Share |

অস্থির সময়ে বিরল এক ঈদ উৎসব

দীর্ঘ এক মাস পর রমজানের সংযম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর সমাগত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনি অথবা রোববার ব্রিটেনের মুসলমানরা পালন করবেন এই মহাআনন্দের উৎসব।
এবার শতাব্দির এক নজীরবিহীন সময়ে ঈদুল ফিতর আমাদের সামনে এসে হাজির হয়েছে, সমগ্র পৃথিবী যখন এক অদৃশ্য ঘাতকের কাছে জিম্মি। করোনা ভাইরাস এরই মধ্যে মানবকূলের লক্ষ লক্ষ প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায়?অর্ধ কোটি মানুষ এই ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত। যারা এখনো আক্রান্ত হননি তারাও স্বস্তিতে নেই। কখন কিভাবে এই ভাইরাস হানা দেয় সেই আতঙ্কের পাশাপাশি দেশে দেশে ‘লকডাউন’-এর ফলশ্রুতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রিটেনসহ দুনিয়ার মহাপরাক্রমশালী দেশও নাস্তানাবুদ এই অদৃশ্য শত্রুর নির্বিচার আক্রমণে। থমকে যাওয়া সময়ে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে?পড়েছেন। তাদের সামনে এক অন্ধকার অনাগত ভবিষ্যত।
চরম অস্থিতিশীল এই সময়ে স্বজনহারা, কর্মহারা, স্বপ্ন এবং?ভবিষ্যতহারা কোটি কোটি মানুষের এবারে ঈদের খুশি কেমন হবে আমরা জানি না। জানি না অভুক্ত প্রাণের নীরব অশ্রুতে কতটা ভারী হয়ে ওঠবে আকাশ-বাতাস।
কয়েক প্রজন্মের জন্যই এবারের ঈদ একেবারই অন্যরকম হবে। ব্রিটেনসহ অনেক দেশেই ঈদগাহে কিংবা মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজন হবে না। ফলে প্রিয়জন, বন্ধু-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ কিংবা কোলাকুলির সুযোগ থাকছে না। নিজের বাড়িতে বসে একা একা ঈদ উদযাপনের আনন্দের ঘাটতিটুকু আমরা এবার অন্যভাবে পুষিয়ে নিতে পারি কি? আমরা মনে করি, এই দুঃসময়েও আমরা যারা অপেক্ষাকৃত ভালো পরিস্থিতিতে রয়েছি তাদের এবার একটু বেশি করেই বিপর্যস্ত মানুষের পাশে সাধ্যানুযায়ী দাঁড়ানো উচিৎ। আমরা যদি এই কঠিন সময়ে?বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করি তাহলে সেটিই হবে এবারের ঈদে আমাদের আনন্দের ভাগ তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এমনিতেই রমজানে ফিতরা ও জাকাত আদায়ের যে বিধান রয়েছে তার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে অপেক্ষাকৃত দরিদ্রদের সহায়তা দিয়ে তাদেরকে ঈদের আনন্দে শরীক করা। এই দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায় না হলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে- মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত শিক্ষা তা-ই বলে।
বিত্তবানরা তাদের নিজেদের সম্পদ দিয়ে নিজেদের জন্য আনন্দ উপভোগের ব্যবস্থার পাশাপাশি সমাজের বঞ্চিতরা যাতে এমন উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারেন সেজন্য তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে প্রয়োজন পূরণের মত সুবিধা করে দিতে মহান আল্লাহতায়ালা সামর্থবানদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। দরিদ্র মানুষের সুখ-সুবিধার যেন কমতি না হয় সেদিকটি নিশ্চিত করতে ঈদের দিনের সকাল বা তার আগে সামর্থবানদের অর্থসম্পদের নির্দিষ্ট অংশ দান করার বিধানই হচ্ছে সদকায়ে ফিতর।
মানবতার কল্যাণে আমাদের উদার হস্ত প্রসারিত হলেই সংযম সাধনার শিক্ষা কাজে লাগবে। আর এবারের ঈদে সেই সৌভ্রাতৃত্ববোধের চর্চা আরো বেশি জরুরী।
মানুষের প্রতি মানুষের প্রেম ও ভালোবাসার বিকল্প নেই। পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদেরকে সেই শিক্ষায় আরো বেশি উজ্জীবিত করুক। অস্থির সময়ের?বিরল এক ঈদ উৎসবেও দূরে থেকেও যেনো আমরা সহায়তা নিয়ে আন্তরিকভাবে পৌঁছে যাই মানুষের অন্তরে। করোনাকাল কেটে গিয়ে ঈদ পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য নিয়ে আসুক শান্তি-সুখের বার্তা। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। সবাইকে ঈদ মোবারক।