয়ে এই রেস্টুরেন্টে সমবায়ভিত্তিক নিজ মালিকানায় ব্যবসা করার সুযোগ পান অনেকেই। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আমিন আলী। আমার বন্ধু আমিন ভাই পরবর্তীতে এই ‘লাস্ট ডেইজ অব দি রাজ’ রেস্টুরেন্টের খ্যাতি ব্যবহার করে এক সময় বাঙালিদের ‘কারি কিং’ উপাধি অর্জন করেছিলেন।
তাঁর সৃষ্টি করা রেস্টুরেন্ট রেডফোর্ট এবং জামদানি এক সময় এদেশের মন্ত্রী এবং অন্যান্য সেলেব্রেটিদের আড্ডাখানা ছিল। পরবর্তীতে বাঙালিদের পরিচালিত কারি ইন্ডাস্ট্রিতে ভাটা নামায় নতুন আর কোন উদ্যোগ নজরে আসে না। দু:খের বিষয় তিনটি বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন-

১. বাঙালিরা সমবায় ব্যবসায়ী পন্থাকে আপন করতে পারেননি কেন?

২. বাঙালিরা নিজেদের কারি ব্যবসাকে সময়োগী করে অন্যান্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হলেন কেন? বাংলা টাউনের ব্রিকলেন থেকেও কারি ব্যবসা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

৩. প্রশিক্ষণ ছাড়া নবায়ন হয় না। তাই প্রশ্ন উঠে যে, বাঙালিদের এত বড় ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন থাকা সত্ত্বেও আমরা হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থাননের যোগানদার ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি ক্যাটারিং ট্রেনিং করেজ স্থাপন করতে পারলাম না কেন? এর জবাব হয়তো- ক্ষমতার লড়াই অবশ্যই দায়ী (কোর্টে রিট আর মামলা)। তাহলে কি মোমেন সাহেবের একটি সমবায় রেস্তোরা, আমাদের ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারতো?
সাথে মোমেন সাহেবের সাথে পরিচয়
আমরা যখন ১৯৭৮ সালে পূর্ব লন্ডনে আলতাব আলী হত্যার পরে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন ‘দি ব্যাটল অব ব্রিকলেন ১৯৭৮ইং বাস্তবায়নে নিয়োজিত ছিলাম, তখন প্রয়াত ইয়ূথ ওয়ার্কার ক্যারালাইন আডমস কেমডেন থেকে মোমেন সাহেব এবং সাউথহল থেকে রবি জেইন ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব এশিয়ান ইয়ুথ-এর নির্বাহীকে টাওয়ার হ্যামলেটসে নিয়ে, তখন তিনি আমিসহ আমাদের অন্যান্য যুব কর্মীদেরকে প্রশিক্ষণ দেন সম্ভবত বাংলাদেশ ইয়ূথ মুভমেন্টের মাধ্যমে।
সেসময় আমরা দেশব্যাপী বর্ণবাদ বিরোধী সংগঠনগুলোর সাথে এলায়েন্স গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত ছিলাম। ফেডারেশন অব বাংলাদেশী ইয়থ অরগানাইজেশন তাদের মিত্র হিসেবে কাজ শুরু করে কেমডেনের সুরমা সেন্টার সাউথহল ইয়থ মুভমেন্ট, হ্যাকনি আফ্রিকান ক্যারাবিয়ান এসোসিয়েশন ব্রাডফোর্ড ইয়থ এসোসিশেনের সাথে এবং নিউহাম সেভেন ক্যাম্পেইনের সাথে। এ ধরনের উদ্যোগে মোমেন সাহেব এবং আমার রাজনৈতিক গুরু প্রয়াত ব্যারিস্টার লুতফুর রহমান শাহজাহান আমাদের প্রেরণার উৎস ছিলেন।
লন্ডনের সব কটি বারায় যেখানেই বাঙালিদের বসবাস ছিল, সবাই গৃহ সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন (টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি, নিউহাম, কেমডেন, ইজলিংটন ইত্যাদি বারা কাউন্সিল)। এক পর্যায়ে কেমডেনের গৃহহীন সমস্যা প্রকট ছিল। ১৯৮৪ ইংরেজীতে নিয়ম ছিলো - আপনার পরিবার এখানে আসার পরে, আমরা বাসস্থান দেবো (লোকাল কাউন্সিল নীতি)। অন্যদিকে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন বলত বাসস্থান না থাকলে ভিসা অথবা কোন বাধা ছাড়া স্থায়ী হবার অনুমতি দেয়া হবে না। ঠিক একই সময়ে বেশ কয়েক শত গৃহহীন বাঙালি পরিবারকে অস্থায়ী হোটেল বাস করার জন্য ব্যবস্থা করে কেমডেন কাউন্সিল।
এমতাবস্থায় মানুষের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবন বিপর্যয়গ্রস্ত ছিল। অনেক বাচ্চা স্কুলের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলো। অনেক পরিবার স্বাস্থ্য এবং সোশ্যাল কেয়ার সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেকে আবার বর্ণবাদী হামলার কারণে নিজ বাসায় অথবা এলাকায় অসহায় জীবনযাপন করছিলেন। তাছাড়া অনেক গৃহহীন মানুষের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চাকরি নিতে পারতেন না।
এই অবস্থায় অসহায় বাঙালি গৃহহীন পরিবারগুলোকে নেতৃত্ব দেন মোমেন সাহেব এবং তার সহকর্মী অনেক কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। এবং ১৯৮৪ সালের সম্ভবত ডিসেম্বর মাসে তারা কেমডেন কাউন্সিলের জাড স্ট্রিটে অবস্থিত টাউন হল দখল করার সিদ্ধান্ত নেন। আমরাও কিছু সংখ্যক যুব কর্মী টাওয়ার হ্যামলেটস থেকে যোগ দিই এই আন্দোলনে। কয়েক সপ্তাহ আমরা কেমডেন কাউন্সিলকে অচল করে দিই। মিডিয়া থেকে গৃহহীন পরিবারগণ এবং তাদের সমর্থকদের পক্ষে ততপরতা শুরু হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, সালমান রুশদী বাঙালি গৃহহীনদের পক্ষে গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন লিখে সিভিল সোসাইটির সমর্থন আদায় করাতে সহায়তা করেন। এই সফলতার ফলে ইমিগ্রেশন এবং হাউজিং নীতি বাস্তবায়নে অনেক ধরনের পরিবর্তন আসে এবং শত শত বাঙালি গৃহহীন এবং বিচ্ছিন্ন পরিবার তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হন। বলাবাহুল্য যে, মোমেন সাহেবের মতো সাহসী নেতা না হলে হয়তো স্থানীয় সরকারবিরোধী এ রকম আন্দোলন সোচ্চার হতো না।

