Share |

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে বাইরের দুনিয়ায় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের হয়রানীর ছবি

গত সপ্তাহে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে বাইরের দুনিয়ায় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের হয়রানীর ছবি ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। এই ছবির ব্যক্তিটি হলেন আলোকচিত্রী শফিকুল ইসলাম কাজল। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভয় ও পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতা।’ কিন্তু এই ছবিটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতার নিষ্ঠুর বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনী তাকে পিছমোড়া করে যেদিন এই দৃশ্য দুনিয়াবাসীর সামনে তুলে ধরলো তার ৫৪ দিন আগে থেকে তিনি ছিলেন নিখোঁজ।?পুলিশ তাঁকে পিছমোড়া করেই যশোরের একটি আদালতে হাজির করে ৩ মে। বাংলাদেশের সীমান্ত পাহারাদারদের দাবি, এই আলোকচিত্রীকে আগের রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে দেশে ফেরার পথে বেনাপোলে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১০ মার্চ ঢাকার হাতিরপুলে নিজের অফিস থেকে বের হয়ে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম নিখোঁজ হন। ১৮ মার্চ পরিবার থানায় মামলাও করে। তাঁর অন্তর্ধানের পর প্রাপ্ত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি যেখান থেকে নিখোঁজ হন, সেখানে কয়েকজন তরুণ তাঁর মোটরসাইকেল অনুসরণ করছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই ভিডিওর সূত্র ধরে গত দুইমাস ধরে কাউকে ধরার বা রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা সরকারী বাহিনী করেছে কি? তাহলে, এখন তাদের দাবি যে, ভারত থেকে এসে শফিকুল নিজেই সীমান্তরক্ষীদের কাছে ধরা দিয়েছেন এটি কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য?
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রহমানের মতে, সাংবাদিক কাজল কোথায় গেলেন বা তাঁকে কে নিয়ে গেল, কীভাবে তাঁকে পাওয়া গেল-এসব রহস্যের অনুসন্ধান করাটা ছিল জরুরি। কারণ, মানুষ এর পরিষ্কার জবাব জানতে চায়। সেসব না করে বিচারের আগেই তাঁকে দণ্ড দেওয়া হলো, এটা দুঃখজনক ঘটনা।
আমরা মনে করি, এটি দু:খজনক নয় শুধু বরং এ ধরণের একের পর এক  বিপদজ্জনক উদাহরণ তৈরি করা কোন সভ্য জাতি কিংবা রাষ্ট্রের জন্য শুভ হতে পারেনা। প্রত্যেক নাগরিকের আত্মসম্মান আছে। সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, পুলিশ-যিনিই হোন না কেন, জনসমক্ষে অসম্মান বা হেয় করার এখতিয়ার কারও নেই। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে এই ধরনের হয়রানী ও জবরদস্তির ঘটনা ঘটেই চলেছে।
গত মঙ্গলবার দিদারুল ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তিকে উত্তর বাড্ডার বাসা থেকে তুলে নিয়ে  গেছে দুটি কালো মাইক্রোবাসে করে আসা সাদা পোশাকের লোকজন। নিজেদের র‌্যাব সদস্য বলে পরিচয়দানকারী এরা দিদারুলের ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে। দিদারুল রাষ্ট্রচিন্তা নামের একটি মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত।
এসব ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটে চলেছে যখন বাংলাদেশে অবস্থানকারী পশ্চিমা  রাষ্ট্রদূতরা তাঁরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা ও সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বর রোধ না করার ওপর জোর দিয়ে?বক্তব্য দিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার টুইটারে আলাদাভাবে তাঁরা গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলছেন।
মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, এমন আচরণ অমানবিক, নিষ্ঠুর ও অসম্মানজনক, যা আইন সমর্থন করে না। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি যদি পালানোর চেষ্টা না করে, তাহলে পুলিশের হাতকড়া ব্যবহার করা যৌক্তিক নয়। সাংবাদিক কাজলের বেলায় হাতকড়ার ব্যবহার দেখে বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেই বিচলিতবোধ করছেন।
শুধু বাংলাদেশের হর্তাকর্তারা এতেবিচলিত বলে মনে হচ্ছে না কিন্তু এভাবেই কী চলবে আগামীর সব দিন? এসব হয়রানীর হিশেব একদিন দিতে হবে না দায়িত্বশীলদের?