Share |

প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যাকাণ্ড : সততার এই পুরস্কার?

সততার সাথে জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এই নির্বাহী প্রকৌশলী একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে সংবাদপত্রের রিপোর্টে এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ভাড়াটে খুনি শাহিন ও মাইক্রোবাসের চালক হাবিবের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যাচ্ছে, তাঁরই সহকর্মী (সহকারী প্রকৌশলী) আনিছুর রহমান ওরফে সেলিম ভাড়াটে খুনি দিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে হত্যা করেছেন। তিনি নিজেও এতে শামিল ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে?রয়েছে দুর্নীতির উন্মত্ত দাপট আর দেশটিতে বিরাজমান বিচারহীনতার বেপরোয়া ভয়াবহ প্রশ্রয়। এ ঘটনায়?বুয়েটের শিক্ষার্থীদের বিবৃতি থেকে জানা যাচ্ছে, ‘ঘুষের বিনিময়ে শতকোটি টাকার কাজের ফাইল ছাড়তে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘ পরিকল্পনার পর নিজ গাড়িচালকের সহায়তায় প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। তারা এই দাবীটি করছেন তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে। এখন এই অনুসন্ধানের প্রতিবেদন আরো বড় কোন ঘুষের লেনদেনে শেষপর্যন্ত পা?ে না গেলেই হলো।  
দেলোয়ার হোসেনের সতীর্থরা বলছেন, ‘যদি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয়, তাহলে যাঁরা শত প্রতিকূলতার মুখেও নিজের সততা বজায় রেখে চলছেন, তাঁরা সাহস হারিয়ে ফেলবেন। যদি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয়, তাহলে অসাধু-খুনি সিন্ডিকেট যারা দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকাকে নিজের সম্পত্তি মনে করে আত্মসাৎ করতে চান, তাঁরা বেপরোয়া হয়ে যাবে।’
আমরা মনে করি, এ ধরনের বেপরোয়া তৎপরতার আর কী বাকী আছে।?বাংলাদেশে জেঁকে বসা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার এক নগ্ন চিত্র এই ঘটনাটি আবার সামনে নিয়ে এলো মাত্র।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলে জেনেছেন, গত ১১ মে মিরপুরের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ভাড়া করা মাইক্রোবাসে দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তাঁর সহকর্মী (সহকারী প্রকৌশলী) আনিছুর রহমান ওরফে সেলিম ও আনিছুরের দুই সহযোগী ছিলেন। হাবিব মাইক্রোবাস চালাচ্ছিলেন। মাইক্রোবাসটি রূপনগর দিয়ে বেড়িবাঁধে ওঠার পর আনিছুর রহমানের ইশারায় শাহিন প্রকৌশলী দেলোয়ারের গলায় রশি পেঁচিয়ে টান দেন। তখন আনিছুরও চেপে ধরেন দেলোয়ারকে। এরপর দেলোয়ার নিস্তেজ হয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে পেটানো হয়। নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর লাশ উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরের খালি প্লটে ফেলে দেওয়া হয়। করা হয়। পরে লাশ উদ্ধার করা হয় রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কতটুকু বেপরোয়া হলে এবং?কতটুকু নির্ভরতা পেলে আর কতটুকু লোভে ডুবে গেলে একজন অধস্তন কর্মকর্তা তাঁর উর্ধতন কর্মকর্তাকে এভাবে মেরে ফেলতে পারে।
আমরা বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিবৃতির সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই, ‘যদি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে তাঁদের সন্তানদের সৎ থাকার উপদেশ দেবেন? যদি এই প্রভাবশালী দোষীরা শাস্তি না পান, তাহলে কীভাবে আমরা প্রতিবছর কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়া হাজার হাজার যুবক-যুবতী সৎ পথে থাকার সাহস পাব? অসাধু চক্রের সামনে একা দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো দেলোয়ার হোসেনের সততার গল্পকে হেরে যেতে দেবেন না। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব দেবেন।’
সততার এই পুরস্কার (?)কোন ব্যক্তি সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য কাম্য নয়।