কিভাবে স্মরণ রাখব মোমেন সাহেবকে
ব্যক্তিগতভাবে মোমেন সাহেব একজন অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। ছিলেন সদালাপী, ন্যায়পরায়ণ এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের বন্ধু, ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার অগ্রসৈনিক। ব্যক্তিগত খ্যাতির জন্য কিছু করেননি। ছিলেন প্রচারবিমুখ, নিভৃতচারী। মোমেন সাহেবের অবদানের কারণে সমাজের বঞ্চিত শ্রেণীর হাজার হাজার মানুষ সামাজিক সেবা এবং ন্যায্য অধিকার পেয়েছেন।
মোমেন সাহেবের মাধ্যমেই বাঙালিরা কেমডেনে পেয়েছেন রাজনৈতিক অধিকার। মোমেন সাহেবই একমাত্র বাঙালি যিনি সমবায়ভিত্তিক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। মোমেন সাহেব কেমডেনের বাঙালি এবং বঞ্চিত মানুষের কর্ণধার। তাঁর অবদান যদি আমরা উপলব্ধি করে আমাদের কর্মতৎপরতা চালিয়ে যেতে পারতাম, তাহলে হয়ত কেমেডেনের বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থান আরো মজবুত এবং বেগবান হতো।
আমার মতে, মোমেন সাহেবের মূল লেগাসি হবে বিডাব্লিউএজি অথবা দি সুরমা কমিউনিটি সেন্টার। মোমেন সাহেব চলে গেছেন, আমরাও সবাই চলে যাব। তবে তাঁর অর্জিত সুরমা কমিউনিটি সেন্টার বাঙালিদের একমাত্র কমিউনিটি সেন্টার ভবন হয়ে সামাজিক অর্জনের পতাকা উড়াবে কেমডেন বারাতে।
সুরমা সেন্টারের একটি হল মোমেন সাহেবের নামকরণ করা যায় কি না তা সুরমা সেন্টারের বর্তমান কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখতে পারেন।
এছাড়া কেমডেনের একটি হাউজিং ব্লক, স্থানীয় সরকার বি?িং অথবা একটি রাস্তা মোমেন সাহেবের নামে নামকরণ করা যায় কি না তা কেমডেন কাউন্সিল বিবেচনা করে দেখতে পারে ।
আমি মনে করি, আমার প্রস্তাবগুলো মোমেন সাহেবের ন্যায্য পাওনা। মোমেন সাহেবকে সম্মানদান করা মানেই আমাদের সমাজকে সম্মানিত করা।

লন্ডন, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০
লেখক : সাবেক কাউন্সিলার ও টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টির সাবেক ডেপুটি লীডার।