Share |

অভিশপ্ত বর্ণবাদ : পুড়ছে আমেরিকা

বিশ্বের সবচেয়ে?শক্তিধর আমেরিকা এখন দুনিয়ার সবচেয়ে অশান্ত। চরম এক অস্থির সময় পার করছে দেশটি। করোনা ভাইরাসের ছোবলে প্রাণহানি আর  ক্ষয়ক্ষতির দিকে দিয়ে?তারিকার শীর্ষে?অবস্থানকারী এই সঙ্কটাপন্ন সময়ে নতুন সঙ্কট ডেকে এনেছে সমাজের গভীরে থাকা ঘৃণ্য বর্ণবাদ। গত এক সপ্তাহ ধরে বিশাল আয়তনের এই দেশটির সত্তরটিরও বেশি শহরে উত্তাপ ছড়িয়েছে একটি বর্ণবাদী হত্যাকাণ্ড।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে জর্জ ফ্লয়েড নামের আফ্রিকান-আমেরিকান এক ব্যক্তি গত ২৫ মে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারের নির্যাতনে মারা যান। ডেরেক চাওভিন নামের এই পুলিশ অফিসার ফ্লয়েডের গলায়?প্রায়?৯ মিনিট ধরে হাঁটুচাপা দিয়ে?রাখলে তাঁর মৃত্যু হয়।
আমেরিকায়?কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি নিষ্ঠুরতার ঘটনা নতুন নয়। তবে এবারের ঘটনা যে মাত্রার প্রতিক্রিয়া ও গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে তার সাম্প্রতিক নজীর নেই বললেই চলে। এবারও রাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তা সাফাই দিয়ে হয়তো পার পেয়ে?যেতেন অতীত বহু ঘটনার মতো। কিন্তু বিপত্তি বাঁধিয়েছে পুরো ঘটনার ব্যক্তিগত এক ভিডিও রের্কড। একজন  প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে চাওভিন ফেঁসে যান। বর্ণবাদবিরোধী ক্ষুব্ধ মানুষের উত্তাল আন্দোলন থামছে না। আমেরিকার অন্তত ৪০টি নগরীতে কারফিউ জারি করে, বিক্ষোভ দমনে স্থানে স্থানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ। মানুষের মনে বিক্ষোভের মাত্রা কতটুকু হলে সেই আগুন হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি চলে আসে তা সহজেই অনুমেয়।?রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গত ২৯ মে রাতের সহিংস আন্দোলন পৃথিবীর সবচেয়ে?ক্ষমতাবান ব্যক্তিটিকেও বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য করছে।
এখানেই শেষ হচ্ছেনা এই অস্থিরতার। কারণ, টানা এই আন্দোলন মাসব্যাপী চলবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় ফ্লয়েডের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিন ফ্লয়েডের গলায় হাঁটু চেপে ধরায় ফ্লয়েড নিঃশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার চাওভিনকে বলছেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’ ভিডিওটি ভাইরাল হলে চাওভিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। মিনেসোটা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো আমেরিকায়। কৃষ্ণাঙ্গদের পাশাপাশি অনেক শ্বেতাঙ্গও এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। চাকরি হারিয়েছেন চাওভিন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে শক্ত ব্যবস্থা নিতে রাজ্যের গভর্নরদের ওপর কড়া নির্দেশ জারি করেছেন। আর হুমকি দিয়েছেন তারা এতে ব্যর্থ হলে তিনি সেনা মোতায়েন করবেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, কারফিউ দিয়ে?আর সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়ে?ট্রাম্প এই অশান্ত আমেরিকাকে কি শান্ত করতে পারবেন? ষাটের দশকে সিভিল রাইটস আন্দোলনের কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে?জেগে ওঠা আমেরিকায় সব মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে এগোয়নি তার চাক্ষুষ প্রমাণ তো শ্বেতাঙ্গ এবারের বর্বরোচিত ঘটনা।
এই একবিংশ শতাব্দিতেও শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারের হাঁটুর নীচে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকের গলা চাপা পড়ে আছে - পৃথিবীর তাবৎ মানুষের কাছে এখন এটাই তো নতুন বর্ণবাদী আমেরিকার ছবি। সুতরাং, অভিশপ্ত বর্ণবাদকে না হটিয়ে?হুমকি-ধামকিতে আর কাজ হবে বলে মনে হয় না। আমেরিকার বর্তমান আগুন পরিস্থিতি তা-ই বলে।